ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯

রাজপথ দখলের মাধ্যমে সরকার হটাতে হবে : মির্জা ফখরুল  

প্রকাশিত: ২০:৫২, ১১ আগস্ট ২০২২

রাজপথ দখলের মাধ্যমে সরকার হটাতে হবে : মির্জা ফখরুল  

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ

লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই রাজপথ দখল করতে হবে বলে মন্তব্য করে রাজপথ  দখলের মধ্য দিয়েই সরকার হটিয়ে জনগণের রাষ্ট্র গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের লোডশেডিং, গণপরিবহনের ভাড়াবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও ভোলায় পুলিশের গুলিতে দলীয় কর্মী নুরে আলম ও আব্দুর রহিম হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

২২ আগস্ট থেকে সারাদেশে মহানগর ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি অব্যাহতভাবে চলবে বলে ঘোষণা করেন তিনি। এদিকে বিএনপির সমাবেশে দলটির দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়। রাস্তা দখল করে সমাবেশ করায় আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এর ফলে ওই এলাকা দিয়ে চলাচলকারী লোকজনকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। 

দুপুর ১২টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দলটির বর্তমান চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ছবি সম্বলিত ব্যানারসহ স্লোগান দিতে দিতে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। বেলা সোয়া ২টার দিকে ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা নেছারুল হকের কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। 

সমাবেশ শুরুর আগেই বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী রাস্তা দখল করে বসে পড়ায় নয়াপল্টন এলাকার ভিআইপি সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে আশপাশের এলাকায়ও  তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এর ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় ওই এলাকা দিয়ে চলাচলকারী লোকজনকে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের শো-ডাউন করতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের আনা হয়। এদিকে  বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরা যাতে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য নয়াপল্টন এলাকায় সকাল থেকেই ছিল আইনশৃংখলা বাহিনীর সতর্ক প্রহরা। 

দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, যে লড়াই বা যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তা আমাদের প্রাণের লড়াই, আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই, এই লড়াই বাংলাদেশকে লক্ষা করবার লড়াই। এটা বিএনপির নয়, এই লড়াই দেশের ১৮ কোটি মানুষকে বাঁচার লড়াই।  এই লড়াইয়ে অবশ্যই আমাদের শরিক হতে হবে, আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে, রাজপথ আমাদেরকে দখল করতে হবে। রাজপথের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আমরা অবশ্যই এই সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থেই একটা জনগনের সরকার ও জনগনের সমাজ তৈরি করবো।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, খুব পরিস্কার করে বলতে চাই, আর বিলম্ব না করে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। কারণ, আপনারা ব্যর্থ হয়েছে, আপনারা মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারছেন না। সুতরাং আপনাদেরকে এই মুহুর্তে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন দিয়ে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনে নতুন সংসদ গঠন করতে হবে, জনগণের সরকার গঠন করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার তত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দেশে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। দেশের বিচারবিভাগকেও দলীয়করন করা হয়েছে। প্রশাসনের সকল ইউএনও ডিসিরাও দলীয় কর্মীতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, এ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র, তরুণ, যুবকদের জেগে উঠে নতুন করে দেশকে স্বাধীন করতে হবে। যে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হয়েছে সেই  লড়াই দেশের জনগনকে বাঁচানোর লড়াই। 

ফখরুল বলেন, রবিবার জেলা পর্যায়ে সমাবেশ আছে। সেই সমাবেশগুলো আমরা করব। এরপর আগামী ২২ তারিখ থেকে সকল উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে আমরা ছড়িয়ে পড়ব এবং একই ভাবে প্রত্যেকটি উপজেলা, জেলায় ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এই সরকারকে অবশ্যই পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করব।

ফখরুল বলেন, আজকে চাল, ডাল, তেলসহ সব কিছুরই দাম বেড়ে যাচ্ছে। আরেকদিকে বিদ্যুতের যে সমস্যা সেটা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সরকার আমদানি করার জন্য, দুর্নীতি ও চুরি করার জন্য আমার দেশে যে গ্যাস আছে সেই গ্যাস উত্তোলনের জন্য তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। তাদের নিজস্ব লোকদের দিয়ে গ্যাস আমদানির ফলে আজকে বিদ্যুতের দামও অনেক বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, সমাবেশে যোগদানের সময়ে বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও বাধা প্রদান করা হয়েছে।  যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।  

ফখরুল বলেন, আওয়ামীলীগ প্রতারনার মাধ্যমে জনসাধারনের সকল অধিকার ধ্বংস করেছে। সমাবেশ করতে চাইলেও বাধা দেয়া হচ্ছে। আজকের শান্তিপূর্ন সভা থেকেও নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এ ছাড়া আওয়ামীলীগ পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের আশা-আকাঙ্খা ধ্বংস করছে। আমদানি করে চুরি করার জন্য নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সরকার।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, জয়নাল আবেদীন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আফরোজা খান রিতা, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।