২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আইটি সংবাদ


আইটি সংবাদ

হাতের ইশারায় চলবে কম্পিউটার, হয়ত বিষয়টা বিস্ময়ের। কিন্তু বিজ্ঞান মানেই তো একটা বিস্ময়। হ্যাঁ, এবার কম্পিউটার কমান্ড ফলো করবে হাতের ইশারায়। এমনটিই বলছেন বিখ্যাত ইন্টারফেস ডিজাইনার জন আন্ডারকফলার।

কম্পিউটার যখন আবিষ্কার হয় তখন তা চলত টেক্সভিত্তিক কমান্ড দিয়ে। অর্থাৎ টেক্সট লিখে লিখে চালনা করতে হতো। সে সময় ইউজার ইন্টারফেস বলতে কোন গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস ছিল না। এরপর এলো গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস। শুধু কীবোর্ড কমান্ড দিয়ে কাজ চালনা করতে হতো। এরপর এলো মাউসের পালা। দীর্ঘদিন মাউস ও কীবোর্ড দিয়েই কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করা হতো, যা এখন পর্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু এখন তো মাউসের ব্যবহারও ফুরিয়ে যাওয়ার পথে। কারণ টাচস্ক্রিনের ব্যবহার খুব নিত্য-স্বাভাবিক একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার হাতের ইশারায় চালিত ইউজার ইন্টারফেস নিয়ে মেতেছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি এমন একটি ইউজার ইন্টারফেসের প্রোটোটাইপ দেখিয়েছেন অবলং ইন্ডাস্ট্রিজের (ঙনষড়হম রহফঁংঃৎরবং) প্রধান বিজ্ঞানী বিখ্যাত ইন্টারফেস ডিজাইনার জন আন্ডারকফলার। এই প্রজেক্টের কাজ সফল হলে খুব শিগগিরই বদলে যাবে কম্পিউটারকে কমান্ড দেয়ার রীতি। কম্পিউটারকে কমান্ড দেয়া যাবে ইশারায় এবং সঙ্গে সঙ্গে সে অনুযায়ী কাজ হবে।

স্যাফায়ার স্ক্রিন ব্যর্থতার রহস্য

আইফোন ৬-এর যে স্যাফায়ার স্ক্রিন নিয়ে বিশাল তোলপাড়, শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ সেই প্রকল্প। আইফোনে স্যাফায়ার স্ক্রিন অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কয়েক বছরে একশ’ কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছিল টেক জায়ান্ট এ্যাপল। এই ‘স্ক্র্যাচপ্রুফ’ স্ক্রিনের বদৌলতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠাগুলোর থেকে অনেকটাই এগিয়ে যেত প্রতিষ্ঠানটি।

নতুন দুই আইফোনে স্যাফায়ার স্ক্রিন তো নেই-ই, এমনকি আইফোন ৬ এবং ৬ প্লাস উন্মোচনের এক মাসের মধ্যে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে নিউ হ্যাম্পশায়ারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জিটি এ্যাডভান্সড টেকনোলজিস। স্বল্প খরচে বাণিজ্যিক প্রকল্পে স্যাফায়ার স্ক্রিন সরবরাহ করার জন্য এ্যাপলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল প্রতিষ্ঠানটি।

স্যাফায়ার স্ক্রিন নিয়ে এই বিপর্যয়ের ব্যাপারে এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ম্যাশএবল ডটকম। বিলাসবহুল ঘড়ির কাচ তৈরিতে স্যাফায়ার ব্যবহার হয়ে আসছে অনেকদিন ধরেই। এ্যাপল ডিভাইসের ক্যামেরা ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্কানারেও স্যাফায়ার ব্যবহৃত হচ্ছে ২০১৩ থেকে। তবে একটি স্মার্টফোনের স্ক্রিন হিসেবে ব্যবহারযোগ্য আকারের স্যাফায়ার তৈরির খরচ প্রচলিত স্ক্রিনের চেয়ে ১০ গুণ বেশি।

