ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত

প্রকাশিত: ২০:৩০, ১২ জুন ২০২৪

ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত

সম্পাদকীয়

বর্তমান সরকারের বহুল আলোচিত একটি সফল কর্মসূচি আশ্রয়ণ প্রকল্প, যেটি ইতোমধ্যে সাড়া জাগিয়েছে সারাবিশ্বে। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মঙ্গলবার পর্যটননগরী কক্সবাজার জেলাকে  ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করেন। এদিন লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ, ভোলা জেলার চরফ্যাশন এবং কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁওয়ে ১৮ হাজার ৫৬৬টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর হস্তান্তর করা হয় রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে।

সে হিসেবে আগে ঘোষিত জেলা-উপজেলাসহ মোট ২৬ জেলার ৪৬৪টি উপজেলা ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত হলো দেশে। শুধু ঘর ও ভূমি নয়, আশ্রয়প্রাপ্তরা যাতে নিজ নিজ ক্ষমতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী স্বাবলম্বী হতে পারে, তদনুযায়ী সহায়তাও দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছেÑ যা এ প্রকল্পের একটি ইতিবাচক দিক।
ইতোমধ্যে ‘আশ্রয়ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেলকে’ সৃজনশীল মেধাকর্ম হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস। সংস্থাটির রেজিস্ট্রেশন সনদে সৃজনশীল কর্মের প্রণেতা (স্বত্বের অংশ) হিসাবে ‘শেখ হাসিনা’ এবং সৃজনশীল কর্মের স্বত্বাধিকারী হিসাবে (স্বত্বের অংশ) উল্লিখিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নাম।

১৯৭৭ সাল থেকে ২০২৩ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে  বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সহযোগিতায় বিভিন্ন জেলায় অগণিত মানুষ আশ্রয় পেয়েছেন আশ্রয়ণে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ দূরদর্শী কাজের মাধ্যমে দরিদ্র অথবা দারিদ্র্যসীমার নিচে যারা অবস্থান করছেন, তাদের জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, পেশাগত উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, পুষ্টিসহ সব ক্ষেত্রে আশ্রয়ণ প্রকল্পের রয়েছে অসাধারণ ভূমিকা, যা হবে দেশের টেকসই উন্নয়নের সহায়ক।

এর মাধ্যমে নারীর ঘর তথা জমির মালিকানাও নিশ্চিত হয়েছে, যা স্বীকৃতি পেয়েছে মৌলিক ধারণা হিসাবে। বিনামূল্যে নামজারিসহ দুই শতক জমিতে পরিকল্পিত বাসগৃহ পেয়ে ছিন্নমূল গৃহহীন পরিবারগুলো আনন্দে আত্মহারা। এর পাশাপাশি ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমের আওতায় পুনর্বাসিত হয়েছে আরও দুই লাখ ১৬ হাজার ৭০৪টি পরিবার।

পরিবারপ্রতি পাঁচজন হিসেবে এই কার্যক্রমে এ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ উপকারভোগীর সংখ্যা ছড়িয়ে আছে সারাদেশে। দেশে কোনো মানুষ ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে নাÑ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। 
‘মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’Ñ এটি বর্তমান সরকারপ্রধান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অন্যতম একটি লালিত স্বপ্ন, যেটি তিনি শতবর্ষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে চলেছেন। ২ শতক জমির ওপর পরিকল্পিতভাবে নির্মিত দুটি ঘর, রান্না ঘর, টয়লেট। এর পাশাপাশি রয়েছে বিনোদন কেন্দ্র, পুকুর, বৃক্ষরাজি শোভিত বনায়ন, বিদ্যুৎ, পাকা সড়ক, মসজিদ ইত্যাদি।

প্রধানমন্ত্রীর এই অনন্য উপহার পর্যায়ক্রমে তুলে দেওয়া হয়েছে সারাদেশে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে বিশ্বের বৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন বেদে সম্প্রদায়সহ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের। সবার জন্য বাসগৃহ নিশ্চিত হলে জনস্বাস্থ্য হবে সুরক্ষিত ও নিরাপদ। কমবে দারিদ্র্য, দরিদ্র মানুষের সংখ্যা।

সহজে সম্প্রসারিত করা সম্ভব হবে সামাজিক সেবাসমূহ। উল্লেখ্য, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে গ্রাম-বাংলায় কৃষি বিপ্লব, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, কুটির শিল্পসহ আনুষঙ্গিক শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা, যোগাযোগ, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই দূরদর্শী স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে তাঁরই সুযোগ্যকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে।

×