২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

৯২ দিন নাশকতা চালিয়ে খালেদা ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করেছেন ॥ তোফায়েল


নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোলা, ৪ সেপ্টেম্বর ॥ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ অভিযোগ করে বলেছেন, খালেদা জিয়া অহেতুক ৯২ দিন সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গী তৎপরতা চালিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করেছেন। বিশ্বে আমাদের সুনাম ক্ষুণœ করেছেন এবং অনেক মানুষের জীবন ছিনিয়ে নিয়েছেন। তিনি শূন্য হাতে ঘরে ফিরে গেছেন। কিন্তু অনেক মা ছেলে হারা হয়েছেন। অনেক বোন তার স্বামীকে হারিয়েছেন। নিষ্পাপ শিশু পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। এখন তিনি উপলব্ধি করেছেন, সন্ত্রাস নাশকতা রাজনীতির পথ নয়। তাই এখন তিনি নীরব হয়ে আছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি লুটপাট আর সন্ত্রাসের রাজনীতি করে, কিন্তু আ’লীগ প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি বিশ্বাস করে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, ভোলায় নদীভাঙ্গন রোধে নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে পাঁচ শ’ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ভোলায় ইলিশা থেকে দৌলতখান পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার কাজ হবে। এই কাজ বাস্তবায়ন হলে চিরদিনের জন্য ভোলা নদীভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। সেই পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছি। তিনি আরও বলেন, একনেকের মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নদীভাঙ্গন রোধে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য বলেছেন। সেই পরিকল্পনার আওতায়ই আমরা ভোলাকে রক্ষার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় ভোলায় বন্যার পানির তোরে ইলিশা রাজাপুরে নদীভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারা ৬শ’ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ ৫ হাজার টাকা করে মোট ৩৫ লাখ টাকা বিতরণ করেন। এ সময় নদীর ভাঙ্গনের ফলে মেঘনা নদীতে ডুবে নিহত জাহাঙ্গীরের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এর আগে তিনি ইলিশা চডার মাথা এলাকায় নদীভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ভোলায় কোন সমস্যা নেই, একটাই সমস্যা নদীভাঙ্গন। গত প্রায় এক মাসে ভাঙ্গনে ওই এলাকায় বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ভাঙ্গন রোধে ইতোমধ্যে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক ভাঙ্গন রোধ হয়েছে। নদীভাঙ্গন রোধ হলে ভোলা হবে বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমৃদ্ধিশালী জেলা।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির আমলে শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তা দিয়ে যদি ব্লক ফেলা হতো তা হলে আজ নদীভাঙ্গন থাকত না। বিএনপির আমলে পানিসম্পদমন্ত্রীর বাড়ি ছিল ভোলার লালমোহন। ৮০ কোটি টাকার ব্যাগ ফেলেছে তা এক বছরে শেষ। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভোলাকে বরিশালের সঙ্গে সংযুক্ত করব। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ করা হবে। সেই পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে যেসব উন্নয়ন ভোলায় হয়েছে তা কোন সরকার করতে পারেনি। বিএনপি ক্ষমতায় ছিল শুধু লুটপাট করেছে। আমাদের লোকজনকে মারধর করেছে, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখন ভোলা শান্ত। আমরা কোন প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না।

ত্রাণ বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মাহামুদুর রহমান, ভোলা জেলা পরিষদ প্রশাসক আবদুল মমিন টুলু, ভোলা পৌর মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আলহাজ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার, কাচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম নকিব, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার শফিকুল ইসলামসহ দলীয় নেতাকর্মীবৃন্দ। এর আগে সকালে ভোলা শিল্পকলা একাডেমিতে স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন এবং স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণায়লয় কর্তৃক আয়োজিত স্বর্ণ কিশোরী জেলা কার্যক্রম ভোলার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ শ্রেষ্ঠ স্বর্ণ কিশোরী ভোলা সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের উম্মে মনিহা মৌকে পুরস্কার প্রদান করেন।