১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

জাতির কাছে খালেদা কী জবাব দেবেন ॥ প্রধানমন্ত্রী


জাতির কাছে খালেদা কী জবাব দেবেন ॥ প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাত্তরের যেসব গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীকে খালেদা জিয়া মন্ত্রী বানিয়ে সম্মান দিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ আদালতের বিচারের রায়ে তাদের মৃত্যুদ- হয়েছে, ফাঁসির রায়ও কার্যকর হয়েছে। এখন খালেদা জিয়া জাতির কাছে কী জবাব দেবেন? এসব যুদ্ধাপরাধীকে মদদ ও মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়ার দায়-দায়িত্ব খালেদা জিয়াকেই নিতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের মদদ ও মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়ার দায়ে খালেদা জিয়ার বিচারও একদিন বাংলার মাটিতে হবে। পাকিস্তানের প্রেতাত্মাদের অস্তিত্ব দেশের মাটিতে থাকতে পারে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুঃখ হয় স্বাধীন দেশেও কিছু মানুষ আছেন যারা থাকেন বাংলাদেশে, স্বপ্ন দেখেন পাকিস্তানের! এরা পেয়ারে পাকিস্তানের কথা ভুলতে পারে না। এদের মন থেকে পাকিস্তানের নাম ভুলাতে হবে। স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানের দালালদের অস্তিত্ব থাকতে পারে না। আমি তাদের সাবধান করে দিতে চাই, ভবিষ্যতে আর কাউকে বাংলাদেশের মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না। আর খুনী খুনীই। খুনীদের বিচার হবেই, কেউ তাদের রক্ষা করতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্য দিয়ে দেশ অভিশাপমুক্ত হতে শুরু করেছে। যতই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি, ততই দেশ অভিশাপমুক্ত হচ্ছে, সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডাঃ দীপু মনি, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম ও কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক শামীম। ড. হাছান মাহমুদ ও অসীম কুমার উকিলের পরিচালনায় সভার শুরুতেই একাত্তরের বীর শহীদের প্রতি সম্মান জানাতে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরাবতা পালন করা হয়।

পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতাদের কিছু মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ কাদের মুখ থেকে গণতন্ত্রের কথা শুনি! অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সেই অবৈধ স্বৈরশাসকের হাতে অবৈধভাবে যে দলের (বিএনপি) জন্ম, তাদের মুখেই আজ গণতন্ত্রের কথা শুনতে হচ্ছে। আমার প্রশ্নÑ তারা কোন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দল গঠন করেছিল? আসলে তারা গণতন্ত্রের সংজ্ঞা জানে কি না, গণতন্ত্র শুদ্ধ করে বানান করতে পারবে কি নাÑ সে ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পাঁচ বছরের দুঃশাসন ও সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা মানুষ খুন করেছে, এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে, মানিলন্ডারিং করেছে। কত খেলা দেখিয়েছে। সেই তাদের মুখ থেকে আজ গণতন্ত্রের কথা শুনতে হয়।

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মামলা-মামলা করে চিল্লালে হবে না। খুনী-খুনীই। খুনীদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। কেউ তাদের রক্ষা করতে পারবে না। মামলা হয়েছে পেট্রোলবোমা মেরে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করার জন্য, আগুন দিয়ে বাস, রেলসহ জাতীয় সম্পদ ধবংস করার জন্য। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, যারা মানুষ হত্যাকারী, যারা হুকুমদাতা, অর্থদাতা তাদের সকলেরই বিচার হবে। তারা মানুষ হত্যা করেছে, এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে, বিদেশে টাকা পাচার করেছে, জাতীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে। তাদের বিচার হবে না, এটা হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসন করেছিল জিয়াউর রহমান। তারই ধারাবাহিকতায় যুদ্ধাপধীরদের মন্ত্রী বানিয়ে সম্মান দিয়েছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। যুদ্ধাপরাধীর গাড়িতে লাখো শহীদের রক্তে ভেজা পতাকা তুলে দিয়েছিল। আজকে যখন সেই যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে, ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। তিনি বলেন, যারা মানুষ হত্যা করেছে, ক্ষমতায় থেকে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে জজ মিয়ার নাটক করেছে, বিদেশে টাকা পাচার করে তাদের বিচার হবেই। কেউ-ই তাদের রক্ষা করতে পারবে না।

বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫’র সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর জিয়া-এরশাদ যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই অবৈধ সরকার। এটা দেশের হাইকোর্ট রায় দিয়েছে। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছেÑ জিয়াউর রহমান ও এরশাদের ক্ষমতা দখল ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ ও অসাংবিধানিক। তাই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দাবি করতে পারেন না। এটা দেশবাসীকে ভুলে গেলে চলবে না। বিশেষ করে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করেন, উচ্চ আদালতের রায়কে যারা সম্মান করেন।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দখল করে দল গঠন করে, তাদের সৃষ্ট দলও তো অবৈধ। দুঃখ লাগে অবৈধভাবে জন্ম নেয়া দল থেকেই আমাদের গণতন্ত্র-নির্বাচনের কথা শুনতে হয়। যে দলটির জন্মই অবৈধভাবে, আগে ক্ষমতা দখল পরে দল গঠনÑ সেই দলের নেতারা আমাদের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা শিখান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে, যাতে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়Ñ সেটাই ছিল জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার লক্ষ্য। সেটাই তারা করেছিলেন। ’৭৫ থেকে ’৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সেই ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকেই যাচ্ছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশকে মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছে।

এবার বিজয় দিবসে কোটি মানুষের ঢল নামার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ ডিসেম্বরÑ সারাদেশে এবার অন্যরকম আনন্দে বিজয় দিবস উদ্যাপন হয়েছে। এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে। বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি থাকতে পারেননি, ঘাতকের বুলেটে আমরা তাঁকে হারিয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আমাদের চির জাগ্রত করে রাখতে হবে। আমরা বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবোই।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: