ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৯ মার্চ ২০২৩, ১৫ চৈত্র ১৪২৯

শিবচর কাঁঠালবাড়ি শিমুলিয়া রুট

স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ॥ যাত্রীরা অসহায়

প্রকাশিত: ০৪:১৮, ২৩ এপ্রিল ২০১৮

   স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া  আদায় ॥ যাত্রীরা  অসহায়

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর, ২২ এপ্রিল ॥ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শিবচর-কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে স্পিডবোটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রীরা। ঘাটের এই চিহ্নিত সিন্ডিকেটের কাছে তারা অসহায় হয়ে পড়েছে। স্পিডবোট কর্তৃপক্ষের দাবি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এ সব দেখভালের দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারাও অজ্ঞাত কারণে নিশ্চুপ। অবশ্য বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে বিষয়টি অযৌক্তিক দাবি করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। জানা গেছে, সরকার ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি শিবচর উপজেলার কাওড়াকান্দি ফেরিঘাট কাঁঠালবাড়িতে স্থানান্তর করে। এতে এই নৌরুটে পদ্মা নদীর দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ কিলোমিটারের পরিবর্তে ৮ কিলোমিটার। কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়ায় নৌপথের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার কমায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পিডবোট ভাড়া কমিয়ে তখনই ১শ’ ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে কাউন্টারের সামনে ভাড়ার তালিকা টাঙ্গিয়ে দেয় প্রশাসন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা ঢেকে রেখে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে দেড়শ’ টাকা। এছাড়া নিরাপত্তার কথা না ভেবে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের জন্য ১৬ জন যাত্রী ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্পিডবোটগুলোতে দিনে ও রাতে ২৪ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। যাত্রীরা মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করলে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছে। মাঝে মধ্যে যাত্রীদের ভাগ্যে স্পিডবোট শ্রমিকদের কিল-ঘুষিও জোটে। এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা তাদের কাছে শুধু জিম্মিই নয়; একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা বিষয়টি জেনেও অজ্ঞাত কারণে না দেখার ভান করছে। প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রীরা। কোন কোন যাত্রী ক্ষোভের সঙ্গে মন্তব্য করেছেন প্রশাসন কি তাহলে আমাদের মতো ঐ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি ? না কি এর পেছনে অন্য কোন কারণ আছে; যে কারণে তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না ? স্পিডবোটের যাত্রী নুর ইসলাম বলেন, ‘আমার সঙ্গে ছোট দুই ছেলে ও মেয়ে ছিল, ওদের ভাড়াও দিতে হয়েছে। প্রতিবাদ করায় আমাকে নানা ধরনের কটূক্তি শুনতে হয়েছে। পদ্মাসেতু না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই এদের নির্যাতন সহ্য করতে হবে। আমাদের জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি ভাড়া নিলেও প্রশাসন নীরব।’ মাদারীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সিনিয়র ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘প্রায় ৫০ বছর আগে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের যাতায়াতের অন্যতম নৌপথ হিসেবে এই ঘাটটি চালু হয়। আমার জানা মতে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি, ৮৬টি লঞ্চ ও দুই শতাধিক স্পিডবোটে প্রতিদিন ৫০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। অথচ, প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। তবে কি এর সঙ্গে প্রশাসনের লোকজনও জড়িত রয়েছে? এক শ্রেণীর মানুষের লোভের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে।