ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বোয়িংয়ের প্রস্তাবও মূল্যায়ন করা হবে

এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার ইঙ্গিত বিমানের বিদায়ী এমডির

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:০৭, ২৯ মে ২০২৪

এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার ইঙ্গিত বিমানের বিদায়ী এমডির

এয়ারবাস থেকে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ কেনার ইঙ্গিত

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এয়ারক্রাফট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ কেনার ইঙ্গিত দিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মো. শফিউল আজিম। বুধবার এভিয়েশন ও ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরামের (এটিজেএফবি) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।
বিমানের বিদায়ী এমডি বলেন, এয়ারবাস ফ্লাইট কেনার জন্য দুটি প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রথমটিতে দুটি কার্গো ফ্লাইট বিক্রির কথা বলা হয়েছিল। আমাদের মনে হয়েছে, আপাতত আমাদের কার্গো বিমান কেনার দরকার নেই। তবে আমরা যাত্রীবাহী বিমান বহর বাড়ানোর ইচ্ছার কথা জানাই। তখন এয়ারবাস আমাদের চারটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট বিক্রির দ্বিতীয় প্রস্তাব পাঠায়। এই প্রস্তাব আগের প্রস্তাবের চেয়ে ভালো ছিল।

সেই প্রস্তাব ইভ্যালুয়েশন কমিটি থেকে বিমানের বোর্ডে যায়। বোর্ড এ বিষয়ে এগোনোর নির্দেশনা দিয়ে নেগোসিয়েশন কমিটিতে পাঠিয়েছে। আমরা এখন এয়ারবাসের অফারগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের বহরের সব বড় এয়ারক্রাফট বোয়িংয়ের (২১টির মধ্যে ১৬টি বোয়িং)। কিছু ডাইভার্সিটি, নতুন এয়ারক্রাফট থাকলে যাত্রীরাও পছন্দ করবে। কোনো সময় যেকোনো কোম্পানির এয়ারক্রাফট খারাপ পারফর্ম করতে পারে, তখন যেন রিস্কে (বিপদে) না পড়ি সে কারণে ডাইভার্সিফাইয়ের কথা ভাবছি।
বোয়িংয়ের প্লেন বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে তিনি বলেন, বোয়িংও আমাদের প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা সেটাও ইভ্যালুয়েট করব। বোয়িংয়ের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক। শুধু প্লেন কেনাবেচা সম্পর্ক না, তাদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট ভালো, ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি ভালো। সবমিলিয়ে আমরা একসঙ্গে ভালোভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তবে যেই এয়ারক্রাফটই কিনি না কেন দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাবে ক্রেতা হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছি।
বিমান আসলে লাভে নাকি ক্ষতিতে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিমান গত ১০ বছরের ৮ বছরই লাভে ছিল। যেই দুই বছর লস হয়েছে, তার মধ্যে এক বছর করোনার আধিক্য ছিল, আরেকবার আমাদের মোটা অঙ্কের পেমেন্ট পরিশোধ করতে হয়েছিল। গত বছর ডলারের সমস্যা ছিল, বিশ্বে দুটি যুদ্ধ চলমান, এর মধ্যেও আমরা লাভ করেছি। বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান দিয়ে অডিট করা হয়েছে আমাদের লাভের বিষয়ে।

আমরা বিমানে নিয়মিত নিয়োগ দিচ্ছি, বেতন দিচ্ছি, বোনাস দিচ্ছি, প্রফিট বোনাস দিচ্ছি। লাভ না হলে এসব টাকা কোথ থেকে আসছে? যারা বলে বিমান লাভে নেই, আমি একটা কথাই বলব আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করুক।
এমডি থাকা অবস্থায় নিজের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, বিমানে চাকরি করা অবস্থায় আমি কোনো কর্মীকে মূল্যায়ন করতে কার্পণ্য করিনি, শাস্তি দিতেও কার্পণ্য নয়। আমি খুব ভাগ্যবান, বিমানবন্দরে কাজ করার সময়ে কোনো পর্যায় থেকে চাপ আসেনি। আমি আমার অথরিটি শতভাগ ব্যবহার করতে পেরেছি। চেষ্টা করলে বিমানকে পৃথিবীর বড় বড় এয়ারলাইন্সের কাতারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। 
আগামী বছরের মধ্যে বিমান বহরে অন্তত আরও দুটো উড়োজাহাজ প্রয়োজন। এয়ারবাস কিছুতেই আগামী ২০২৮ সালের আগে প্লেন ডেলিভারি দিতে পারবে না। তাহলে উপায় কী জনকণ্ঠের এমন প্রশ্নের জবাবে শফিউল আজিম বলেন, আমরা আশাবাদী যে কোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো বিষয় মোকাবিলা করতে পারব। প্লেনও সংগ্রহ করা কোনো ব্যাপার না, যদি বিজনেস রিলেশানটা ভালো হয়।

সবচেয়ে বড় কথা আমাদের রয়েছেন এমন একজন প্রধানমন্ত্রী যিনি যে কোনো পরি্িস্থতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সবই করতে পারেন। অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন। আমরা তো এর আগে দেখেছি দুটো ড্রিমলাইনার কতো সহজে বিশেষ ছাড়ে কিনে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও সাহসী সিদ্ধান্তই যথেষ্ট। কাজেই আমরা আশাবাদী।

এমডি থাকাবস্থায় বিমান নিয়ে কেমন পরিকল্পনা বা স্বপ্ন  ছিল আপনার যা করতে পারেননি এমন প্রশ্নের জবাবে বিদায়ী আজিম বলেন, আমি চাইতাম  বিমান বহরে যদি ৫০টি প্লেন রেখে যেতে পারতাম। তাহলে খুবই ভালো লাগত। অন্তত আমার সময়ে চারটে প্লেনও নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এখনো আছে। তবে কেউ না কেউ এটা হয়তো বাস্তবায়ন করবেন বলে আমি আশাবাদী। 
এর আগে রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্ব দেওয়া হয় মো. জাহিদুল ইসলাম ভূঞাকে। পৃথক এক প্রজ্ঞাপনে শফিউল আজিম পদোন্নতি পেয়ে ইসির নতুন সচিব হয়েছেন।

×