২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কৃষিতে প্রযুক্তি ও সৌরশক্তি


ভাসমান পদ্ধতিতে রকমারি শাকসবজি চাষাবাদের বিষয়টি পুরনো, বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে। বর্ষার শেষে এসব অঞ্চলে চাষাবাদের ক্ষেত যখন তলিয়ে যায় পানিতে তখন স্থানীয় কৃষক হাত গুটিয়ে বসে না থেকে শুরু করেন ভাসমান পদ্ধতিতে শাকসবজির আবাদ। ফলনও বেশ ভাল হয়; যা সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর। পাশাপাশি কৃষকের আয়ের পথও সুগম হয়। এই পদ্ধতিটিই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর আনুকূল্যে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সারাদেশে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি, উন্নতমানের বীজ, জৈবসার ও সৌরশক্তি। ফলে উৎপাদনও বাড়ছে বহুগুণ। কৃষিকাজে সৌরশক্তি ও পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে অন্যত্রও। বিশেষ করে ভূগর্ভের পানির অপচয় রোধে প্রচলিত সেচ ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে সৌরশক্তি ও পানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তির প্রয়োগ হচ্ছে। এ নিয়ে সরকার একটি প্রকল্পও নিয়েছে। যার আওতায় ১০০ উপজেলায় ১০০ সৌরশক্তিচালিত সেচপাম্প বসানো হচ্ছে। প্রচলিত সনাতন পদ্ধতিতে বিশেষ করে ধান চাষে প্রচুর পানির অপচয় হয়ে থাকে। যা ভূগর্ভসহ ও উপরিভাগের পানির স্তর কমিয়ে দেয়। সেক্ষেত্রে সৌরশক্তিচালিত সেচ পাম্পের সাহায্যে ক্ষেতের নিচ দিয়ে পাইপের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হবে; বিধায় অপচয় হবে না। তদুপরি ধানবীজ বপন থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত কখন, কতটুকু সেচের প্রয়োজন পড়বে তাও জানা যাবে প্রযুক্তির সহায়তায়। এতে আমূল পরিবর্তন আসবে চাষাবাদে।

আজকাল জমি কিংবা জলাশয়ের ধারে কৃষক-কৃষাণী ল্যাপটপ নিয়ে বসে সরাসরি কথা বলেন কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরামর্শকের সঙ্গে। এর মাধ্যমে একেবারে বীজতলা থেকে শুরু করে সার, সেচ, কীটনাশক, আবহাওয়া, জলবায়ু, ফসল উৎপাদন, বাজার পরিস্থিতিসহ অন্যবিধ সমস্যা নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময়, পরামর্শ ও প্রতিকারের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে তাৎক্ষণিকভাবে। এর অনিবার্য ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি ব্যবস্থাপনায়, সুফল পাচ্ছে কৃষক, সর্বোপরি বাড়ছে ফসল উৎপাদন। তার মানে ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থা দেশের কৃষিতে প্রায় বিপ্লব নিয়ে এসেছে। আবহমানকাল ধরে প্রচলিত গবাদিপশুচালিত লাঙল-জোয়ালের দিন শেষ হয়েছে অনেক আগেই। হাইব্রিড বীজ, জিএম বীজসহ আধুনিক চাষবাস পদ্ধতি ফসল, শাকসবজি, মৎস্য, পোল্ট্রি, ফলপাকড়ের উৎপাদন বাড়িয়েছে বহুগুণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি; সৌরশক্তি ও পানিসাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থা।

বগুড়ার সান্তাহারে নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম সৌরশক্তিচালিত অত্যাধুনিক বহুতলবিশিষ্ট খাদ্যগুদাম। ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গুদামের ধারণক্ষমতা ২৫ হাজার টন। সরকারের পাশাপাশি এতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে জাইকা। অত্যাধুনিক সাইলোটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে শুধু খাদ্যশস্য নয় বরং শাকসবজি, ফলমূলসহ অন্যান্য উদ্বৃত্ত কৃষিপণ্যও সংরক্ষণ করা যায়। বর্তমানে দেশে যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে ধান ও চাল উদ্বৃত্ত থেকে যাচ্ছে প্রতিবছর। সেক্ষেত্রে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক খাদ্যগুদামের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

বিশ্বে চাল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, মাছ উৎপাদনে চতুর্থ, ফল উৎপাদনে সপ্তম। উন্নতমানের প্রযুক্তি, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ইত্যাদি ব্যবহার করে এই উৎপাদন আরও বাড়ানো যায়। এখন নজর দেয়া দরকার বিভিন্ন ও বহুমুখী খাদ্যশস্য উৎপাদন এবং সংরক্ষণে। সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো সব মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। গমের ঘাটতি এখনও আছে। পাশাপাশি ডাল, তেলবীজ, ডিম, মাংস, দুধ, মাছ, মসলা উৎপাদনেও ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া বাঞ্ছনীয়। মনে রাখতে হবে, শুধু ভাতে পেট ভরে বটে, তবে পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় না। গত কয়েক বছরে শাকসবজি, ফলমূল উৎপাদন বাড়লেও মাছ, দুধ-মাংস জাতীয় খাদ্য অর্থাৎ প্রোটিনের বিপুল ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে। এদিকে সবিশেষ ও সমন্বিত দৃষ্টি দিতে হবে কৃষি, খাদ্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে।