ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

গাইডলাইন মেনে পড়লে ভালো করা সম্ভব

চাকরি বাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫০, ১৩ মার্চ ২০২৬

গাইডলাইন মেনে পড়লে ভালো করা সম্ভব

মো. সুলতান মাহমুদ, ৪৪তম বিসিএস মৎস্য

বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে বড় হয়ে বিসিএস ক্যাডার হবেন। মো. সুলতান মাহমুদ স্নাতক পাসের পর সেই স্বপ্নপূরণে নেমে পড়েন। বাবা বেঁচে না থাকলেও তার স্বপ্নকে ধরতে পেরেছেন। ৪৪তম বিসিএসে মৎস্য ক্যাডারে নিজের নাম লিখিয়েছেন।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের ইষ্টগ্রামের ছেলে মো. সুলতান মাহমুদ। বাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াকালীন বাবাকে হারান। বাবার পেনশনই ছিল পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। তাই অষ্টম শ্রেণি থেকেই টিউশন পড়ানো শুরু করেন। স্কুলের শিক্ষকরাও সব সময় পাশে ছিলেন। সুলতান মাহমুদ অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছেন। স্কুলের ‘বেস্ট স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং অধ্যাপক আব্দুল মজিদ কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৎস্য ও সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক পাস করেছেন। স্নাতকোত্তরে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগে।
মো. সুলতান মাহমুদ স্নাতক পরীক্ষা শেষ করেই অ্যাপিয়ার্ড হিসেবে বিসিএসে আবেদন করেন এবং প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হন। পরে সফলতার সঙ্গে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রথম বিসিএসে মৎস্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তিনি বলেন, ‘যখন স্নাতক পর্যায়ে থিসিস নিয়ে কাজ করছিলাম, তখন দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুঃখ-কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমি প্রত্যক্ষ করেছি নদী-নালা, খাল-বিল নষ্ট হওয়ার ফলে তাদের জীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে। তাদের ছেলেমেয়েরা যথাযথ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আকাক্সক্ষা এবং দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার গভীর ইচ্ছা থেকেই বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করি।’
সুলতান মাহমুদের প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির মূলমন্ত্র ছিল লেখা, পড়া, রিভিশন দেওয়া এবং আবার চালিয়ে যাওয়া। প্রস্তুতির শুরুতে প্রতিদিন ৫ জন বাংলা সাহিত্যিক ও ৫ জন ইংরেজি সাহিত্যিক সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত নোট করেছেন। নোটগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়তেন। নিয়মিত রিভিশন দিতেন এবং মনে করার চেষ্টা করতেন। যখন প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ প্রস্তুতি শেষ হয়, তখন জব সল্যুশন এবং মডেল টেস্ট দেওয়া শুরু করেন। সুলতান বলেন, ‘নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ফলে ভুল ও নেগেটিভ মার্ক ধীরে ধীরে কমে আসে। ফলে আল্লাহর রহমতে ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারি। প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভালো বইগুলো থেকে টপিকভিত্তিক নোট তৈরি করি। আন্তর্জাতিক জার্নাল ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকেও তথ্য সংগ্রহ করি। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি বিষয়ে শিট আকারে নোট তৈরি করি। নিয়মিত শিটগুলো রিভিশন দিতাম। পরীক্ষার আগে শুধু শিটগুলো রিভিশন করেই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়- নতুন বই পড়ার প্রয়োজন হয়নি। আল্লাহর অশেষ রহমতে, সহজেই লিখিত পরীক্ষায়ও উভয় ক্যাডারে যোগ্যতা অর্জন করি। এরপর শুরু হয় বিসিএস ভাইভা প্রস্তুতি। ভাইভার জন্য বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিয়েছি। নিয়মিত সংবাদপত্র ও চলতি ঘটনা পড়তাম। মানসিকভাবে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী ও শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।
নতুনদের উদ্দেশ্যে বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘এখন বিসিএস প্রিলিমিনারি অনেক কঠিন। প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। তাই যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যায়, ততই ভালো। যদি এখন থেকেই শুরু করেন, তাহলে বড় অ্যাডভান্টেজ পাবেন। সময়মতো রিভিশন, প্রতিদিন অল্প হলেও নিয়মিত পড়া এবং সঠিক গাইডলাইন মেনে পড়লে প্রিলিতে ভালো করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। প্রিলিতে সাধারণত ২০০ নম্বরের জন্য ১২টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রশ্ন আসে। প্রিলিমিনারির প্রস্তুতির জন্য ১২টি বইকে ৪টি ধাপে ভাগ করে পড়তে পারেন, যা ১২ মাসের পরিকল্পনা। প্রতিটি ধাপে ৩ মাসের জন্য ৪টি করে বই রাখুন। ভালোভাবে একবার করে পড়ে শেষ করুন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করে বেসিক ক্লিয়ার করুন। এবং প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন পুরনো পড়াগুলো রিভিশন দিন। এভাবে পরের ধাপ সম্পূর্ণ করবেন। বিগত সালের প্রশ্ন নিয়মিত চর্চা করুন। প্রতিদিন কিছু লিখিত চর্চাও করা যায়। বিশেষ করে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান, ইত্যাদি। কেউ চাইলে সময় আরও কমিয়ে নিতে পারেন। তবে এ কৌশলের সুবিধা হলো- একবারে অনেক কিছু পড়ার চাপ পড়বে না। সময় ভাগ করে পড়লে মনে থাকবে বেশি দিন। শেষের সময়টায় প্রচুর রিভিশন ও মক টেস্ট দেওয়া সম্ভব হবে। আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ঠিক এভাবে পরিকল্পনা সাজিয়ে নিলে বিসিএস রিটেন এবং ভাইভা দুটোতেই ভালো করা সম্ভব। মনে রাখবেন, প্রচেষ্টা কখনো বৃথা যায় না।
দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান সুলতান মাহমুদ। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান। যাতে তারাও সমানভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের সুযোগ পান। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই মো. সুলতান মাহমুদের মূল লক্ষ্য।

প্যানেল/মো.

×