ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ম্যানসিটিকে কাঁদিয়ে সেমিতে রিয়াল মাদ্রিদ

জাহিদুল আলম জয়

প্রকাশিত: ০০:৫৪, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

ম্যানসিটিকে কাঁদিয়ে সেমিতে রিয়াল মাদ্রিদ

ম্যানচেস্টার সিটির একটি আক্রমণ নস্যাৎ করে দিচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক আন্দ্রিয়ে লুনিন

এর চেয়ে মধুর প্রতিশোধ বুঝি আর হয় না। গত বছর এই ম্যানচেস্টার সিটির কাছে নাকানিচুবানি খেয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এবার দল দুটির সাক্ষাৎ হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে। গত ৯ এপ্রিল সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম লেগের ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছিল। 
পরশু রাতে ম্যানচেস্টারের ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শেষ আটের দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হয় রিয়াল ও ম্যানসিটি। এই ম্যাচটিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বলা হচ্ছে। কেননা পুরো ম্যাচে দুদলের লড়াই ছিল দেখার মতো। বল পজিশনে গ্যালাক্টিকোদের চেয়ে ঢের এগিয়ে থাকলেও ইতিহাসের সেরা দলের কৌশলের সঙ্গে পেরে উঠেনি সিটি।

তাইতো দুদলের নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকে। ১২ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান তারকা রডরিগোর গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। বিরতির পর ৭৬ মিনিট বেলজিয়ামের মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইনে গোল করে সিটিকে সমতায় ফেরান। এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় দুই লেগ মিলিয়ে দুদলের লড়াই ৪-৪ গোলে সমতা বিরাজ করে। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। 
সেখানেও আর জাল খুঁজে পাননি দুদলের তারকা খেলোয়াড়রা। যে কারণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ভাগ্যনির্ধারণী পেনাল্টি শূটআউটে। যেখানে সিটিকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে আসরের সেমিফাইনালে উঠে গেছে রিয়াল। এই জয়ের পর রিয়াল তাবুতে যেন শিরোপা জয়ের উল্লাস চলছে। হওয়ারই কথা। কেননা এ নিয়ে টানা তিন মৌসুম নকআউট রাউন্ডে সিটির বিরুদ্ধে খেলতে হয়েছে রিয়ালকে।

গতবার হেরে গেলেও বাকি দুইবারই জিতেছে। এবার বার্নাব্যুর ম্যাচটি ড্র হওয়ার পর ইতিহাদে বেশিরভাগ মানুষ রিয়ালকে পিছিয়ে রেখেছিলেন! এ কারণেই হয়তো জয়ের পর বুনো উল্লাস করতে দেখা গেছে রিয়াল তারকারদের। রুডিগার, নাচো, বেলিংহাম, লুনিনরা স্পেন ফেরার পর বার্নাব্যুতে রাজকীয়ভাবে বরণ করে নেয়া হয়েছে। এ যেন শিরোপা জয়ের আনন্দ! 
টাইব্রেকারে রিয়ালের অনিয়মিত গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন সিটির বার্নান্ডো সিলভা ও মাটেও কোভাচিচের শট রুখে দেন। যে কারণে লুকা মডরিচ রিয়ালের হয়ে প্রথম শটে গোল করতে না পারলেও সমস্যা হয়নি লস ব্লাঙ্কোসদের। টাইব্রেকারে প্রথম গোল করে সিটিকে এগিয়ে দেন আলভারেজ। এরপর রিয়ালের হয়ে মডরিচের প্রথম শট আটকে দিয়ে এডারসন সিটিকে এগিয়ে দেন।

কিন্তু  এরপর সিলভা ও কোভাচিচের পরের দুই শট আটকে দেন রিয়াল গোলরক্ষক লুনিন। সিটির হয়ে চার ও পাঁচ নম্বর শটে যথাক্রমে ফোডেন ও এডারসন গোল করলেও কোনো লাভ হয়নি। কেননা প্রথম শটে গোল না পেলেও রিয়ালের পরের চার শটে গোল করেন যথাক্রমে বেলিংহাম, লুকাস ভাসকুয়েজ, নাচো ও রুডিগার।

ইউক্রেনিয়ান গোলরক্ষক লুনিন চলতি মৌসুমে ইনজুরিতে থাকা এক নম্বর গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার পরিবর্তে খেলে যাচ্ছেন। এ ম্যাচে তিনি নিজেকে দারুণভাবে প্রমাণ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। বাভারিয়ানরা আরেক ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালকে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারের টিকেট কেটেছে। লন্ডনে প্রথম লেগ ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর পরশু রাতে মিউনিখে বায়ার্ন ১-০ গোলে হারিয়েছে আর্সেনালকে। বিজয়ী দলের হয়ে জার্মান মিডফিল্ডার জসুয়া কিমিচ ৬৩ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন। 
২০১৮ সালের পর থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে কোন ম্যাচে হারেনি সিটি। কিন্তু এবার রেকর্ড ১৪ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়ালের দারুণ রক্ষনভাগকে ভাঙতে পারেনি তারা। গোলের জন্য সিটি ৩৪ বার চেষ্টা চালিয়েছে। বলের পজিশন ৭২ শতাংশ নিজেদের মধ্যে রাখলেও কাজের কাজ গোল বেশি আদায় করতে পারেনি। 
১১ মাস আগে এই ইতিহাদ স্টেডিয়ামেই সিটির কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল রিয়াল। ওই আসরে কোচ পেপ গার্ডিওলার সিটি প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয় করে। ম্যাচ শেষে সিটি কোচ পেপ গার্ডিওলা বলেন, ফুটবল এমনই। রিয়ালকে অভিনন্দন। 
কারন তাদের মধ্যে ম্যাচ ধরে রাখার ক্ষমতা আছে। শেষ পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে গেছে। শেষ পাস কিংবা শেষ শটে আমরা গোল আদায় করতে পারিনি। আমার  কোন আফসোস নেই। সবসময়ই আমরা গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেছি।

×