ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

যুক্ত হবে ১০ অর্থনৈতিক অঞ্চল

এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ৪০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৫৬, ৮ ডিসেম্বর ২০২২

এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ৪০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে বাংলাদেশকে ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)

অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংযোগ সড়ক হিসেবে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে বাংলাদেশকে ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দেশের ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে যুক্ত করতে ঢাকা-ময়মনসিংহ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ৪০০ মিলিয়ন ডলার বা ৪০ কোটি ডলার ঋণ দিবে এডিবি। প্রতি ডলার ১০৫ টাকা ধরে হিসেব করলে ঋণের পরিমাণ ধারায় ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার এডিবির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এসব ঋণের টাকায় দেশের অন্যতম ব্যস্ত অর্থনৈতিক করিডর হিসেবে পরিচিত ঢাকা-জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ এক্সপ্রেসওয়ে সড়ক নির্মাণ করা হবে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

যার মাধ্যমে সড়কটির আশপাশের ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভারি ট্রাক চলাচলে সুবিধা হবে। ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যানজট নিরসন ও সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।
সড়ক বিভাগের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা-জয়দেবপুর চার লেনের সড়ককে এক্সপ্রেসওয়েতে পরিণত করা হবে। যার উভয় পাশে স্থানীয় যানবাহনের জন্য সার্ভিস লেন রাখা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় গাড়ি চলাচলে যেন অসুবিধা না হয় সে দিকটি খেয়াল রাখা হবে বলে জানানো হয়। ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল যুক্ত হলে এ সড়কে ব্যাপক যানবাহন চলাচল শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ঢাকা-জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রুটে ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় এই সড়ককে ১০ লেনের আন্তর্জাতিক মানের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করা হবে। এখনকার চার লেনের পাশাপাশি ১০ ফুট প্রশস্ত করে দুই পাশে ব্যারিয়ার দিয়ে ইমার্জেন্সি লেন নির্মাণ করা হবে, যা দিয়ে শুধু অ্যাম্বুলেন্স, নিরাপত্তা গাড়ি, ভিআইপিসহ যে কোনো জরুরি কাজে নিয়োজিত গাড়ি চলাচল করবে।

এরপর আরও ১৮ থেকে ২৪ ফুট করে স্বল্প গতির যান চলাচলের জন্য আলাদা দুটি করে লেন করা হবে দুই পাশে। সব মিলিয়ে একপাশে পাঁচটি সড়ক লেনসহ দুপাশে ১০ লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দুপাশের অন্য সড়ক থেকে এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে উঠতে ও বের হতে প্রতি ২-৩ কিলোমিটার পর পর আন্ডারপাস ইউটার্ন নির্মিত হবে।
এই সড়কটি দেশের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সংযোগ তৈরি করবে।

২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক এ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত ও টেকসই করতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে পণ্য রপ্তানি বাবদ অতিরিক্ত ৪ হাজার কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এরই মধ্যে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল।
বেজার হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হয়েছে। বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে- মৌলভীবাজারে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জে মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সিটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুন্সীগঞ্জে আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, গাজীপুরে বে অর্থনৈতিক অঞ্চল, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী ড্রাই ডক ইকোনমিক জোন এবং কিশোরগঞ্জে কিশোরগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল। আরেকটি হলো- বাগেরহাটে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল।
বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে ৩৫২ একর জমির ওপর অবস্থিত শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, যার পূর্বে সিলেট, পশ্চিমে হবিগঞ্জ, উত্তরে সুনামগঞ্জ ও দক্ষিণে মৌলভীবাজার জেলা। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ছয়টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ২৩১ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ১৪২ একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বেসরকারি খাতের আরেক অর্থনৈতিক অঞ্চল আবদুল মোনেম ইকোনমিক জোন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়া এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ কোটি ২০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনাঘাটে ৬৮ একর জমিতে গড়ে উঠেছে মেঘনা ইকোনমিক জোন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় মেঘনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠা করা আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন।
‘বে গ্রুপ’-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘বে ইকোনমিক জোন লিমিটেড’। মোট ৬৫ একর জমিতে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গাজীপুর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে গাজীপুর সদর উপজেলায় অবস্থিত। এদিকে সিটি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিটি ইকোনমিক জোন লিমিটেড হচ্ছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ৮১ দশমিক ৮৮ একর জমির ওপর এটি অবস্থিত।

×