২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিলম্ব ফি ছাড়াই চার ধাপে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি চলবে


স্টাফ রিপোর্টার ॥ কলেজে ভর্তিতে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ভোগান্তির ঘটনায় শিক্ষা সচিবের পর এবার ‘দুঃখ প্রকাশ’ করলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রবিবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভোগান্তির বিষয়টিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, বিলম্ব ফি ছাড়াই চার ধাপে আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হতে পাববে শিক্ষার্থীরা। তবে মন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুসারেই এখন পর্যন্ত এসএসসি পাস তিন লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। ভুলে ভরা তালিকার কারণে মনোনীত হলেও ভর্তি হতে পারেনি এক লাখ ৭০ হাজার। এদিকে ভোগান্তির বিষয়ে শিক্ষা সচিব বলেছেন, ‘আমি টি-টোয়েন্টি খেলে ছক্কা মারার চেষ্টা করছি। ছক্কা মারতে গেলে অনেক সময় জিরোতে আউট হয়, রানআউট হয়, সেটা হতেও পারে।’ এর আগে শনিবার দুপুরে

নিজ বাসভবনে ভর্তি কমিটির প্রধান শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আয়োজিত জরুরী বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরার কথা বলেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। ভর্র্তি নিয়ে জটিলতার মধ্যে মন্ত্রীর আদেশ সচিবের না মানা, মন্ত্রীর চুপ থাকা, বুয়েটের ব্যর্থতা, প্রতিদিনই নানা কেলেঙ্কারির কারণে সংবাদ সম্মেলনের দিকে নজর ছিল সকলের। সকাল ১০টায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেনÑ সচিব নজরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত সচিব এএস মাহমুদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সকল শিক্ষার্থীকে কলেজে ভর্তির আওতায় আনতে বিলম্ব ফি ছাড়া চার ধাপে আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি করা হবে। এই সময় বাড়তি কোন ফি লাগবে না। আমরা ২১ দিন ভর্তির সময় বাড়িয়ে দিচ্ছি। এখনও যারা ভর্তি হতে পারেনি, তারা কোন বিলম্ব ফি ছাড়াই আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে একাদশে ভর্তি হতে পারবে। চারটি ধাপে এই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে গত ২ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি শেষ হয়েছে। প্রথম ধাপে যারা পছন্দমতো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেনি অথবা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে চায় তারা দ্বিতীয় ধাপে ৬ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে। ৭ ও ৮ জুলাই তারা ভর্তি হতে পারবে। প্রথম ও দ্বিতীয় মেধা তালিকায় যারা নির্বাচিত হয়নি বা নির্বাচিত হয়েও ভর্তি হতে পারেনি তারা তৃতীয় ধাপে ৯ ও ১০ জুলাই ভর্তি হতে পারবে। এছাড়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অপশন দিয়ে আবেদনকারীদের ফল ১১ জুলাই প্রকাশ করা হবে। তারা ১২ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি হতে পারবে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, যারা অনলাইনে আবেদন করেনি বা সুযোগ পেয়েও ভর্তি হয়নি তারা চতুর্থ ধাপে সুযোগ পাবে। ১৩ থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ করে ২৩ জুলাই ফল প্রকাশ করা হবে। ওই তালিকার শিক্ষার্থীরা ২৫ ও ২৬ জুলাই ভর্তি হতে পারবে।

অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এবার অনলাইনে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির বিষয়টি বড় ও ব্যাপক। কিন্তু আমাদের প্রযুক্তিগত ক্ষমতা ও দক্ষতা সীমাবদ্ধ। তাই এ বিশদ কর্মকা-ে কিছু ত্রুটি হয়েছে। কেউ কেউ সঠিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেনি, এক কলেজের জায়গায় অন্য কলেজের নাম চলে গেছে। এমনকি ছেলেদের কলেজে মেয়েদের নাম চলে গেছে। অনেক ভুলত্রুটি হয়েছে। এ কারণে আমাদের যেসব প্রিয় শিক্ষার্থী, সম্মানিত অভিভাবক ও শ্রদ্ধেয় দেশবাসী সমস্যায় পড়েছেন তাদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের ভর্তি ব্যবস্থাকে উন্নত মানে নিয়ে যেতে আধুনিক, সহজতর ও প্রকৃতপক্ষে বিড়ম্বনামুক্ত করার লক্ষ্যে আমাদের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এখনও যারা ভর্তি হতে পারেনি, তারা কোন প্রকার বিলম্ব ফি ছাড়াই আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে একাদশে ভর্তি হতে পারবে। আমি নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে চাই, ভর্তি জটিলতার জন্য কোন শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। হয়ত একটু বিলম্ব হচ্ছে, একটু উদ্বেগ হয়েছে।

