ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৪ অক্টোবর ২০২৩, ১৯ আশ্বিন ১৪৩০

পাইকারিতে কিছুটা কমেছে 

আমদানির অনুমতির প্রভাব পড়েনি ডিমের বাজারে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৪২, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩; আপডেট: ১৬:০৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আমদানির অনুমতির প্রভাব পড়েনি ডিমের বাজারে

ডিমের বাজারে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি

ডিমের দাম বেঁধে দেওয়া এবং ভারত থেকে চার কোটি ডিম আমদানির অনুমতির পরও ডিমের বাজারে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে আমদানির খবরে পাইকারি বাজারে ডিমের দাম কমতে শুরু করেছে। রাজধানীর কাওরানবাজারে প্রতি ১০০ ডিম গত দিনের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে। 


খুচরা বাজারে প্রভাব না পড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি করা ডিম বাজারে এলে দাম কিছুটা কমতে পারে। কেউ কেউ এটাও বলছেন, আমদানি করা ডিম চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য। এ ডিম বাজারে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর জন্য শুরুতে চার কোটি ডিম আদমানি করতে চারটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেখানে দেশে প্রতিদিন ডিমের চাহিদা চার কোটি। অর্থাৎ আমদানি করা ডিম দিয়ে দেশের এক দিনের চাহিদা পূরণ হবে।


মঙ্গলবার পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি ১০০টি ফার্মের ডিম এক হাজার ১২৫ থেকে এক হাজার ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সোমবার যা ছিল এক হাজার ১৪৫ থেকে এক হাজার ১৫৫ টাকা। অন্যদিকে, সরেজমিনে রামপুরা হাজীপাড়া ও মালিবাগের বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, আগের দামে বিক্রি হচ্ছে ফার্মের মুরগির ডিম। প্রতি হালি ৫০ টাকা।

পাড়া-মহল্লার দোকানে কোথাও কোথাও ৫২ টাকা দরেও বিক্রি করতে দেখা গেছে ডিম। অথচ সরকার নির্ধারিত দাম হচ্ছে প্রতি হালি ৪৮ টাকা।
সরকার নির্ধারিত দামে ডিম বিক্রি করছেন না কেনÑ এমন প্রশ্নের জবাবে বিক্রেতারা পাইকারি বাজার থেকে কম দামে ডিম কিনতে না পারার কথা বলছেন।


সবুজ ইসলাম নামে এক ডিম বিক্রেতা বলেন, গত (সোমবার) আড়ত থেকে ১০০ পিস ডিম কিনেছি এক হাজার ১৬০ টাকা দরে। তার সঙ্গে অন্যান্য খরচ মিলে ১০০ ডিমের দাম গিয়ে দাঁড়ায় এক হাজার ২১০ টাকা। তার মানে একেকটা ডিমের দাম ১২ টাকা ১০ পয়সা। তাহলে কীভাবে ১২ টাকায় ডিম বিক্রি করব। বেশি দামে কিনে আমরা লোকসান দিয়ে পণ্য বিক্রি করতে পারি না।


আরও কয়েকজন খুচরা ডিম বিক্রেতা জানান, সরকারের দাম নির্ধারণ কিংবা আমদানির খবরের পরেও পাইকারি বাজারে ডিমের দাম সামান্যও কমেনি। বরং বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের কারণে ডিম বিক্রি কমে গেছে এবং সরবরাহেও কিছুটা টান পড়েছে। এমন পরিস্থিতি চললে ডিমের দাম কমবে না বরং বাড়বে।


মালিবাগ বাজারে হোসেন নামে একজন বলেন, আড়তে দাম বেশি থাকার পরও যদি আমাদের ১২ টাকায় ডিম বিক্রি করতে বাধ্য করে তাহলে দোকান বন্ধ করে দেব। কারণ আমরা কিনতে পারছি না, কিন্তু সরকার অভিযান চালিয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।


ডিমের পর আলু ও দেশী পেঁয়াজ বেচাকেনার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা গেল, প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ ৭৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আলুর কেজি ৪৫-৫০ টাকা। যদিও সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম প্রতি কেজি আলু ৩৬ এবং দেশী পেঁয়াজ ৬৫ টাকা।
সরকারের হিসাব বলছে, ডিমের উৎপাদন বেড়েছে।

কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন কম ও চাহিদা বেশি বলেই দাম বেড়েছে। সামান্য ডিম আমদানিই কার্যকর কোনো কৌশল নয়। দাম নির্ধারণ করে দিয়েও লাভ হবে না। প্রান্তিক খামারিদের সহযোগিতা বাড়িয়ে ডিমের উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলছেন তারা।
এর আগে ২০১২ সালের জুনে ডিমের হালি ৪০ টাকায় উঠেছিল। তখন সরকার কিছু ডিম আমদানি করে। তাতেই দাম কমে যায়।


সোমবার বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেছেন, প্রয়োজন হলে আরও ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে। ডিমের বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ডিম দেশে আনতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয়েছে। এসব ডিম সরকার নির্ধারিত দাম প্রতি পিস ১২ টাকার মধ্যে বিক্রি হবে।