১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

১১ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চৌদ্দ দলের সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিরোধ সমাবেশ


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তরাঁয় সন্ত্রাসী হামলাসহ সারাদেশে গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের পর ধারাবাহিক কর্মসূচী নিয়ে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। আগামী ১১ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৪ দলের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ সমাবেশ কর্মসূচী পালন করা হবে। একই সঙ্গে ১২-২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারাদেশে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া আগামী ২৪ জুলাই থেকে সাত দিনব্যাপী সারাদেশে গ্রামে গ্রামে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচী পালন করবে ১৪ দল।

রবিবার দুপুরে ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় দলের বৈঠক শেষে এসব কর্মসূচী ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। ১৪ দল গৃহীত সকল কর্মসূচীতে কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলকে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ভয়কে জয় করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দানবীয় শক্তিকে দমন করা হবে। কোন দানবীয় শক্তির কাছে মানবতার শক্তি পরাজিত হতে পারে না।

গুলশানের ওই হামলার সঙ্গে কারা জড়িত থাকতে পারেÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কমান্ডো অভিযানে যে ছয় সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে, তারা সবাই? এখানকার লোক এবং এখানকার সন্তান। কারা এর সঙ্গে জড়িত তা আপনারাও বুঝতে পারছেন। প্রশিক্ষিত শিবির ক্যাডাররাই এ ঘটনা ঘটাচ্ছে। আসলে জনগণকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু এসব করে কোন কাজ হবে না। তিনি বলেন, সফল অপারেশনের পর প্রধানমন্ত্রী তার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে কাউকে আক্রমণ করেননি, সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অথচ এ ঘটনাকে দুঃশাসনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে রক্তাক্ত অভ্যুত্থান অভিহিত করেছেন খালেদা জিয়া। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া প্রকারান্তরে খুনীদের পক্ষ অবলম্বন করেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেই সময় দেশী-বিদেশী শক্তি শেখ হাসিনার উত্থানকে ঠেকাতে নারকীয় হত্যাকা-ে মেতে উঠেছে। তারা দেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চায়। সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে বিএনপিকে সঙ্গে রাখা হবে কিনাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি তো এখনও একাত্তরের ঘাতক জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কই ছেদ করেনি। আগে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করুক, তারপর দেখব। অপর এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অবশ্যই দেশের মানুষ নিরাপদ আছে। দেশে এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা বলে কিছু নেই। আমরা জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করতেই ঈদের পর ধারাবাহিক কর্মসূচী ঘোষণা করেছি। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে। জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে। নির্ঘুম রাতযাপন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্যও তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। এছাড়াও সে দিনের সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান, ভারত ও ইতালির প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকল দেশের প্রতিও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

খালেদা জিয়ার বিবৃতির সমালোচনা করে মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন, উনি বলেছেন বিএনপিকে অভিযুক্ত করে ব্লেম গেম খেলতে সরকার জঙ্গীদের স্বাস্থ্যবর্ধন করছেনÑ এটা কোন বিবৃতির ভাষা হলো? এ বক্তব্যের মধ্য দিয়েই তার (খালেদা জিয়া) খুনীদের পক্ষাবলম্বনই প্রকাশ পেয়েছে। বৈঠকের শুরুতে গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া সফল উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া সংশ্লিষ্ট সকল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকেও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। পাশাপাশি নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গের প্রতিও সহমর্মিতা জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের কথা বলছেন, অন্যদিকে বিএনপিও আলোচনার কথা বলেছে, তাহলে কি সময় এসেছে আলোচনার? প্রেস ব্রিফিং শেষে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপি আলোচনার কথা বলছে ঠিকই। কিন্তু বিএনপি নেত্রী বিবৃতিতে জঙ্গীদের নিন্দার চেয়েও বেশি নিন্দা ছিল সরকারের। যেখানে তারা অভিযুক্ত করছে সরকারকে, কিন্তু সরকার তো জঙ্গীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি একেকটা ঘটনা ঘটার পরে পল্টনের কার্যালয়ে বসে অন্য কোন কাজ না করে সরকারকে দোষারোপ করছে এবং সন্ত্রাসীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মেনন বলেন, বাংলাদেশে যতগুলো সন্ত্রাসী কর্মকা- ঘটেছে, তার কারণ খুঁজে পেতে গিয়ে জামায়াত ও শিবিরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আর এ পর্যন্ত গুপ্তহত্যার ঘটনায় যারা আটক হয়েছে জবানবন্দীতে বলছে, তারা কোন না কোন সময় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। তিনি বলেন, আমরা এটা বলতে পারি জামায়াত-শিবির বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা- করছে। যখন কোন দল মরিয়াভাবে সরকারবিরোধী কর্মকা- করে তখন দেশে এ ধরনের কর্মকা- হয়। আপনারা জানেন, যখন মীর কাশেম আলীর রায় কার্যকর অপেক্ষমাণ তখন এ ধরনের কর্মকা- হচ্ছে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশে আইএস নেই, কিন্তু আইএসের চিন্তার অনুগামী বহুলোক এ দেশে থাকতে পারে এবং আছে।

মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেনÑ জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সাহারা খাতুন, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মৃণাল কান্তি দাস, আফজাল হোসেন, বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, ফরিদুন্নাহার লাইলী, সুজিত রায় নন্দী, এস এম কামাল হোসেন, জাসদের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, জাসদের (একাংশ) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডাঃ ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণতন্ত্রী পার্টির শাহাদাত হোসেন, নূরুর রহমান সেলিম, তরিকত ফেডারেশনের এম এ আউয়াল, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, এনামুল হক, গণআজাদী লীগের এস কে শিকদার প্রমুখ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: