ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

বন্ধ মসজিদের নির্মাণ কাজ, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

জাবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৮:৫২, ১ ডিসেম্বর ২০২৩

বন্ধ মসজিদের নির্মাণ কাজ, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

মানববন্ধন। ছবি: জনকণ্ঠ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ সালাম-বরকত হল ও আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের সমন্বিত মসজিদটির নির্মাণ কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে।

বর্তমানে অস্থায়ীভাবে যে স্থানটিতে মসজিদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে সেখানে দুই হলের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। 

এসব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার জানালেও কার্যত কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একদিকে নির্মাণ কাজে ধীরগতি, অপরদিকে হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মানববন্ধন করেছে দুই হলের শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, দুই হলের সমন্বিত পুরাতন মসজিদটিতে নামাজ আদায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় নতুন মসজিদ নির্মাণের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে নতুন মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তবে শুরুতেই নকশা জটিলতা ও নানা নাটকিয়তায় দুইমাস বন্ধ থাকে কাজ। এরপর মসজিদ নির্মাণ কর্তৃপক্ষ ৭৫০ জনের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মসজিদ নির্মাণের কথা বললেও নকশায় উল্লেখ করা হয় ৫৩৪ জনের। শিক্ষার্থীরা নকশায় ধারণক্ষমতার কারচুপির প্রতিবাদ জানালে আবার বন্ধ হয়ে যায় কাজ। 

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংশোধিত নকশা প্রণয়ন করা হয়। তবে পরিবর্তিত নকশায় নির্মাণ খরচ বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে কাজ বন্ধ থাকে। কাজ পুনরায় চালুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ যথাযথ কতৃর্পক্ষের সাথে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেও সাড়া না পেয়ে গত বছরের ২১ নভেম্বর প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে কাজ শুরু হলেও তা চলে অত্যন্ত ধীরগতিতে। কাজে ধীরগতির ফলে এ বছরের ১৯ আগস্ট ঢালাইয়ের সময় ছাদ ধসের ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তখনও কিছুদিন বন্ধ থাকে নির্মাণ কাজ। পরবর্তীতে পুনরায় কাজ শুরু হয়ে ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হলেও বর্তমানে পুনরায় বন্ধ রয়েছে নির্মাণ কাজ।

এদিকে মসজিদের কাজে ধীরগতি এবং কাজ বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর পুনরায় মানববন্ধন করেছে দুই হলের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা মসজিদের কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবি জানায়। এছাড়া আগামি ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেয়ার হুমকি জানায়।

মানববন্ধনে আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. মূসা বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে হল অফিস, উপাচার্য স্যারসহ প্রকল্প অফিসে গিয়ে মসজিদের কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ করেছি। অথচ কাজ শুরু হয়ে কিছু দিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। শীত ও বর্ষাকালে আমাদের দুই হলের শিক্ষার্থীদের নামাজ পড়া কঠিন হয়ে গেছে। মসজিদের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’

জানা যায় মসজিদটির নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ফরমিলা আক্তার কনস্ট্রাকশন’। মাঝপথে কাজ বন্ধ করে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দাইয়ান বিন শাহজাহান বলেন, ‘আমরা বিল সাবমিট করেছি, বিলের টাকা পেলেই কাজ শুরু করবো। প্রায় এক কোটি টাকার মতো বিল সাবমিট করেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে। কাজের শুরুতে আমাদের প্রিলিমিনারি একটা পেমেন্ট দেয়া হয়েছিল। এখন প্রতি মাসে ব্যাংক ইন্টারেস্ট মিলিয়ে অনেক টাকা লস হয়ে যাচ্ছে। তাই বিলের টাকা না পেলে কাজ শুরু করা আমার জন্য সম্ভব নয়। প্রশাসনের সাথে এ ব্যাপারে অনেকবার কথা বলেছি।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প অফিসের কর্মকর্তা প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ‘টাকা কিছু পেয়েছে। যেই বিল সাবমিট করেছে, তদারক কমিটি সেই বিলের সুপারিশ করেছে। সুপারিশ বাদেও অল্প কিছু টাকা রয়েছে। সেটিও তদারক কমিটি সুপারিশ করবে। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। তারা সম্ভবত ৬৮ লাখের মতো বিল সাবমিট করেছিল। প্রায় ৫০ লাখ টাকার মতো পেয়ে গেছে। তবে সঠিক পরিমাণ একাউন্টস থেকে জেনে বলতে হবে।’

এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এসআর

×