ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ছুটির দিনে দর্শকে জমজমাট নাট্যাঙ্গন

​​​​​​​সংস্কৃতি প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:৫২, ৯ জুন ২০২৩

ছুটির দিনে দর্শকে  জমজমাট  নাট্যাঙ্গন

নাটকের দৃশ্য

রাজধানীর থিয়েটার পাড়ায় বইছে  সরব সময়। সেই সুবাদে প্রতি মাসেই এমনকি প্রায় সপ্তাহেও মঞ্চে আসছে নতুন নাটক। বিবিধ বিষয়নির্ভর নাটক নিয়ে মঞ্চে আসছে বিভিন্ন নাট্যদল।  সেই গতিশীল নাট্যচর্চার স্রোতধারায় এই সপ্তাহে দুটি নাট্যদল হাজির হয়েছে দুটির নতুন প্রযোজনা নিয়ে। যারা নিয়মিত মঞ্চনাটক দেখেন তাদের জন্য তাই সময়টি  হয়ে উঠেছে দারুণ উপভোগ্য। শুক্রবার ছুটির দিনে তেমন দৃশ্যের দেখা মেলে বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে সেগুন বাগিচার শিল্পকলা জাতীয় নাট্যশালা আঙিনায়। এদিন সন্ধ্যায় মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মঞ্চে মঞ্চস্থ  হয়েছে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নয়া নাটক অন্তরে বাহিরে চিত্রাঙ্গদা। অন্যদিকে নাট্যালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে পরিবেশিত হয়েছে ভগবান পালিয়ে গেছে শীর্ষক বাতিঘর থিয়েটারের  নতুন প্রযোজনা। এই দুই প্রযোজনাকে কেন্দ্র করে দৃশ্যমান হয়েছে নাট্যপ্রেমীদের সরবতা। সেই বাস্তবতায় দুটি নাটকের প্রদর্শনীই পরিপূর্ণ ছিল দর্শকে। এর মধ্যে সারা যাকের নির্দেশিত নাগরিকের নাটকটির প্রতি ছিল দর্শকের বিশেষ আগ্রহ। উদ্বোধনী মঞ্চায়ন যারা দেখার সুযোগ পাননি তাদের জন্য আজ শনিবার একই ভেন্যুতে নাটকটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী দেখার সুযোগ রয়েছে।

মহিলা সমিতিতে বিকেল থেকেই ভিড় জমে নাট্যানুরাগীদের। তেমনই একজন ধানমন্ডি বাসিন্দা ফারহানা আঞ্জুম। আলাপচারিতায় কর্মজীবী এই নারী বলেন, মঞ্চনাটক আমার কাছে বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ। তাই ছুটির দিনে নতুন নাটক দেখার সুযোগটি হাতছাড়া করিনি। তার ওপর রবীন্দ্র সাহিত্যের নির্যাসে নির্মিত নাগরিকের নাটকÑসব মিলিয়ে বলা যায়, নাটক দেখে কেটে যাবে সুন্দরতম সময়।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রাঙ্গদা কাব্য নৃত্যনাট্য অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের ৪৭তম প্রযোজনা  অন্তরে বাহিরে চিত্রাঙ্গদা। সারা যাকেরের পরিকল্পনা নির্দেশনায় নবরূপে উপস্থাপিত হয়েছে চিত্রাঙ্গদা।  সেই বাস্তবতায় মঞ্চশিল্পীর পরিবর্তে চিত্রাঙ্গদা চরিত্রে রূপ দিয়েছেন নৃত্যশিল্পী ্যাচেল প্রিয়াঙ্কা প্যারিস। অনবদ্য নৃত্যশৈলীর সঙ্গে অভিনয়ের সম্মিলনে উপস্থাপন করেছেন চরিত্রটি। এছাড়াও চিত্রাঙ্গদা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারজানা মুক্তো। আর  চিত্রাঙ্গদার কণ্ঠে উচ্চারিত গানগুলো গেয়েছেন ফারহিন খান জয়িতা। অন্যদিকে অর্জন চরিত্রে রূপ দেওয়া মাহফুজ রিজভীর কণ্ঠে পরিবেশিত গানগুলো গেয়েছেন  রোকন ইমন। পোশাক পরিকল্পনা থেকে কোরিওগ্রাফি কিংবা আলোক পরিকল্পনার বৈচিত্র্যময়তা দর্শককে দিয়েছে নতুন অভিজ্ঞতা।

প্রযোজনাটি প্রসঙ্গে সারা যাকের বলেন, রবীন্দ্রনাথের আমরা অনেকেই মঞ্চে নানা দলকে করতে দেখেছি। কিন্তু আমি চিত্রাঙ্গদার কাব্যনাট্যটি পড়ার মনের ভেতর ভিন্ন এক  রেশ  তৈরি হয়। তাই এতদিন এতদিন ঢাকার মঞ্চে চিত্রাঙ্গদা নৃত্যনাট্য কিংবা কাব্যনাট্য আলাদাভাবে মঞ্চায়িত হলেও আমরা একটু আলাদাভাবে করছি। আমার নির্দেশিত চিত্রাঙ্গদাতে কাব্য অংশ যেমন প্রাধান্য পেয়েছে একইভাবে প্রাধান্য পেয়েছে গানের অংশটি। কাব্যনাট্যটির মাঝে মাঝে সংশ্লিষ্ট গানটি ব্যবহার করেছি। অন্যদিকে আমরা  যেমন নাটকে একটি চরিত্র গড়ে উঠতে দেখি, চরিত্রের দ্বন্দ্বের প্রকাশ  দেখি-এই নাটকে সেটি খুবই স্পষ্ট।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবু নাসের, সন্দীপন দাস, রিংকি নাথ, বিদিশা সাহা, জোবায়দুর রহমান, ওয়াহিদুজ্জামান মিথুন, আনিসুর রহমান, লাবনী বন্যা, ঐশ্বরিয়া মিত্র প্রমুখ। সংগীতায়োজন করেছেন রোকন ইমন। সহকারী নিদের্শকের দায়িত্ব পালন করেছেন নিমা রহমান।  সরোদে সুর ছড়িয়েছেন সূত্রধর অর্জন। তবলা পাখোয়াজ বাজিয়েছেন রাফিউল হক অন্তর। সারা যাকেরের পোশাক ভাবনায় মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন সাজু খাদেম। আলোক পরিকল্পনা করেছেন নাসিরুল হক খোকন। 

অন্যদিকে এদিন শিল্পকলার নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে বাতিঘর থিয়েটার প্রযোজিত ভগবান পালিয়ে গেছে শীর্ষক নাটকের দ্বিতীয় প্রদর্শনী হয়। দলের ১৬তম প্রযোজনাটি  রচনার পাশাপাশি নির্দেশনা দিয়েছেন মুক্তনীল।

×