ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

বঙ্গবন্ধু কাপ কাবাডি

বাংলাদেশ হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে

রুমেল খান

প্রকাশিত: ০১:০৩, ২২ মার্চ ২০২৩

বাংলাদেশ হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে

বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি

ম্যাচ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড বাকি। প্রতিপক্ষের কোর্টে ঢুকে রেইড দিচ্ছেন তুহিন। কিন্তু কোনো তাড়াহুড়া করছেন না তিনি। বরং কোমরে হাত রেখে আয়েশ করে তাকিয়ে আছেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের দিকে। আর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যেও তুহিনকে ‘ক্যাচ’ করার কোনো প্রবণতা দেখা গেল না। কারণ ততক্ষণে যে জয় ও শিরোপা নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতার চিত্তসুখই আলাদা। আর সেটা যদি হয় টানা তিন বার, তাহলে তো তথাই নেই। বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দল মঙ্গলবার সেই কীর্তিই গড়ল।

বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টে তারা হলো অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। ঢাকার পল্টনের শহীদ নূর হোসেন ভলিবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তারা চাইনিজ তাইপেকে ৪২-২৮ পয়েন্টে (৩টি লোনাসহ) হারায়। বিজয়ী দল খেলার প্রথমার্ধে এগিয়েছিল ২০-১৪ পয়েন্টে। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক তুহিন তরফদার টুর্নামেন্টের বেস্ট ক্যাচার ও ম্যান অব দ্য ফাইনাল হন। একই দলের মিজানুর রহমান ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট ও বেস্ট রেইডারের পুরস্কার লাভ করেন। 
মঙ্গলবার ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত তুহিনদের অকুণ্ঠ সমর্থন জোগাতে স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ। দু’দলই ধীরস্থির-সতর্ক ভঙ্গিতে শুরু করে। বোনাস পয়েন্ট পাওয়ার মাধ্যমে পয়েন্টের খাতা খোলে বাংলাদেশ। তবে পিছিয়ে থাকেনি তাইপেও। সমানতালে খেলতে থেকে কখনও সমতায় ফেরে, কখনও আবার এগিয়েও যায় তারা (৫-৪)। একপর্যায়ে ১০-৯ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকার পর ১০-১০ এ সমতা আনে স্বাগতিকরা।

এররেই ১৪ মিনিটের সময় তাইপেকে প্রথমবারের মতো অলআউট করে বাংলাদেশ। ১৪-১০ পয়েন্টে এগিয়ে যায় তারা। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। বাংলাদেশ এই ম্যাচে রেইডের চেয়ে ক্যাচিংয়ের ভূমিকায় বেশি সফল হয়। মূলত তাদের অভিজ্ঞতার কাছেই হার মানে চাইনিজ তাইপে। 
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আরও ২২ ও তাইপে ১৪ পয়েন্ট স্কোর করে। তুহিনের রেইডে লোনা ও বোনাস পয়েন্ট মিলিয়ে ৪ পয়েন্ট পেয়ে বাংলাদেশ স্কোরলাইন ২৪-১৪ করে ফেলে। মিজানুর, আরদুজ্জামান ও তুহিনের একের পর এক সফল রেইড ও দলগত নৈপুণ্যে নিজেদের পয়েন্ট আরও বাড়িয়ে নিতে থাকে লাল-সবুজ বাহিনী। এক পর্যায়ে তুহিনের রেইডে তৃতীয় লোনা পেয়ে যায় বাংলাদেশ (৩৭-২১)। তখনই মোটামুটি বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ফলে একটু যেন হাল্কা মুডে খেলতে থাকে তারা। এটাকে কাজে লাগিয়ে তাইপে দ্রুত কিছু পয়েন্ট আদায় করে নেয়।
শেষ আড়াই মিনিট। শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ রেইড দিতে গিয়ে কোন চাপ নেয়নি। বরং কৌশলগত কারণে ধীরগতিতে খেলে সময় পার করতে থাকে। বাকি সময়ে তাইপে তিনটি লোনার পয়েন্ট দিয়েও লিড নিতে পারত না বা সমতায় ফিরতে পারত না। ফলে শেষ পর্যন্ত হার স্বীকার করতেই হয় তাদের।

×