ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

নিশ্চিত করেছেন ইসি সচিব

আরও ১৫৮ ইউএনও বদলি, ৩৩৮ ওসির প্রস্তাব অনুমোদন

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৪৪, ৭ ডিসেম্বর ২০২৩

আরও ১৫৮ ইউএনও বদলি, ৩৩৮ ওসির প্রস্তাব অনুমোদন

আরও ১৫৮ ইউএনও বদলি

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আরও ১৫৮ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বদলি করেছে সরকার। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ২০৫ জন ইউএনওকে বদলি করা হলো। পাশাপাশি সারাদেশের ৩৩৮ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।
অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৫৮ জন ইউএনওকে বদলির পৃথক দুটি প্রস্তাব পাঠালে তাতে সম্মতি দেয় ইসি। এর মধ্যে বুধবার ১১০ জন ও বৃহস্পতিবার ৪৮ জন ইউএনওকে বদলির তালিকা ইসিতে পাঠায় মন্ত্রণালয়। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ৪৭ জন ইউএনওকে বদলির অনুমোদন দেয় ইসি। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ২০৫ জন ইউএনওকে বদলি করা হয়েছে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদলের উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণার পর পর্যবেক্ষণে নামে ইসি। পরে তা নিয়ে ইসিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে একই স্থানে থাকা সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে এই স্টেশনে থাকা ওসিদের অন্যত্র বদলি করতে হবে। এর প্রেক্ষিতে ইসি থেকে জনপ্রশান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। চিঠির ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় দুটি থেকে বদলি সংক্রান্ত প্রস্তাব তৈরি করে তা ইসিতে পাঠায়। ইসির অনুমোদনের পর কর্মকর্তাদের বদলির কার্যক্রম চলছে।
প্রথম পর্যায়ে মোট ৪৭ জন ইউএনওকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের আটজন, বরিশাল বিভাগের দুজন, খুলনা বিভাগের চারজন, ময়মনসিংহ বিভাগের ছয়জন, সিলেট বিভাগের ছয়জন, রাজশাহী বিভাগের ছয়জন এবং রংপুর বিভাগের দুই ইউএনওকে বদলি করা হয়। বরিশাল সদরের ইউএনও মনিরুজ্জামানকে পিরোজপুরে ও পিরোজপুর নেছারাবাদের ইউএনও মো. মাহবুব উল্লাহ মজুমদারকে বরিশাল সদরে বদলি করা হয়। কুড়িগ্রাম সদরের ইউএনও রাসেদুল হাসানকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে, আর পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর ইউএনও মো. মুসফিকুল আলম হালিমকে কুড়িগ্রাম সদরে বদলি করা হয়।
নওগাঁর বদলগাছীর ইউএনও মোসা. আলপনা ইয়াসমিনকে পাবনার সাঁথিয়ায় বদলি করা হয়। নওগাঁর সাপাহারের ইউএনও মো. আব্দুল্যাহ আল মামুনকে জয়পুরহাট সদরে, জয়পুরহাট সদরের ইউএনও আরাফাত হোসেনকে পাবনার ভাঙ্গুড়া, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ইউএনও তৃপ্তি কণা ম-লকে নওগাঁর বদলগাছী, পাবনার সাঁথিয়ার ইউএনও মো. মাসুদ হোসেনকে নওগাঁর সাপাহার ও পাবনার ভাঙ্গুড়ার ইউএনও মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বদলি করা হয়।
রাঙ্গামাটি সদরের ইউএনও নাজমা বিনতে আমিনকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে, বান্দরবানের লামার ইউএনও মোস্তফা জাবেদ কায়সারকে রাঙ্গামাটি সদরে, রাঙ্গামাটির রাজস্থলীর ইউএনও শান্তনু কুমার দাশকে বান্দরবানের লামায়, খাগড়াছড়ির পানছড়ির ইউএনও রুবাইয়া আফরোজকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে, কক্সবাজারের পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমাকে চাঁদপুরের হাইমচরে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের ইউএনও এএইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদকে রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের ইউএনও অনজন দাশকে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ও চাঁদপুরের হাইমচরের ইউএনও চাই থোয়াইহলা চৌধুরীকে কক্সবাজারের পেকুয়ায় বদলি করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদরের ইউএনও শামীম ভুইয়া চৌধুরীকে সাতক্ষীরা সদরে, কুষ্টিয়ার কুমারখালির ইউএনও বিতান কুমার ম-লকে যশোরের ঝিকরগাছায়, সাতক্ষীরা সদরের ইউএনও ফাতেমা তুজ জোহরাকে চুয়াডাঙ্গা সদরে ও যশোরের ঝিকরগাছার ইউএনও মো. মাহবুবুল হককে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বদলি করা হয়।
ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জের ইউএনও হাফিজা জেসমিনকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, ময়মনসিংহ তারাকান্দার ইউএনও মিজাবে রহমতকে শেরপুর সদরে, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের ইউএনও ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে, জামালপুর সদরের ইউএনও লিটুস লরেন্স চিরানকে নেত্রকোনার আটপাড়ায়, শেরপুর সদরের ইউএনও মেহনাজ ফেরদৌসকে জামালপুর সদরে, নেত্রকোনা আটপাড়ার ইউএনও মো. শাকিল আহমেকে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় বদলি করা হয়।
কিশোরগঞ্জ ভৈরবের ইউএনও মো. সাদিকুর রহমান সবুজকে টাঙ্গাইলের মধুপুরে, নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ইউএনও ফরিদপুরের ভাঙ্গায়, গাজীপুরের কাপাসিয়ার ইউএনও এ কে এম গোলাম মোর্শেদ খানকে কিশোরগঞ্জ ভৈরবে, কিশোরগঞ্জ সদরের ইউএনও মোহাম্মদ আলী সিদ্দিককে গাজীপুরের কাপাসিয়ায়, কিশোরগঞ্জ পাকুন্দিয়ার ইউএনও রোজলিন শহীদ চৌধুরীকে নরসিংদীর রায়পুরা, গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়ার ইউএনও ফেরদৌস ওয়াহিদকে ঢাকার সাভারে, ঢাকার ধামরাইয়ের ইউএনও হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকীকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে, গাজীপুর শ্রীপুরের ইউএনও তরিকুল ইসলামকে কিশোরগঞ্জ সদরে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ইউএনও তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদকে ঢাকার ধামরাইয়ে, নরসিংদীর রায়পুরার ইউএনও মো. আজগর হোসেনকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া, সাভারের ইউএনও মো. মাজহারুল ইসলামকে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে, টাঙ্গাইলের মধুপুরের ইউএনও শামীমা ইয়াসমিনকে গাজীপুরের শ্রীপুরে ও ফরিদপুরের ভাঙ্গার ইউএনও আজিম উদ্দিনকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বদলি করা হয়।

