ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

শীতের মধুরস -টুটুল মাহফুজ

প্রকাশিত: ০৫:৫৪, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

শীতের মধুরস  -টুটুল মাহফুজ

শীতে গ্রাম-বাংলার চিরায়ত দৃশ্য খেজুর গাছে ঝোলানো কলসি। কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখা যায় রসে টইটুম্বুর কলসি নামানো হচ্ছে। এই হলো খেজুরের রস। শীতের সকালে টাটকা খেজুরের কাঁচা রসের স্বাদ পেতে চাইলে গ্রামে যেতে হবে। যেখানে পাওয়া যাবে খাঁটি রস। গাছ থেকে নামিয়ে সঙ্গে সঙ্গে খেতে হবে। সময় যত গড়াবে এর ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়া চলতে থাকে ফলে এর স্বাদ নষ্ট হয় ও অম্লতা বাড়ে। অন্ধকারে এই প্রক্রিয়া কম হয়, কিন্তু দিনের আলোতে গাঁজন বেশি হয়। শীতের সকালে নানা ধরনের পিঠা-পায়েস, মিষ্টান্ন যেমন অবধারিত তেমনি এর সঙ্গে জ্বাল দেয়া খেজুরের রস না হলে যেন চলে না। এই রস দিয়ে তৈরি ঝোলা, দানা, নলেন গুড় যার তুলনা নেই। স্বাদের কথা থাক বরং আজ জানা যাক খেজুরের রসের উপকারিতা সম্পর্কে। খেজুর রসের মান-পরিমাণ প্রকৃতির ওপর নির্ভর করলেও গাছ প্রস্তুতে গাছির দক্ষতা-অভিজ্ঞতারও প্রভাব পড়ে। খেজুরের রসে প্রচুর পরিমাণে খনিজ ও পুষ্টিগুণ থাকে। খেজুর রসের দ্রবীভূত শর্করা থেকে গুড় এবং সিরাপ উৎপন্ন হয়। এতে দ্রবীভূত শর্করার পরিমাণ ১৫-২০%। আখের গুড়ের চাইতে খেজুর গুড় সুস্বাদু, স্বাদে বেশি মিষ্টি ও পুষ্টিকর। খেজুর গুড়ের বিশেষ চাহিদা রয়েছে কেবল এর ঘ্রাণ আর স্বাদের জন্যে। একে প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিঙ্কও বলা হয়। কারণ এতে প্রচুর প্রোটিন, ফ্যাট এবং মিনারেল আছে। খেজুর রসের সিরাপে প্রচুর গ্লুকোজ থাকে। খেজুরের রস কাঁচা এবং গুড় বানিয়ে খাওয়া যায়। গুড় হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে কারণ এতে আয়রন বেশি থাকে। শারীরিক দুর্বলতায় ভুগে থাকলে রস এবং গুড় দুটোই খেতে পারেন, দারুণ উপকার পাবেন। তবে এখানে আরেকটি কথা না বললেই নয়, চিনির পরিমাণ বেশি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের খেজুরের রস খাওয়া উচিত নয়। কিন্তু একজন সুস্থ মানুষের ১/২ গ্লাসের বেশি রস খাওয়া ঠিক নয়। সকালে খালি পেটেও খেজুরের রস খেতে পারেন। দিনের বেলা নয়, খেজুরের রস বা রসের তৈরি বিভিন্ন খাবার সকাল কিংবা রাতে খাওয়া ভাল। সকালে খেলে উপকার পাওয়া যায়। রস খোলা অবস্থায় সংগ্রহ করা হয় বলে এতে জীবাণু থাকতে পারে তাই হাল্কা আঁচে দিয়ে বা ফুটিয়ে খাওয়া উচিত। সতর্ক থাকুন, পোকামাকড়, বাদুড় বা পাখির মুখ দেয়া রস খাবেন না। খাওয়ার আগে যাচাই করে নিন।