ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

 শিশুদের নিউমোনিয়া বাড়ছে কেন? 

প্রকাশিত: ১১:১০, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

 শিশুদের নিউমোনিয়া বাড়ছে কেন? 

ছবি: সংগৃহীত

চীনে শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর  উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, সম্প্রতি চীনের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিপুল সংখ্যক শিশু চিকিৎসার জন্য এসেছে। শিশুদের মধ্যে এই শ্বাসকষ্টজনিত রোগের কারণ হিসেবে চীনে করোনা সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়া ও শীতের মৌসুম শুরু হওয়া- এই দুটি বিষয় উঠে এসেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চীনে শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থদের সংখ্যা কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার মতো মারাত্মক নয়। তাছাড়া সাম্প্রতিক ক্ষেত্রে কোনো 'নতুন বা অস্বাভাবিক' রোগজীবাণুও পাওয়া যায়নি।

করোনা সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার পরে বেইজিংয়ে শিশুদের ফ্লু জাতীয় রোগের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২২ নভেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে চীনের কাছে এ বিষয়ে আরও তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে মাস্ক পরা ও টিকা নেওয়ার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফ থেকে আরও তথ্য চেয়ে পাঠনোর পর, চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের (এনএইচসি) কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সিনহুয়ার নিবন্ধে বলা হয়েছে, শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের রোগ নির্ধারণ ও যত্নের দিকে গভীর মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।

পরে ২৩ নভেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, চীন কোনো অস্বাভাবিক বা নতুন রোগজীবাণু শনাক্ত করতে পারেনি ও দেশটির উত্তরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা 'একাধিক রোগজীবাণুর' কারণে হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গত তিন বছরের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবর থেকে চীনের উত্তরাঞ্চলে 'ইনফ্লুয়েঞ্জা’র মতো রোগের প্রকোপ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ও চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মারিয়া ভ্যান করখভ বলেছেন, চীনে দুই বছরের কোভিড-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে শিশুরা এই ধরনের রোগজীবাণু থেকে দূরে ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক অবস্থাকে আমরা প্রাক-মহামারি পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করতে বলেছি। তবে এখন যে ঢেউ দেখা যাচ্ছে, তা ২০১৮-১৯ সালের মতো ব্যাপক নয়।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের মুখপাত্র মি ফেং জানিয়েছেন, শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণুর কারণে, যার মধ্যে প্রধান হল ইনফ্লুয়েঞ্জা জীবাণুর উপস্থিতি ।

চিকিৎসকদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা এটি একটি সংক্রামক রোগ। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, শ্বাসযন্ত্র-সংক্রান্ত রোগগুলো সংক্রামক। কাশি, হাঁচি ও কথা বলার মাধ্যমে এই রোগের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জার বেশকিছু লক্ষণ রয়েছে, যা আপাত দৃষ্টিতে সাধারণ বলেই মনে হয়। যেমন- গলা ব্যথা, কাশি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট, জ্বর। এটি কখনো কখনো আপনা আপনিই ভালো হয়ে যায়। অনেক সময় অ্যালার্জির ওষুধও দেওয়া হয়, কিন্তু নিউমোনিয়ার রূপ নিলে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।

সূত্র: বিবিসি

তাসমিম

×