হবিগঞ্জের বাহুবলের ইউএনও মহুয়া শারমিন ফাতেমাকে ওসমানী নগর সিলেটে, আর ওসমানীনগরের ইউএনও নীলিমা রায়হানাকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে, সিলেটের গোয়াইনঘাটের ইউএনও তাহমিলুর রহমানকে হবিগঞ্জের বাহুবলে, হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের ইউএনও সিদ্ধার্থ ভৌমিককে সিলেটের গোয়াইনঘাটে, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ইউএনও মো. সাজেদুল ইসলামকে সিলেটের জৈন্তাপুর আর জৈন্তাপুরের ইউএনও আল বশিরুল ইসলামকে জগন্নাথপুরে বদলি করা হয়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ২৭১৬টি। যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার সন্ধ্যায় এক হাজার ৯৮৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৩১ জনেরটা অবৈধ বলে ঘোষণা করে ইসি। বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে পরদিন মঙ্গলবার থেকে আপিল গ্রহণ শুরু করে কমিশন। যা চলবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর আপিল নিষ্পত্তি করবে কমিশন। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে আসা এসব ব্যক্তিরা অধিকাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী। এক শতাংশ ভোটার স্বাক্ষর, ব্যাংক ঋণ, হলফনামায় ভুল তথ্য ব্যবহার ও মামলাসহ বিভিন্ন কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

×