ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

১২০০তম ম্যাচেও অনন্য রোনাল্ডো

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০১:০০, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩

১২০০তম ম্যাচেও অনন্য রোনাল্ডো

সতীর্থ ওটাভিওর সঙ্গে পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো

ঊনচল্লিশ ছুঁই ছুঁই বয়স। তারপরও অপ্রতিরোধ্য ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। ইউরোপ ছেড়েছেন, তথাপি দমে যাননি সিআর সেভেন। আল-নাসরের জার্সিতে এখন সৌদি প্রো-লিগ কাঁপিয়ে জানান দিচ্ছেন পারফর্ম করলে যে কোনো দেশের যে কোনো লিগ থেকেই নিজের জাত চেনানো যায়। রেকর্ড ভাঙা-গড়ার নেশায় মত্ত থাকা ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো শুক্রবার গড়লেন আরও এক নতুন কীর্তি। আল-রিয়াদের বিপক্ষে মাঠে এদিন পেশাদার ক্যারিয়ারের ১২০০তম ম্যাচ খেলার নজির গড়লেন তিনি, যা বর্তমানে খেলছেনÑ এমন ফুটবলারদের মধ্যে তো শীর্ষেই, বরং সবচেয়ে বেশি ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করা খেলোয়াড়দের তালিকার পাঁচ নম্বরে ঢুকে গেছেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদের এই পর্তুগিজ সুপারস্টার।
এমন মাইলফলকের ম্যাচেও নিজেকে আলাদাভাবে মেলে ধরেছেন সিআর সেভেন। নিজে এক গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে দৃষ্টিনন্দন আরও এক গোল করাতেও রেখেছেন দারুণ ভূমিকা। সেই সঙ্গে সৌদি প্রো-লিগে তার দল আল-নাসর ৪-১ গোলে রীতিমতো উড়িয়েই দেয় আল-রিয়াদকে। একে তো ক্যারিয়ারের ১২০০তম ম্যাচ, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে নিজের গোল আর অ্যাসিস্টের সৌজন্যে বড় জয়ের আনন্দ। স্বাভাবিকভাবেই দারুণ রোমাঞ্চিত সিআর সেভেন।

নিজের আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে রোনাল্ডো লিখেছেন, ‘আরও তিনটি পয়েন্ট পেলাম। আমার সব সতীর্থকে ধন্যবাদ, যারা আমাকে ১২০০তম ম্যাচে পৌঁছতে সহায়তা করেছে। কী দারুণ যাত্রা! কিন্তু আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি।’ মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে জীবনে বহুবার বেশ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েও কখনো দমে না যাওয়া এক সেনানী রোনাল্ডো। সংগ্রামী জীবনে ধ্বংসস্তূপে তলিয়ে যেতে যেতে অসংখ্যবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সি আর সেভেন।

হাসাতে হাসাতে কাঁদানো, কাঁদাতে কাঁদাতে হাসানো, চরম ব্যর্থতায় মুষড়ে পড়ার পরমুহূর্তেই ঘুরে দাঁড়ানো, প্রতিপক্ষকে হরহামেশাই দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়া, ভক্তদের আনন্দে ভাসানোর পাশাপাশি নিন্দুকদের গালে নিয়ম করে চপেটাঘাত করা, পরিশ্রমের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠে বহু অসাধ্য সাধন করে ফেলা, উত্তেজনা আর উষ্ণতায় টইটম্বুর শরীর, বিশাল অনুপ্রেরণায় ঠাসা কোনো মস্তিষ্ক, সবকিছু  শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও আবার শুরু করা, হারার আগেই হার না মানা, নিজের সর্বশেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ে যাওয়া এবং আরও অনেক অনেক কিছু নিয়েই তো রোনাল্ডোর গল্প।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা জুভেন্টাস মাতানো তার মতো এক ফুটবলারের পারফর্মেন্সে এখন মুগ্ধ হচ্ছে আল-নাসরের ভক্ত-অনুরাগীরা। শুক্রবারের ম্যাচ শেষে আল-নাসর তাদের অফিসিয়াল  পেসবুক পেজে আলাদা করে পোস্ট করেছে রোনাল্ডোকে নিয়ে। সেখানে দলটি লিখেছে, ‘ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর খেলা দেখাটা আনন্দদায়ক। তার খেলা সবাইকে মুগ্ধ করে। তিনি সব সময় জয়ের জন্য প্রস্তুত থাকেন। মাঠে নিজের ছাপ রেখে যান পর্তুগিজ এই রত্ন।’
স্বদেশী ক্লাব স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে ২০০২ সালে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক রোনাল্ডোর। এরপর কেটেছে ২১ বছর। জাতীয় দলের পাশাপাশি খেলেছেন ভিন্ন পাঁচটি ক্লাবের হয়ে। লিসবনে শুরু হওয়া যাত্রা এখনো চলমান আল-নাসরে। মাঝে খেলেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসে। পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২০৫ ম্যাচ খেলা সি আর  সেভেন লিসবনে খেলেছেন ৩১ ম্যাচ। ম্যান ইউনাইটেডে দুই দফায় ৩৪৬, রিয়াল মাদ্রিদে ৪৩৮, জুভেন্টাসে ১৩৪ ম্যাচ খেলেছেন। আল-নাসরের হয়ে মাঠে নেমেছেন ৪৬ ম্যাচে। ১২০০ ম্যাচে রোনাল্ডোর গোলসংখ্যা ৮৬৮। সবচেয়ে বেশি ১৩৮৭ ম্যাচে খেলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক পিটার শিলটন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেরা পাঁচে রোনাল্ডোর ওপরে থাকা বাকি চারজনই গোলরক্ষক।

×