তবে যন্ত্রপাতির আকার বাড়িয়ে এবং সিলিন্ডার আকৃতির স্যাফায়ার ক্রিস্টাল তৈরির মাধ্যমে বড় সাইজের স্যাফায়ার তৈরির খরচ কমিয়ে আনা যাবে দুই-তৃতীয়াংশ, ২০১৩ সালে এমনটাই দাবি করে জিটি। সিলিন্ডার আকৃতির এই ক্রিস্টালগুলোর নাম দেয়া হয় বোল, যা সাধারণ স্যাফায়ার ক্রিস্টালের তুলনায় ছিল দ্বিগুণ বড়।

নিজেদের ডিভাইসের জন্য প্রয়োজনীয় স্যাফায়ার স্ক্রিনের চাহিদা মেটাতে প্রাথমিক অবস্থায় জিটির কাছ থেকে স্যাফায়ার প্রস্তুতকারক চুল্লী কেনার চুক্তি করে এ্যাপল। তবে ছয় মাস পরে ওই চুক্তির শর্তাবলীতে বড় পরিবর্তন আনে এ্যাপল, সরাসরি স্যাফায়ারই কিনতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। আর এ্যাপলের চাহিদা এতই বড় ছিল যে, নতুন ফ্যাক্টরির প্রয়োজন পরে জিটির। প্রতিষ্ঠানটি এ্যাপলের চাহিদা অনুযায়ী স্যাফায়ার ডিসপ্লে তৈরি করতে পারলে বিশ্বে স্যাফায়ার স্ক্রিন উৎপাদনের হার একলাফে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যেত। কিন্তু জিটি নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করার জন্য আদালতে আবেদন করার পর আদালতে এ্যাপলের বক্তব্য, ‘পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যবহারযোগ্য স্যাফায়ার সরবরাহ করতে পারেনি জিটি।’ স্যাফায়ার বোল প্রস্তুত করতে প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। তবে জিটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ্যাপলের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন কাজ চলছিল নির্মাণাধীন ফ্যাক্টরিতে। এতে স্যাফায়ারের গুণগত মানে প্রভাব পড়ছিল। এছাড়াও প্রয়োজন ছিল পানি ও বিদুত্যের বিরতিহীন সরবরাহ। কিন্তু উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য বিকল্প বিদ্যুত ব্যবস্থা না রাখার সিদ্ধান্ত নেয় এ্যাপল। ফলে বিদ্যুত বিভ্রাটের কারণে নষ্ট হয়ে যায় স্যাফায়ারের পুরো ব্যাচ। সমস্যা এখানেই শেষ নয়। চুল্লিতে একটি স্যাফায়ার বোল তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় একমাস। ইয়োল ডেভেলপমেন্টসের স্যাফায়ার ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞ এরিক ভিরে জানান, ‘প্রস্তুতকালে চুল্লির মধ্যে স্যাফায়ার ঠিকমতো তৈরি হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার কোনো উপায় নেই। প্রস্তুতপ্রণালীতে কোন গোলমাল হলেও তা জানা যাবে একমাস পর চুল্লি খোলার পর। এমনকি কোনো গোলমাল ধরতে পারলে এবং সমাধান করার চেষ্টা করলেও আসলেই সমাধান হয়েছে কিনা তা-ও জানা যাবে প্রস্তুতপ্রক্রিয়ার শেষে।’ প্রস্তুত প্রক্রিয়া শেষে স্যাফায়ার বোল কাটা ও পলিশ করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিও ছিল এ্যাপলের পছন্দের। কিন্তু প্রয়োজনমতো গুণগত মানের স্যাফায়ার বোল তৈরিতে ব্যর্থ হয় ওই যন্ত্রগুলো। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, এ্যাপল ও জিটির মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী এ্যাপলের যাবতীয় শর্ত মেনে বাণিজ্যিক হারে স্যাফায়ার তৈরিতে বাধ্য ছিল জিটি। তবে সেই স্যাফায়ার কিনতে বাধ্য ছিল না এ্যাপল। জিটির মতে, ‘চুক্তিটি ছিল একতরফা।’ স্মার্টফোনের স্ক্রিনে স্যাফায়ার ব্যবহারের এ্যাপলের এই পরিকল্পনার এখানেই শেষ কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। বর্তমানে এ্যাপল ওয়াচের একটি সংস্করণে স্যাফায়ার স্ক্রিন ব্যবহার হচ্ছে।