ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

বহিষ্কৃত সবাইকে দলে ফিরিয়ে নিন ॥ জিএম কাদেরকে রওশন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৩২, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

বহিষ্কৃত সবাইকে দলে ফিরিয়ে নিন ॥ জিএম কাদেরকে রওশন

জিএম কাদেরকে রওশন

জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা-কর্মীদের ফিরিয়ে নিতে দলের চেয়ারম্যান গোলাম কাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। থাইল্যান্ড থেকে রওশন এরশাদ তার সংসদের প্যাডে সই করা এক চিঠিতে বুধবার এই নির্দেশনা দেন। এই চিঠি রওশন এরশাদ স্বাক্ষর করেছেন গত মঙ্গলবার।  
জাপা চেয়ারম্যানকে পাঠানো চিঠিতে বেগম রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির সর্বময় ক্ষমতার সংরক্ষক হিসেবে পার্টির গঠনতন্ত্রের ধারা-২০ এর উপধারা-১; প্রধান পৃষ্ঠপোষকের ক্ষমতাবলে গঠনতন্ত্রের বিশেষ ক্ষমতা এবং মৌলিক অধিকার পরিপন্থী ধারা ২০-এর উপধারা ২ এর সব বিধান স্থগিতের নির্দেশনা দিয়েছেন। চিঠিতে রওশন উল্লেখ করেন, ‘গঠনতন্ত্রের ২০-এর উপধারা-১ অনুযায়ী প্রধান পৃষ্ঠপোষকের ক্ষমতাবলে চেয়ারম্যানের বিশেষ ক্ষমতা এবং মৌলিক অধিকার পরিপন্থী ধারা ২০-এর উপধারা ১(১)-এর ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ  এবং উপধারা ২-এর ক, খ, গ এবং উপধারা-৩-এ বর্ণিত অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারীমূলক বিধান স্থগিত করে জাতীয় পার্টির অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও কমিটি থেকে বাদ দেয়া সব নেতাকর্মীকে পার্টিতে অন্তর্ভুক্তির আদেশ দেওয়া যাচ্ছে।’
রওশন এরশাদ বলেন, ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে অনুমোদিত পার্টির গঠনতন্ত্রের ধারা-২০ এর উপধারা ১ এর সব বিধান অপব্যহৃত হয়। যা গণতন্ত্র ও সংবিধান পরিপন্থী। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের বিধিবিধান মেনেই তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সেখানে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র লঙ্ঘনের সুযোগ নেই। শুধু তাই নয়, দেশজুড়ে পার্টির সব তৃণমূল নেতাকর্মীও এসব ধারার বিপক্ষে। এটা বাতিল চায় লাখ লাখ পল্লীবন্ধুপ্রেমী কর্মী-সমর্থক।
জাপা প্রধানকে পাঠানো আদেশে প্রধান পৃষ্ঠপোষক বলেন, আপনার মন্তব্য  অনুযায়ী সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ ও সরকার পরিচালনা ব্যবস্থা যেমন এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে, ঠিক তেমনই নবম সম্মেলনের মাধ্যমে দলীয় গঠনতন্ত্রে ২০ ধারার উপধারা ১ এর সব উপধারা ও অনুচ্ছেদ। এর মাধ্যমে যখনতখন তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যন্ত কোন ধরনের শোকজ বা বিনা নোটিসে বহিষ্কার ও অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। যা একজন রাজনৈতিক কর্মীর গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্ষুণœ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রকৃতপক্ষে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ গৃহীত হওয়ার একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও যৌক্তিকতা রয়েছে। কিন্তু জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০ ধারার ১(১), উপধারা-২ ও উপধারা-৩ বর্ণিত বিধানাবলীর সঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ন্যূনতম কোন মিল নেই।
 বেগম রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির অভিভাবক হিসেবে সারাদেশের লাখ লাখ নেতাকর্মীর দাবি মেনে দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দশম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব ক্ষমতা স্থগিত করা হলো উল্লেখ করে তা কার্যকরের নির্দেশনা দেন। পল্লীবন্ধুর সহধর্মিণী রওশন এরশাদের নির্দেশনা মতে, এরইমধ্যে দলীয় কর্মকা- পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, বিগত দিনে দলের বহু সিনিয়র, অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল, পরীক্ষিত নেতাকর্মীকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। পদোন্নতি বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। এতে করে পার্টিকে দিনে দিনে দুর্বল করা হয়েছে। করা হয়েছে খ-িত। পার্টির মধ্যে অগণতান্ত্রিক আবহ থাকায় নেতাকর্মীরা বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং পদ হারানোর ভীতি ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে আবারও পার্টি খ-িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রওশন এরশাদ আরও বলেন, এ অবস্থা অবসানের লক্ষ্যে এবং পার্টি শক্তিশালী করার উদ্দেশে মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গাফফার বিশ্বাস, এছাড়া নবম সম্মেলনের পর, পদ-পদবিতে না রাখা সাবেক মন্ত্রী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএ সাত্তার, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, কাজী মামুনুর রশীদ, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, সাবেক উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম বাচ্চু, সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরুসহ দেশজুড়ে অব্যাহতিপ্রাপ্ত বহিষ্কার ও নিষ্ক্রিয় করে রাখা সব নেতাকর্মীকে এই আদেশ জারির পর থেকে যার যার আগের পদ-পদবিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।