ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

হার না মানা জোবেদা

নুসরাত খানম ঋতু

প্রকাশিত: ০১:৪১, ২ জুন ২০২৩

হার না মানা জোবেদা

জোবেদা বেগম

স্বজন হারালেও টিকে থাকার যুদ্ধে হার না মানা এক নারী হলেন জোবেদা বেগম। নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা তিনি। স্বামী হারান খুব কম বয়সে। তারপর থেকেই তিনি কন্যাকে মানুষ করার জন্য চলতে থাকে তার ক্লান্তিহীন পরিশ্রম। চলে যায় অনেকটা সময়। বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে তিনি মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে যান। হয়ত একদিন তার কষ্ট শেষ হবে, সেই আশায় দিন কাটতে থাকে তার। বড় মেয়ে এসএসসি পাস করার পর মায়ের সংসারের বোঝা হাল্কা করার জন্য স্থানীয় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে তিনি কাজ শুরু করেন। তাতে অনেকটা স্বস্তি পান। তবে সুদিন বোধহয় সবার কপালে সয় না।

চাকরি শুরু করার এক বছর পর তার ফ্যাক্টরি থেকে পিকনিকে যাওয়ার কথা হয় কক্সবাজার। সবার সঙ্গে যাওয়া হলেও, আর ফেরা হলো না তার। দলচ্যুত হয়ে রাস্তায় পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন একটি দ্রুতগতিসম্পন্ন বাস তাকে পিষে দেয়। চলন্ত বাসটিকে ধরতে না পারলেও ধরাধরি করে তার মৃতদেহ পৌঁছানো হয় তার মায়ের কাছে। বড় সন্তান এবং পরিবারের আয়ের উৎস হারিয়ে দিশেহারা হয়ে যান তিনি। কিন্তু জীবন কোনো বাঁধায় থেমে থাকে না। টিকে থাকতে হবে। তাকে আবারও শুরু করতে হবে বাঁচার লড়াই। নিজ এলাকাতেই তিনি একটি ঝুপড়িতে পিঠা বিক্রি শুরু করেন। তাকে সাহায্য করেন। তার বড় ভাই কুদ্দুস।

তারা দুজন চমৎকারভাবে একে অন্যকে সাহায্য করে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের ছোট্ট দোকান। বিকেল পাঁচটা থেকে চলতে থাকে রাত দশটা-এগারোটা পর্যন্ত। তার এই দোকান ঘিরে গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে বিভিন্ন বয়সী মানুষের আড্ডা। শীতকালের সেখানকার প্রচলিত এবং সুন্দর একটা দৃশ্য হলো ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠার চুলার চারপাশে লোকজনের ভিড়। বর্তমানে মেজ মেয়ের বিয়ের পর তার ছোট মেয়ে এবং ভাইকে নিয়ে তিন সদস্যের পরিবার, জীবন থেমে নেই সারাক্ষণ স্বাভাবিক কাজকর্মের মধ্যেই কাটছে তার দিন। আর্থিক অনটন থাকার পরও তারা নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছেন। জীবনযুদ্ধে জয়ী এক নারী। স্বামী-সন্তান হারিয়েও চালিয়ে যাচ্ছে জীবন, আরও একটি মেয়েকে তার জীবনের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে হবে। হাল ছাড়া যাবে না। কারণ, তিনি অপরাজিতা কোনোভাবেই পরাজয় মেনে নেওয়া যাবে না। তাকে জিজ্ঞেস করলে জানা যায় ভালোই আছেন তিনি। রোজগারও হচ্ছে ভালো, তার ভাষ্যমতে,
‘আল্লাহর কৃপায় ভালোই আছি, বেচা-বিক্রি এবং আয়-রোজগার হইতাছে ভালোই, তো মাঝে মধ্যে মাইডার লাইগ্যা খুব পেট পোড়ে।’

×