ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

মাত্র ২৩ বছর বয়সে সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ৯ গোল করে ইতোমধ্যেই অনেক রেকর্ড ভেঙে ফেলেছেন ফরাসি তারকা

বিশ্বকাপ জিততেই জন্ম এমবাপের

মো. মামুন রশীদ

প্রকাশিত: ০০:১৩, ৬ ডিসেম্বর ২০২২

বিশ্বকাপ জিততেই জন্ম এমবাপের

অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা কিলিয়ান এমবাপের এই দৌড় থামবে কোথায়?

প্রথম বিশ্বকাপ মঞ্চেই দলের অন্যতম স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেছেন। আর তাকে নিয়ে দলের যে আস্থা ছিল সেটার প্রতিদানও দিয়েছেন। গতবার রাশিয়াতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স। সেখানে অন্যতম ভূমিকা ছিল ১৯ বছরের তরুণ কিলিয়ান এমবাপের। ফাইনালে একটিসহ ৪ গোল করে ফরাসিদের পক্ষে ছিলেন যৌথভাবে সর্বাধিক গোলের মালিক। গত চার বছরে যে আরও পরিণত, গোছানো এবং বিধ্বংসী হয়ে উঠেছেন তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বেশ ভালোভাবেই।

এবার গোল করার দিক থেকে তার ধারেকাছেও নেই কেউ। ৪ ম্যাচ খেলে করেছেন ৫ গোল। শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে মর্যাদার ‘গোল্ডেন বুট’ পাওয়ার একক দাবিদার ইতোমধ্যেই হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এমবাপের চাওয়া ভিন্ন। তিনি মূলত ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জিততে চান। তাহলে বিশ্বকাপ মঞ্চে নেমেই টানা দুইবার শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করবেন তিনি। যেন জন্মই হয়েছে তার বিশ্বকাপ জেতার জন্য।

মাত্র ২৩ বছর বয়সে সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে ৯ গোল করে ইতোমধ্যেই অনেক রেকর্ড ভেঙে ফেলেছেন। নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবেন এ তরুণ- এমন আভাস দেখা যাচ্ছে ইতোমধ্যেই।
এমবাপের জন্ম যেন রেকর্ড ভাঙ্গার জন্য। সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকেই নিজের প্রতি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তাই ফরাসি জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। তারপর থেকে মাঠে নিজের উপস্থিতিটা ভালোভাবেই জানান দিয়েছেন প্রতিপক্ষকে। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের কাছে গতি আর গোল করার সামর্থ্যে রীতিমতো বিভীষিকাময় এমবাপে। রাশিয়া বিশ্বকাপ জেতার পথে একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন। কাতার বিশ্বকাপেও তাই করছেন।

তার জোড়া গোলে পোল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফ্রান্স। যেখানে নতুন বিশ্ব রেকর্ডের জন্ম দিয়েছেন এমবাপে। গত আসরে ৪টি এবং চলতি আসরে ৫টি গোল করেছেন তিনি। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে ৯ গোল এখন এমবাপের। ইতিহাসে আর কোনো ফুটবলারই এত কম বয়সে বিশ্বকাপে ৯ গোল করতে পারেননি। ২৪ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিশ্বকাপে ৭ গোল করেছিলেন পেলে। দেশের কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানকেও ছাড়িয়ে গেছেন এদিন।

জিদান তার ক্যারিয়ারে ফ্রান্সের হয়ে ১০৮ ম্যাচে ৩১ গোল করেছেন। চলতি বিশ্বকাপেই জিদানকে ছুঁয়ে ফেলেন এমবাপে। ফরাসি জার্সিতে ৬৩ ম্যাচে এখন এ তরুণের গোল ৩৩টি। বাল্যকাল থেকে নিজের আইডল মেনেছেন ব্রাজিলের রোনাল্ডো আর পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোকে। ছাড়িয়ে গেছেন ক্রিস্টিয়ানোকেও। ৫ বিশ্বকাপে ৮ গোল করেছেন ক্রিস্টিয়ানো। ৯ গোল করে তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এমবাপে ছুঁয়েছেন আর্জেন্টিনার সুপার স্টার লিওনেল মেসিকে। মেসিও ৯ গোল করেছেন বিশ্বকাপে।

বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে সর্বাধিক গোলের মালিক জাঁ ফন্টেইন। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে একাই ১৩ গোল করেন তিনি। ফ্রান্সের কোনো ফুটবলার একাধিক বিশ্বকাপ খেলেও তা ভাঙতে পারেননি। এমবাপের দারুণ সুযোগ নতুন রেকর্ড গড়ার। তাছাড়া বিশ্বকাপে ইতিহাসে ১৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে সাবেক জার্মান ফরোয়ার্ড মিরোস্লাভ ক্লোসা।

আরেক আইডল ব্রাজিলের রোনাল্ডো ১৫ গোল করে যে রেকর্ড করেন সেটিই ভাঙ্গেন ক্লোসা। দুজনকেই ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ও বয়স আছে এমবাপের। এই আসরে ধরা দিতে পারে আরেক গৌরব। ৫ গোল করে ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের রেসে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন এমবাপে। ৩ গোল আছে ৭ জনের। জাতীয় দলে তারই সতীর্থ অলিভার জিরুড, প্যারিস সেইন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) সতীর্থ মেসি, ইংল্যান্ডের মার্কাস রাশফোর্ড ও বুকায়ো সাকা, হল্যান্ডের কোডি গাকপো এবং স্পেনের আলভারো মোরাতা।
 ফর্মে থাকা ফ্রান্সের বিধ্বংসী গতির এমবাপেকে গোলের দিক থেকে পেছনে ফেলা কঠিন এবার। এমনকি সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বলও জিততে পারেন এ তরুণ। কিন্তু এমবাপে নিজে কি চাইছেন? তিনি বলেছেন, ‘এখানে আমি গোল্ডেন বল জিততে আসিনি। এজন্য আমি এখানে আসিনি। আমার একমাত্র উদ্দেশ্য বিশ্বকাপ জেতা। অর্থাৎ এখন আমি কোয়ার্টার ফাইনালে জিততে চাই।

আমি এখানে জিততে এসেছি এবং ফরাসি ফুটবল দলকে সহায়তা দিতে এসেছি। অবশ্যই এই বিশ্বকাপ আমার জন্য একটা ঘোরের মতো। এটা আমার স্বপ্নের প্রতিযোগিতা। আমি মৌসুমজুড়ে এই প্রতিযোগিতার জন্য নিজেকে গড়েছি এবং এজন্যই এসবের মধ্যেই নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছি।’ বিশ্বকাপে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই নামতে চেয়েছেন এমবাপে। আর তাই এখন ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেই তার গোল ৯টি যা ফ্রান্সের পক্ষে এই মঞ্চে দ্বিতীয় সর্বাধিক। এমবাপে বলেছেন, ‘আমি পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে আসতে চেয়েছি এই মঞ্চে এবং এখনো পর্যন্ত সবকিছু ঠিকভাবে যাচ্ছে।’

সম্পর্কিত বিষয়:

monarchmart
monarchmart