ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

অভিমত সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদের

রুমেল খান

প্রকাশিত: ০০:৫৯, ২ জুন ২০২৩

অভিমত সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদের

কায়সার হামিদ

পুরুষ ফুটবল নিয়ে কোন স্বপ্ন দেখা ফুটবলপ্রেমীরা বন্ধ করে দিয়েছেন কয়েক বছর ধরে। কিন্তু আশার জাল বুনেছিলেন নারী ফুটবলে একের পর এক সাফল্যে। কিন্তু ক’দিন ধরে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে নারী ফুটবলে, যাতে আশঙ্কা করা হচ্ছে ধ্বংসের পথে চলে যাবে নারী ফুটবল। কিন্তু এমনটা মনে করেন না একজন, যিনি বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র ‘আশাবাদী’ ব্যক্তি। তিনি কাজী মো. সালাউদ্দিন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) এই সভাপতি মনে করেন একের পর নারী ফুটবলাররা আকস্মিক অবসর নিলেও সমস্যা নেই, পাইপলাইন মজবুত আছে। তাই নতুনরা আসবে।

এমনকি কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন পদত্যাগ করলেও তাতে বিচলিত নন তিনি! মনে করেন ছোটন চলে গেলে কোনো সমস্যা নেই, তার চেয়ে ভালো কেউ আসবেন। তবে বাফুফের টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর পল স্মলি চলে নাকি বাংলাদেশের নারী ফুটবল ধূলিসাৎ হয়ে যাবে! তাছাড়া নারী ফুটবলে ছোটনের নাকি কোনো অবদান নেই, সব অবদানই নাকি পলের! বাফুফে সভাপতির এমন ভাবনায় রীতিমতো বিস্মিত কায়সার হামিদ। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা এই ফুটবলার দৈনিক জনকণ্ঠের সঙ্গে একান্ত আলাপনে জানিয়েছেন নারী ফুটবলের সার্বিক পরিস্থিতি ও দেশের ফুটবলের পরিস্থিতি নিয়ে তার ভাবনা।
কায়সার বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সব সাফল্যের পেছনে ছোটনের অবদান আছে। তার অর্জন অবিস্মরণীয়। তিনি যথেষ্ট করেছেন। অনেক কষ্ট করেছেন। ফুটবলপ্রেমীরা সবাই দেখেছেন তিনি এই কয়েক বছরে কী করেছেন। তাকে আসলে রেখে দেয়া উচিত ছিল। এখন কি কারণে হঠাৎ করে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন, সেটা জানি না। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি নারী ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিতে হলে ছোটনের বিকল্প নেই।’ 
ছোটন ও পলকে নিয়ে সালাউদ্দিনের মন্তব্য প্রসঙ্গে কায়সারের ভাষ্য, ‘সালাউদ্দিন ভাই যে বলেছেন ছোটনের রিপ্লেসমেন্ট আছে, কিন্তু স্মলির রিপ্লেসমেন্ট নেই... এই কথাটি ঠিক মানতে পারছি না।

এখন নতুন কেউ যদি না আসে বা কাজ না করে, তাহলে তো বোঝা যাবে না তিনি যোগ্য রিপ্লেসমেন্ট। ছোটন ভালো করেছেন। তিনি এক পরীক্ষিত সৈনিক। তার আকস্মিক বিদায়টা দুঃখজনক।’ কায়সার আরও যোগ করেন, ‘আমি বেশি কষ্ট পেয়েছিলাম যখন অলিম্পিকের বাছাইপর্ব খেলতে মেয়েরা মিয়ানামারে যেতে পারল না। তারা হয়তো সেমিফাইনালেও চলে যেতে পারতো। তখন নিশ্চয়ই বিশ্ব ফুটবল জানত বাংলাদেশের নারী ফুটবল কতটা এগিয়েছে। মেয়েরাও নিশ্চয়ই খেলার জন্য মুখিয়ে ছিল। এজন্য তারা অনেক পরিশ্রম-অনুশীলনও করেছিল। কিন্তু মিয়ানামার যাবার সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়াতে তারা স্বভাবতই মুষড়ে পড়ে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। এ বিষয়টা নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলাম।

তিনি বলেছেন বাফুফে তাদের বিষয়টি ঠিকমতো জানায়নি, জানিয়েছে একেবারে শেষ সময়ে, তখন আর সাহায্য করার সময় ছিল না। মন্ত্রী নিজে আমাকে ফাইল ঘেঁটে দেখিয়েছেন কোন ক্রীড়াবিদকে কত টাকা অর্থ সাহায্য দিয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। কাজেই নারী ফুটবল দলকেও প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে পারত তারা। কিন্তু বাফুফের গাফিলতিতে সেটা হয়নি।’ ব্যর্থতার পরও বছরের পর বছর ধরে সালাউদ্দিনের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরা প্রসঙ্গে কায়সার বলেন, ‘ধরুন, আমাকে যদি কোনো দায়িত্ব দেয়া হয়, আর সেই দায়িত্ব পালনে যদি ব্যর্থ হই, তাহলে অবশ্যই আমার সেই দায়িত্ব বা পদটি ছেড়ে দেয়া উচিত। আমি পারলাম না, তাহলে নতুন কেউ আসুক এবং কাজ করে সফল হোক... এটাই তো স্বাভাবিক।

কিন্তু বাফুফে সভাপতি সেটা মানতেই চান না!’ সার্বিকভাবে বাংলাদেশের ফুটবলের অবস্থা কোন্ পর্যায়ে আছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে কায়সার বলেন, ‘কোন্ পর্যায়ে আছে, সেটা তো দৃশ্যমান। এটা নিয়ে আর বলার কি আছে? ফিফা র‌্যাঙ্কিং দেখলেই তো বুঝতে পারবেন। সবসময়ই তো ১৯০-এর পরে থাকে। আপনি পরীক্ষা দিয়েছেন। ১০০ নম্বরের মতো কত পেয়েছেন, সেটা তো মার্কশিটই বলে দেবে। নম্বরই বলে দেবে ছাতটা কেমন। ফিফা র‌্যাঙ্কিং হচ্ছে ফুটবল পরীক্ষার সেই মার্কশিট।’ কায়সার আরও বলেন, ‘কয়েক বছর আগে বাফুফে সভাপতি ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে। বাস্তবে কি হয়েছে? সালাউদ্দিন গ্রেট ফুটবলার ছিলেন। কিন্তু সংগঠক হিসেবে ব্যর্থ। 
এটা হতেই পারে। এটাতে তো লজ্জার কিছু নেই। কিন্তু তাই বলে পদত্যাগ করবেন না কেন? পদ আঁকড়ে ধরে থাকাটা কোন্ ধরনের মানসিকতা?’ সবশেষে কায়সারের অভিমত, ‘নারী ফুটবলাররা দীর্ঘ আট মাস ধরে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারছে না। ফ্রাঞ্চাইজি লিগও অনিশ্চিত। শুনেছি তারা ঠিকমতো বেতনও পায় না। এগুলোর কারণেই একের পর এক মেয়ে ক্যাম্প ছাড়ছে, অবসর নিয়ে নিচ্ছে। এমনটা অনাকাক্সিক্ষত। এটা চলতে থাকলে নারী ফুটবল পুরুষ ফুটবলের পর্যায়ে চলে যাবে!’

×