ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে ॥ চীনের কঠোর হঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রে সাইর যাত্রাবিরতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০১, ৩০ মার্চ ২০২৩

যুক্তরাষ্ট্রে সাইর যাত্রাবিরতি

নিউইয়র্কে সাইর হোটেলের সামনে তাইওয়ান সমর্থকদের ভিড়

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছে যাত্রাবিরতি নিয়ে মধ্য আমেরিকার উদ্দেশে রওনা হলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন। বুধবার নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পরে সাইকে স্বাগত জানাতে তার হোটেলের সামনে সমর্থক ও বিক্ষোভকারীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। 
নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থির সঙ্গে দেখা হয়নি সাইয়ের। ফেরার পথে দুজনের বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের কোনো বৈঠকের ঘোরবিরোধী চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে মধ্য আমেরিকার অন্যান্য মিত্র দেশের পাশাপাশি গুয়াতেমালা ও বেলিজ সফর করবেন সাই। 
ম্যাকার্থির সঙ্গে সাইয়ের সাক্ষাৎ হলে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেজিং। এর জবাবে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টদের এ ধরনের সফরকে নিয়মিত বলে দাবি করছে ওয়াশিংটন। ১৯৯৪ সালের পর থেকে ২৯তম বারের মতো তাইওয়ানের কোনো প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এটি সাইয়ের সপ্তম সফর। তবে আগের সফরগুলো সরকারি বা রাষ্ট্রীয় সফর ছিল না। প্রতিনিধি পরিষদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তার এই সফর আনুষ্ঠানিক বলে গণ্য হবে।

মার্কিন নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, ‘এটি একটি নিয়মিত ঘটনা। তাইওয়ানের অন্য প্রেসিডেন্টরাও যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসেছেন। এখানে অস্বাভাবিক কিছু নেই।’ চীনের তাইওয়ান অ্যাফেয়ার্স কার্যালয়ের মুখপাত্র ঝু ফেংলিয়ান বলেন, সাইয়ের এই সফরকে সমর্থনের মাধ্যমে চীনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখ-তার অবমূল্যায়ন করেছে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, ‘তাইওয়ান প্রশ্নে আগুনের সঙ্গে না খেলার অনুরোধ জানাচ্ছি যুক্তরাষ্ট্রকে।’ ১০ দিনের এই সফর শেষে আগামী ৭ এপ্রিল তাইপে ফিরবেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট। 
যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া চীনের কঠোর তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ দাবি করে আসা চীন এ ধরনের বৈঠকের নিন্দা জানিয়ে আসছে; সাই-ম্যাককার্থি সম্ভাব্য ওই বৈঠকটি হলে তা ‘গুরুতর সংঘাতের’ দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা, জানিয়েছে বিবিসি। এর পাল্টায় যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সাইয়ের সফর নিয়ে বেজিংয়ের মাত্রাতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত নয়। 
‘যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বাভাবিক, ঘটনাহীন যাত্রাবিরতি দেখার আশা করছে,’ বুধবার এমনটাই বলেছেন হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র জন কিরবি। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটা যুক্তরাষ্ট্রে সাইয়ের সপ্তম ‘ট্রানজিট’ বা যাত্রাবিরতি বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে তাইওয়ান প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন। চীনের সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সাই ইং-ওয়েন যদি মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন, তাহলে তার ফল ভালো হবে না। 
চীন চরম ব্যবস্থা নেবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনে চীনের রাষ্ট্রদূত পুরো বিষয়টির দিকে নজর রাখছেন বলে জানানো হয়েছে। কিছুদিন আগেই মার্কিন কংগ্রেসের তৎকালীন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফর করেছিলেন। ওই সফর নিয়েও চীন তুমুল ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। তাইওয়ানের উপকূলে সামরিক মহড়া শুরু করে দিয়েছিল চীন। এবারও তারা তেমন কিছু করতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

×