ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১

কিভাবে নেবেন চাকরির প্রস্তুতি

চাকরি বাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৫৯, ২৪ মার্চ ২০২৩

কিভাবে নেবেন চাকরির প্রস্তুতি

পরীক্ষার প্রস্তুতি যেভাবে নেবেন

পরীক্ষার প্রস্তুতি যেভাবে নেবেন : আমরা জীবনের প্রায় ২০-২৫ বছর পর্যন্ত পড়াশোনা করে থাকি। আর আমাদের সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগে চাকরির জন্য পড়াশোনা করতে। কিন্তু ক্যারিয়ারের জন্য আমরা চাকরির পড়াশোনা করে থাকি। অনেক সময় পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পড়াশোনায় ততটা সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আবার কোনো চাকরি না পেলে মানুষ হতাশায় নিমজ্জিত হয়। এটা ৮০% মানুষের লাইফে হয়ে থাকে। এসব চিন্তা করে আপনাকে ক্যারিয়ারের পরিকল্পনা করতে হবে।

আপনার যদি দীর্ঘ সময় বেকার থাকলেও তেমন কোনো সমস্যা না হয় এবং হাতে যদি ২ বছর বা বেশি সময় থাকে তাহলে আপনি বিসিএস দিতে পারেন। অনেকে ভাবতে পারে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলে অন্য চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি হয়ে যাবে। এটা অনেকটা এমন হলো সমুদ্র পাড়ি দিয়ে, পুকুর পাড়ি দেওয়ার মতো। তবে দুইটার পরিবেশ কিন্তু এক না। বিসিএস এ আপনাকে অনেক পড়তে হবে, সঙ্গে অনেক বেশি মনেও রাখতে হবে।

কিন্তু অন্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে আপনাকে কম পড়তে হবে এবং বেশি মনে রাখতে হবে- এইটাই বড় পার্থক্য। আপনি সমান্য কিছু অধ্যায় যদি পড়াশোনা করে পরীক্ষা দেন, সেটা কেমন হবে আর অনেক অধ্যায় পড়ে পরীক্ষা দিলে সেটা কেমন হবে- এইটাই চাকরির জন্য একটা বড় বিষয়।
শিক্ষক নিয়োগ ও মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আপনাকে সবচেয়ে বেশি অতীতের বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় যে প্রশ্নগুলো এসেছে সেগুলো দেখতে হবে। প্রথমে পরীক্ষার সিলেবাস দেখতে হবে, তারপর সেই অধ্যায়গুলো ভালোভাবে পড়তে হবে এবং অধ্যায়ের শেষে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার যে প্রশ্ন আছে সেগুলো পড়লে এখান থেকে অনেক প্রশ্ন কমন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীদের গণিতে সমস্যা হয়ে থাকে।

সংশ্লিষ্ট গণিতের বই হতে নিয়মিত অনুশীলন করলে ৯০% গণিত কমন পাবেন আশা করি। 
কিভাবে পড়বেন : পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে প্রথমে আপনাকে সিলেবাস দেখতে হবে। এরপর দেখতে হবে বিষয়ভিত্তিক অধ্যায়গুলোতে কী রয়েছে? একদিনে শেষ করা যাবে নাকি বেশি সময় লাগবে? এবার ভাগ করে নিতে হবে কোন অধ্যায় কোনদিন পড়বেন। যে অধ্যায়গুলো পড়বেন সেগুলো ভালো করে পড়ে মনে রাখার চেষ্টা করুন। তারপর শেষ হলে দেখবেন কোন অধ্যায়ের কোন পড়াগুলো ভুলে যাচ্ছেন। সেইগুলো পুনরায় পড়ে নেবেন।
পড়ি, কিন্তু কিছু মনে থাকে না : এই সমস্যাটা সবার। কারণ একদিনে আমরা অনেক পড়াশোনা করি। কিন্তু পড়লেই শুধু হবে না, মনেও রাখতে হবে। না হলে পড়ার কোনো মূল্য থাকবে না। এখানে একটি পরিকল্পনা দেওয়া হলো, আপনি ৭দিন এভাবে পড়ে দেখেন লাভ হয় কিনা।
- প্রতিদিন নিজের মতো করে পড়ার সময় করে নিন। একটা অধ্যায় পড়ে নিজেই ঐ অধ্যায়ের ওপর পরীক্ষা দিবেন, অথবা চোখ বন্ধ করে চিন্তা করবেন কি কি পড়েছেন। যদি কোনো প্রশ্ন এভাবে মনে করতে পারেন, সেটা আর কোনোদিনও ভুলবেন না। তারপর যে প্রশ্নগুলো একদম মনে থাকছে না, সেগুলো লিখে রাখেন এবং বার বার পড়েন আর লিখেন। এভাবে ৭দিন সময় দিয়ে এক অধ্যায় করে পড়াশোনা করে দেখেন কোনো পরিবর্তন আসে কিনা।
- অনলাইন থেকে কিছু কুইজ বের করুন। যেখানে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের ওপর অনেক প্রশ্ন খুঁজে পাবেন। প্রতিটি অধ্যায় শেষ হওয়ার পর সেগুলোর পরীক্ষা দিন। যেসব উত্তর ভুল হবে ওগুলো লিখে রাখুন। এবং পরবর্তীতে সেগুলো আবার ভালো করে পড়ুন, আবার পরীক্ষা দিন। দেখবেন সেগুলো খুব সহজে মনে রাখতে পারছেন।
- অধ্যায়ভিত্তিক পড়া শেষে এবার বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা দিন। বিষয়ভিত্তিকও যখন আপনি শেষ করবেন তখন চাকরির পরীক্ষার আলোকে স্পেশাল মডেল টেস্ট দিতে পারবেন। এভাবে যদি প্রতিদিন পড়াশোনা করতে পারেন, ৬ মাসের মধ্যে দেখবেন চাকরির পরীক্ষার ৮০% অনেক সহজ হয়ে যাবে। ২য়, ৩য় শ্রেণির চাকরিতে আপনি সকল প্রশ্ন কমন পাবেন।
সর্বশেষ কথা : চাকরি একটা বড় প্রতিযোগিতার বাজার। তাই চাকরি করতে চাইলে কম করে হলেও প্রতিদিন এক অধ্যায় পড়বেন। কিন্তু যে এক অধ্যায় পড়বেন সেই অধ্যায় এমনভাবে পড়বেন যেন কোনোদিন ভুলে না যান। বেশি পড়ার সুযোগ থাকলে ২-৩টা বই থেকে অধ্যায়গুলো পড়বেন যাতে কিছু বাদ না যায়। এভাবে ৬ মাস সময় দিলেই দেখবেন আপনার ১৮০টি অধ্যায় পড়া হয়ে যাবে। বেশিরভাগ চাকরির ক্ষেত্রে এতগুলো অধ্যায় নেই। কিন্তু আমরা ৩-৪ বছর শেষেও এই অধ্যায়গুলো শেষ করতে পারি না শুধু সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে। সুন্দর
পরিকল্পনা করে সময় নিয়ে শুরু করুন অধ্যাবসায়। চাকরি নামক সোনার হরিণ, আপনার পছন্দের চাকরিটি হাতের মুঠোয় ধরা দিবেই।
চাকরি বাজার ডেস্ক

×