সর্বশেষ ভর্তির অবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত নয় লাখ ২৩ হাজার ১০৫ জনের ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে। এবার নতুন পদ্ধতিতে ১১ লাখ ৫৬ হাজার ২২৪ জন শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করেছে। তবে মন্ত্রীর দেয়া এ তথ্য অনুসারেই দেখা গেছে, এবার এসএসসি পাস করা তিন লাখ ৫৯ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী এখনও কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। অনলাইনে এখন পর্যন্ত আবেদনই করেনি এক লাখ ২৬ হাজার ৬১৮ জন। অনলাইনে আবেদন করেও ভর্তির জন্য মনোনীত হয়নি ৬২ হাজার ৬২৫ জন। এছাড়া দফায় দফায় তারিখ পিছিয়ে যে তালিকা সচিব প্রকাশ করেছেন তাতে অসংখ্য ভুলের খেসারত দিচ্ছে এক লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। এরা তালিকায় এলেও মন্ত্রণালয়, বোর্ড ও বুয়েটের কর্তাব্যক্তিদের ভুল তথ্য দেয়ার কারণে কলেজে ভর্তি হতে পারছে না। এই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা তাদের সমস্যা নিয়ে এখন প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘুরছেন। সচিব এই সঙ্কটের দায় নিয়েছেন, আপনি নেবেন কিনাÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই নেব। কেন নেব না। এটা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। অবশ্যই আমাদের দায়। শিক্ষা সচিব লিখিত নির্দেশনা অমান্য করে নীতিমালা জারি করায় ভর্তিতে সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে যে জোরালো অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে ‘কারও সঙ্গে বিরোধ না খোঁজার’ অনুরোধ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। সরাসরি কোন উত্তর না দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ওই সময় আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সবাই মিলেই কাজ করব, সফল হলে সবাই হব, ব্যর্থ হলেও সবাই হব। আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে অনুরোধ, আমাদের মাঝে বিরোধ খোঁজার কোন কারণ নেই।

দু’দিন আগেই ১২ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের ২৪ লাখ অভিভাবকের ভোগান্তি ও হয়রানির কথা স্বীকার করে শিক্ষা সচিব বলেছিলেন, সমস্ত দায় আমার। আমি-ই সকল শিক্ষার্থীকে একবারে এভাবে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে রবিবার প্রশ্ন করা হলে সচিব বলেন, আমি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে স্পেসিফিকালি টি-টোয়েন্টি খেলছি। শুধু টি-টোয়েন্টি না, টি-টোয়েন্টির লাস্ট ওভার খেলছি। লাস্ট ওভার খেললে লাস্টের দিকে... সঙ্গে পরামর্শ করে। সুতরাং পরামর্শ করে টিম স্পিরিট নিয়ে ডেফিনেটলি কাজ করছি। শিক্ষা সচিব আরও বলেন, ছক্কা মারার চেষ্টা করছি, ছক্কা মারতে গেলে অনেক সময়... আউট হয়, সেটা হতে পারে।

এদিকে ‘আমি টি-টোয়েন্টি খেলছি, ছক্কা মারার চেষ্টা করছি’Ñ সচিবের এমন বক্তব্যের পর থেকেই ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ও পত্রিকা অফিসে ফোন করে কড়া সমালোচনা করছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। বিজ্ঞান কলেজে বাণিজ্যের তালিকায় নাম ঠুকে দেয়া এক ছাত্রের অভিভাবক টিপু সুলতান বলছিলেন, ১২ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের মা-বাবাকে নিয়ে এভাবে টি-টোয়েন্টি খেলার অধিকার সচিব সাহেবকে কে দিয়েছে? রবিবার ঢাকা বোর্ডে গিয়ে তালিকার ভুলের বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন অনেকে। তাদের একজন রুমানা আক্তার বলছিলেন, আমার মনে হয় না মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কোনকিছুতে ভালভাবে প্রস্তুতি না নিয়ে হুট করে করা ঠিক না। আমাদের নিয়ে টি-টোয়েন্টি খেলছেন তারা। এরচেয়ে খারাপ দৃষ্টান্ত আর হতে পারে না। ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেও তালিকায় ভুলের কারণে এখনও নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেনি অনেকে। অভিভাবকরা চেষ্টা করছেন। চেষ্টা করছেন অধ্যক্ষও। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেছে, ওনাদের (মন্ত্রী ও সচিব) ভাব দেখলে মনে হয়, দু-এক লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে সমস্যায় পড়লেও কিছু আসে যায় না। হাসান আরেফিন নামে এক অভিভাবক তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘হায়রে বাঙ্গালী!!!!! ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন নিয়েও তোরা ঞ২০ খেলিস! এই সব মূর্খ সচিব দিয়ে দেশের উন্নতি কখনই সম্ভব না। ছি!’

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: