২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

সারাদেশে প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা প্রয়োজন

প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৯
  • রোগীর ব্যথাহীন মৃত্যু নিশ্চিত করা বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অভিমত

নিখিল মানখিন ॥ ব্যয়বহুল হওয়ায় দেশে বৃহৎ পরিসরে পূর্ণাঙ্গ প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পাইলট প্রকল্প হিসেবে সীমিত পরিসরে দেশের একমাত্র প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার চালু রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টারের অভাবে পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ মারা যায়। এর মধ্যে সাড়ে তিন কোটি মানুষের মৃত্যুপূর্ব ব্যথামুক্তি এবং অন্যান্য চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন পড়ে। বিশ্বব্যাপী বছরে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের জীবনের শেষ দিনগুলোয় প্যালিয়েটিভ কেয়ারের প্রয়োজন হয়। এই চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশেরও কম পূরণ করা সম্ভব হয়। বাংলাদেশে বছরের যে কোন সময় প্রায় ৬ লাখ মানুষের এই প্রশমন সেবার প্রয়োজন। প্যালিয়েটিভ কেয়ারের প্রাপ্যতার বিচারে পৃথিবীর ৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৯তম। প্রশিক্ষণমূলক সেবা ও সহযোগিতা দিয়ে এ ধরনের রোগীর ব্যথাহীন মৃত্যু নিশ্চিত করা সম্ভব। রোগীর মৃত্যুপূর্ব যন্ত্রণা প্রশমনে তাই সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসা উচিত।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, প্যালিয়েটিভ কেয়ার হ্রাস করতে পারে নিরাময়-অযোগ্য রোগে আক্রান্ত অন্তিমশয্যার রোগীদের শারীরিক বেদনা। জোগাতে পারে মানসিক সমর্থন, স্বস্তি, বাস্তবকে মেনে নেয়ার শক্তি ও আধ্যাত্মিক শান্তি। উপাচার্য বলেন, প্যালিয়েটিভ কেয়ার স্বাস্থ্যসেবা এমন একটি ক্ষেত্র, যার প্রয়োজনীয়তা বর্তমান বছরগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এটি এমন একটি উদ্যোগ যা জীবনসংশয়ী রোগে আক্রান্ত রোগী ও তাদের পরিবারের জীবনের মানোন্নয়ন করা, যা প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং দক্ষ নির্ণয়ের মাধ্যমে ব্যথা ও অন্য উপসর্গের চিকিৎসা এবং শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে। উপাচার্য বলেন, প্যালিয়েটিভ কেয়ার রোগী এবং রোগীর পরিবারের ব্যথা নিরাময়, উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ, মানসিক ও সামাজিক সহায়তা প্রদানে জোর দিয়ে থাকে। এটি বিভিন্ন ধরনের রোগের শেষ পর্যায়ে যেমন, হৃৎপি-, ফুসফুস, বৃক্ক, যকৃত ও ক্যান্সার রোগীদের কষ্ট হতে মুক্তিদানে মূল ভূমিকা পালন করে থাকে।

প্যালিয়েটিভ সেবার প্রয়োজনীয়তা ও করণীয় তুলে ধরে প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ নিজামউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর মাধ্যমে হাতেকলমে শেখানো হবে প্রান্তিক রোগীদের ব্যথা ও অন্য উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ, উপর্যুক্ত কথোপকথন এবং সার্বিক সেবার বিভিন্ন বিষয়। চিকিৎসাসেবা কর্মীরা নিরাময় অযোগ্য রোগীদের যে গভীর কষ্ট এবং দুর্দশা পর্যবেক্ষণ করেন, তার যথাযথ যতœ নেয়া প্রয়োজন। আশা করি, তাদের দক্ষতা শুধু ব্যথা কমানো নয়, বরং এর গভীরে কী হচ্ছে, কিভাবে তা বর্ণনা করতে হবে এবং রোগী ও তার পরিবারকে কিভাবে আশা জোগাতে হবে সেক্ষেত্রেও দক্ষতা বাড়ানো দরকার। তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় চরম আরোগ্য-নির্ভরতার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন আশার সম্ভাবনা নিয়েই এগিয়ে এসেছে ‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার’ বা ‘প্রশমন সেবা’র দর্শন। যখন কোন রোগীর রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয়, তখন তার রোগ সংক্রান্ত উপসর্গগুলো নিরাময় বা সুরাহা করাকে প্যালিয়েটিভ কেয়ার বলে। সমাজসেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি যথাযথ সম্মিলনে কতিপয় উন্নয়নশীল দেশে যে ‘কমিউনিটি প্যালিয়েটিভ কেয়ার’-এর ধারণা গড়ে উঠেছে, তা বাংলাদেশেও বহু পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৯

১৯/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: