১১ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

আমরা সামনে এগোচ্ছি, পেছন তাকাতে চাই না ॥ ওবামা


জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ হাভানায় ঐতিহাসিক সফরে যাওয়ার একদিন পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, উভয় পক্ষের মধ্যে অব্যাহত মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দ্বীপ দেশটিতে শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন আসবে। বাকস্বাধীনতার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সুচিত হয়েছে- এ কথা প্রমাণ করতে উভয় নেতা সাংবাদিকদের কাছ থেকে প্রশ্ন আহ্বান করেন। কমিউনিস্ট দেশটিতে সংবাদমাধ্যম পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকায় এ ঘটনা নজিরবিহীন। সিএনএনের জিম এ্যাকোস্টার মানবাধিকার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ওবামা বলেন, আমাদের মধ্যে কয়েক দশক ধরে অনেক মতপার্থক্য ছিল। তিনি আরও বলেন, আমি রাউল ক্যাস্ট্রোকে বলেছি যে, আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি, পেছন ফিরে তাকাতে চাই না।

ওবামা বলেন, আমরা যা বিশ্বাস করি, সেই মৌলিক নীতিমালার প্রশ্নে আমরা জোরালো অবস্থান অব্যাহত রাখব। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা বিশ্বাস করি বাকস্বাধীনতা, জনগণের সমবেত হওয়ার স্বাধীনতায়। এগুলো কেবল মার্কিন মূল্যবোধ নয়, এগুলো সর্বজনীন। পুরনো হাভানার প্যালেস অব দ্য রেভোল্যুশনে প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে এক ঘণ্টা বৈঠকের পর ওবামা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। রাউল ক্যাস্ট্রো বলেন, কিউবার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। ওবামার সঙ্গে বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে রাউল বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলে অনেক কিছু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, মার্কিন প্রশাসনের গৃহীত সম্প্রতি পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক হলেও তা অপর্যাপ্ত। তিনি গুয়ানতানামো বে নেভাল স্টেশন কিউবার কাছে ফেরত দেয়ার আহ্বান জানান। খবর সিএনএন ও বিবিসি অনলাইনের।

পুরোনো হাভানায় প্যালেস অব রেভোল্যুশনে সোমবার বৈঠক শুরুর আগে ওবামার সঙ্গে হাত মেলান রাউল ক্যাস্ট্রো। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ান দুই নেতা। এরপর সামরিক ব্যান্ডে বাজে কিউবা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত। এরপর গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন ওবামা ও রাউল।

২০১৪ সালে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে চালু হওয়ার পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন দুই নেতা।

সোমবার কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে বৈঠকে বসার আগেই ওবামা দেশটিতে পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ পরিবর্তন সহসা হবে না। কিউবায় ওবামা-রাউল ক্যাস্ট্রোর এ বৈঠক তাদের মধ্যকার তৃতীয় বৈঠক হলেও এবারের বৈঠকটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালানোর সঙ্গে সঙ্গে দুই নেতার মধ্যে গভীর মতবিভেদের কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনাও রয়েছে। ১৯৫৯ সালে কমিউনিস্ট ফিদেল ক্যাস্ট্রোর নেতৃত্বে সংঘটিত বিপ্লবে কিউবার যুক্তরাষ্ট্রপন্থী সরকারের পতন হলে দু’দেশের মধ্যে শত্রুতার সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে প্রতিবেশী দেশ দুটি। এরপর কিউবার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র যা ৫৪ বছর ধরে বলবৎ ছিল।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: