ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

কাউন্সিল করে আওয়ামী লীগ কিভাবে গতিশীল হয় দেখবে বিএনপি

প্রকাশিত: ০৫:২১, ১৮ অক্টোবর ২০১৬

কাউন্সিল করে আওয়ামী লীগ কিভাবে গতিশীল হয় দেখবে বিএনপি

শরীফুল ইসলাম ॥ দেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল কেমন হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি। এ কাউন্সিলে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের চেয়ে ব্যতিক্রম কি কি হচ্ছে এবং বিদেশ থেকে কোন অতিথি আসছেন কি না সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। এদিকে দাওয়াত পেলে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে যোগ দেবে বিএনপি। সূত্রমতে, জাঁকজমক জাতীয় কাউন্সিলের পর ৫৯১ সদস্যের ঢাউস কমিটি করার পরও বিএনপি রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। যদিও দলীয় হাইকমান্ড মনে করেছিল পদ প্রত্যাশী সবাইকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দিয়ে কমিটি করা হলে তারা নতুন উদ্যমে দলে সক্রিয় হবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখে বিএনপি হাইকমান্ড হতাশ হয়েছে। আর এ কারণেই এখন তারা দেখতে চাচ্ছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ কেমন জাতীয় কাউন্সিল করে এবং কিভাবে দলকে গতিশীল করে। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২২ অক্টোবর থেকে ২ দিনব্যাপী জাঁকজমক আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল করার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রস্তুতি জোরদার করতে প্রতিদিনই মূল দলের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন প্রস্তুতি সভা করছে। এ কাউন্সিলে যোগ দিতে প্রায় ১৫টি দেশের রাজনৈতিক নেতারাও আসছেন। দলের কাউন্সিলরদের তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে এ কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিএনপির মতো ঢাউস কমিটি না করে যোগ্য ও মেধাবী নেতাদের নিয়ে ছোট আকারের একটি কমিটি করবে। নতুন কমিটি সর্বোচ্চ ৮১ সদস্যের হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে ১৯ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপি জাঁকজমকভাবে জাতীয় কাউন্সিল করলেও ওই কাউন্সিলের দিনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে পুনরায় দলের চেয়ারপার্সন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেয়া হলেও মহাসচিবসহ অন্যান্য পদে কারও নাম ঘোষণা না করায় দলটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। তাই আওয়ামী লীগও কাউন্সিলের দিন একই কাজ করে কি না তা পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি হাইকমান্ড। এ ছাড়া বিএনপি জাতীয় কাউন্সিলের সাড়ে ৪ মাস পর দলের ৬৯১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে। তাই আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের কতদিন পর কত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে এবং সে কমিটিতে কাদের স্থান দেয়া হয় তাও দেখতে চাচ্ছে বিএনপি হাইকমান্ড। বিএনপির এবারের জাতীয় কাউন্সিলে কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় কাউন্সিল করলেও আওয়ামী লীগ কিভাবে প্রতিটি ইউনিট থেকে সরাসরি কাউন্সিলর নির্ধারণ করল সেটিও বিএনপি হাইকমান্ডের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। উল্লেখ্য, বিএনপির কেউ রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলে চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কোটায় সরাসরি কাউন্সিলর হিসেবে জাতীয় কাউন্সিলে অংশ নেয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ এবার জাতীয় কাউন্সিলের আগেই প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে রংপুর থেকে এবং তাঁর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ফরিদপুর থেকে কাউন্সিলর করে জাতীয় কাউন্সিলে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানাকে ঢাকা মহানগর উত্তর থেকে কাউন্সিলর করা হয়েছে। জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে এভাবে কাউন্সিলর নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ প্রশংসিত হয়েছে। তাই বিএনপি হাইকমান্ড এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। আরেকটি বিষয় বিএনপি বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কোন কোন দেশের কোন কোন প্রভাবশালী নেতা আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে অংশ নিচ্ছেন। কারণ, বিএনপি বেশ ক’বার জাতীয় কাউন্সিল পিছিয়ে এবং বহু দেনদরবার করেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ছাড়া আর কোন দেশের প্রতিনিধিকে উপস্থিত করতে পারেনি। সেখানে প্রায় ১৫টি দেশ থেকে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে অতিথিরা আসছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে যোগ দিচ্ছে। তাই কিভাবে আওয়ামী লীগ তা করছে এ বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছে বিএনপি। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ জাতীয় কাউন্সিলের পর দলকে সুসংগঠিত করে পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কর্মসূচী পালন জোরদার করবে। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের কারণেই বিএনপিকেও রাজপথে কর্মসূচী পালনে বাধা দেবে না। আর তা হলে বিএনপিও রাজনৈতিকভাবে গতিশীল হওয়ার সুযোগ পাবে। এ কারণেও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের দিকে বিএনপির মনোযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের পর দলের কে কোন পদ পায় এবং কেমন কমিটি হয় সেটিও বিএনপির জন্য পর্যবেক্ষণের বিষয়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন সে বিষয়টির প্রতি তীক্ষè দৃষ্টি রয়েছে বিএনপি হাইকমান্ডের। আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপিকে দাওয়াত দেয়ার কথা থাকলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিএনপির কেউ দাওয়াত পাননি বলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। তবে দাওয়াত দিলেও কোন পর্যায়ের নেতাদের দেয়া হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে বিএনপি। এ ছাড়া কাকে কাকে দাওয়াত দেয়া হয় তা দেখে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ঠিক করে দেবেন কে বা কারা যাবেন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান বলেন, দাওয়াত পেলে আমরা আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে যাব। কিন্তু দাওয়াততো আগে পেতে হবে। একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে আমি আশা করব আওয়ামী লীগের কাউন্সিল শুভ হোক। আরও আশা করব কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন উদ্যমে আওয়ামী লীগ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমিকা রাখবে এবং সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পদক্ষেপ নেবে।