২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

স্বপ্নের অপমৃত্যু


প্রত্যেকেই জন্মের পর মানুষ থাকে। বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের দৈহিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। তবে মানুষ পরিচয় কখনও মুছে যায় না। এক সময় এদেশে নারীদের পর্দার আড়ালে জীবন-যাপন করতে হয়েছে। শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে অন্ধকারে তাদের থাকতে হয়েছিল। নিজেদের অধিকার আদায় ও বাস্তবায়নে নারী এখন যুগধর্মে কিন্তু শৃঙ্খল বন্ধন থেকে বেরিয়ে এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সারা বিশ্বে একটি রোল মডেল। পুরুষের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন দেশের প্রতিটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে চোখে পড়ার মতো। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের সাফল্যকেও ছাড়িয়ে যায়। এতকিছুর মাঝেও পরিবারে, সমাজে ও দেশে এমন কিছু নরপিশাচ ও নরকীট বাস করে যারা নারীর নারীত্বের সম্মান ক্ষুণœ করে নিজেদের পশুর সমতুল্য প্রমাণ দিতে দ্বিধাবোধ করে না। এ রকম কীট সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এমনভাবে বাসা বেঁধে রয়েছে যে সময় সুযোগ পেলেই নারীর ওপর চালায় পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ। নারীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটায়।

এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও নারীর অসহায়ত্ব ও ধর্ষণের চিত্র আমাদের দেখতে হয়। মিডিয়ার কারণে কিছু কিছু ঘটনা জনসন্মুখে আসে কিন্তু এরকম আরও কত ঘটনা যে দেশের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত ঘটছে তা জানা যায় না। প্রতিদিনের সংবাদপত্র খুললেই নারী নির্যাতনের খবর আমাদের পুরুষশাসিত সমাজকে ধিক্কার জানায়। নির্যাতনের মাত্রা সইতে না পেরে অনেক নারীকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হচ্ছে। আবার অনেক সময় নারী পুরুষের নির্যাতন সহ্য করার পরেও পরিবার, সমাজ ও আইনের ঘেরাটোপে আবার নির্যাতনের শিকার হয়। ভারতের দিল্লীতে চলন্ত বাসে ধর্ষিত নির্ভয়া ও বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জের রূপা আজ একই কাতারে এসে মিলিত হয়েছে। ওরা দু’জনই আমাদের বোন। দু’জনই বাঁচতে চেয়েছিল। পুরুষের লোলুপতা ওদের ছিন্ন-ভিন্ন করেছে। বাঁচতে দেয়নি ওদের স্বপ্নকে। বছরের পর বছর তিলে তিলে গড়ে তোলা স্বপ্ন নিমিষেই ধ্বংস করে দিয়েছে। নির্ভয়া ও রূপার হাজারো কাকুতি-মিনতি ধর্ষকরা শুনেনি। বরং মানবিকতাকে পায়ে দলিত করে নির্ভয়া ও রূপাকে হত্যা করেছে। ভাবলেই গা শিউরে ওঠে। নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের জন্য আমরাই দায়ী। কারণ এই পুরুষ মুখোশধারী ধর্ষকরা আমাদের এই সমাজেই বাস করে।

বিবেক মানুষকে সুপথে পরিচালনা করে। কিন্তু এই বিবেক যখন একজনের ভিতরে নির্জীব থাকে তখন মানুষ আর পশুর মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। বিবেকের বিসর্জন যখন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও দেশের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় তখন ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটবেই। নারীকে অনেকেই নারী হিসেবে দেখে না বরং ভোগ্য পণ্য হিসাবেই শুধু দেখে। চলন্ত বাসে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা নিয়ে কয়েকদিন যাবত বেশ মাতামাতি চলে; তারপর সব আগের মতো।

বনানী, ঢাকা থেকে