ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় বুদ্ধ পূর্ণিমা পালন

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:২৭, ২২ মে ২০২৪

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় বুদ্ধ পূর্ণিমা পালন

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাজধানীর বাসাবো বৌদ্ধ মন্দিরে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন ভক্তরা

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে বুধবার দেশব্যাপী পালিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা। সম্মিলিত প্রার্থনা, ধর্মীয় মঙ্গল কর্মসম্পাদন, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সম্প্রীতি উৎসবসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়। এ ছাড়া পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণের পরে বৌধিবৃক্ষ মূলে চন্দন জল প্রদানসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন ভক্তরা।
বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বুধবার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের বঙ্গভবনে সংবর্ধনা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষকে আলোর পথ দেখাবেন। দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করুন। শুধু নিজে বা পরিবারকে নিয়ে ভালো থাকার চিন্তা না করে সকলকে নিয়ে ভালো থাকার চিন্তা করবেন। 
বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে শাহবাগে সম্প্রীতি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে উৎসব উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। এ সময় বাংলাদেশ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।
এদিকে শান্তির শোভাযাত্রা শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে শুরু হয়ে রমনা, মৎস্য ভবন ঘুরে পুনরায় শাহবাগ এসে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় দেশের বৌদ্ধ ধর্মের সামাজিক সাংস্কৃতিক ও নানা ধরনের সংগঠনের কর্মী ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন।
ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, বুদ্ধপূর্ণিমায় সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। মহামতি বুদ্ধ আজীবন শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানুষের কল্যাণে সাম্য এবং মুক্তির বাণী প্রচার করেছেন। শান্তি ও সম্প্রীতির মাধ্যমে আদর্শ সমাজ গঠনই ছিল তার একমাত্র উদ্দেশ্য। বুদ্ধের বাণীতে বারবার প্রচারিত হয়েছে অহিংসা, শান্তি, বিশ্বপ্রেম ও মহান মৈত্রীর কথা।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমি দেখেছি অনেক অনুষ্ঠানে আপনারা সবাই ‘বিশ্বের সকল প্রাণী সুখী হোক’ এই কথাটা বলে বক্তব্য শেষ করেন। যাতে করে সবার মধ্যে আমাদের সমতা রক্ষা হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাই। অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া অতিথি, নিরাপত্তা বাহিনী, সাংবাদিক, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, গৌতম বুদ্ধের শান্তি ও অহিংসার বাণী সারা বিশ্বের সব মানুষের জন্য প্রযোজ্য। শুধু তাই নয় বরং এটি পৃথিবীর সকল প্রাণীর জন্যও প্রযোজ্য। বাংলাদেশে বিভক্তির রাজনীতির বিপক্ষে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।
দেশে চমৎকার ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজ করছে- আইজিপি ॥ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, সকল ধর্মের মানুষের মেলবন্ধনে আমাদের দেশে চমৎকার ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজ করছে। বুধবার বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদে নির্ভীকচিত্তে নিজ নিজ ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. আতিকুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মুহিদ উদ্দিন, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সভাপতি প্রকৌশলী দিব্যেন্দু বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয়, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত ধর্মমিত্র মহাথেরো প্রমুখ।

×