ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

সিডনিতে মঞ্চস্থ হলো ‘কিত্তনখোলা’

প্রকাশিত: ১৯:৩০, ৩ মার্চ ২০২৪

সিডনিতে মঞ্চস্থ হলো ‘কিত্তনখোলা’

‘কিত্তনখোলা’ নাটক মঞ্চস্থ।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ব্যাংকসটাউনেই ব্রায়ান ব্রাউন থিয়েটারে মঞ্চস্থ হলো সেলিম আল দ্বীন রচিত ‘কিত্তনখোলা’ নাটকটি। শনিবার (২ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ নাটকটি শুরু হয়। বিরতির পর দ্বিতীয় পর্ব শেষ হয় রাত সাড়ে ৯টায়। কানায় কানায় পূর্ণ ছিল ব্রায়ান ব্রাউন থিয়েটারটি সিডনির বিভিন্ন পেশার লোকজনের উপস্থিতিতে।

সিডনিবাসী মুগ্ধ হয়ে অসাধারণ এই মঞ্চ নাকটটি উপভোগ করেন। নাটকটি প্রযোজনায় করেছে সিডনিতে গড়ে উঠা মঞ্চ নাট্যদল ‘সখের থিয়েটার’ এবং সার্বিক নিৰ্দেশনায় ছিলেন শাহীন শাহনেয়াজ। 

‘সখের থিয়েটার’ এর আগে সিডনিতে প্রথম মঞ্চ নাটক ‘কঞ্জুস’ উপহার দিয়েছিল, যা একাধিকবার মঞ্চস্থ হয়েছিল দর্শকদের অনুরোধে। প্রবাসী জীবনে ব্যস্ততার মধ্যে সময় বের করে গ্রামের এতোগুলো চরিত্রকে এক এক করে গড়ে তুলে আনাটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। কেননা সিডনিতে শহরটি অনেক বড় যেখানে বাঙালিরা বসবাস করে দূর দূরান্তে। 

বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিনয় করতে আসা শিল্পীদের টানা কয়েক মাস রিহার্সেল করার পরেই সম্ভব হয় বাংলাদেশের গ্রাম বাংলার সামাজিক কঠিন বাস্তবতার এমন একটি চিত্র মঞ্চে ফুটিয়ে তোলা। আর এই কাজটি বিস্ময়ের ব্যাপার হলেও বাটবে সম্ভব করেছে ‘সখের থিয়েটার’। 

‘কিত্তনখোলা’ বাংলাদেশে মঞ্চস্থ করে আসছেন ঢাকা থিয়েটার। গ্রামের সামাজিক ও পেশাগত বাস্তবতার উপরে ভিত্তি করে নাটকটি লেখা। যেখানে রয়েছে নানা রূপান্তরের নায়ক মৃগী রোগে আক্রান্ত সোনাই। সে কিত্তনখোলা মেলায় এসে সমাজের অভ্যন্তরে বিদ্যমান পেশাগত রূপান্তরের বস্তুগত রূপটি সে প্রথমবারের মত প্রত্যক্ষ করে। 

যাত্রাদলের নায়িকা বনশ্রী বালা, বছির, চালের ব্যবসায়ী গোলাপগাছি প্রত্যেকেই রূপান্তরিত জীবনের মর্মবেদনা বয়ে বেড়াচ্ছে অষ্ট প্রহর। ইদু কন্টাক্টর সামাজিক রূপান্তরের ফসল। সোনাই, বছির, রুস্তম, গোলাপগাছি, বনশ্রী, ডালিমন বঞ্চিত ও রূপান্তরিত জীবনের প্রতিচ্ছবি। জীবনের অর্থ খুঁজতে তারা ব্যস্ত। সহস্র বাঁক পরিবর্তন তারা প্রত্যক্ষ করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবন আসলে কি তারা তা খুঁজে পায় না। আর এই জীবনের পালাকার কে তাও তারা খুঁজে ফেরে। তাদের এই অনুসন্ধান মূলত নাট্যকারেরই অনুসন্ধান। 

ছায়ারঞ্জন চরিত্রে বরাবরের মতো ফুটিয়ে তুলেছেন শাহীন শাহনেওয়াজ, সোনাই চরিত্রে শাকিল চৌধুরী মন কেড়েছেন দর্শকদের, বনশ্রীবাবার ভূমিকায় আফসানা রুচি চমৎকার অভিনয় করেছেন। এছাড়াও সুবল ঘোষের ভূমিকায় সুব্রত সরকার, ইদু কোনোকদাররের চরিত্রে শাওন অরিজিৎ, মালেকের ভূমিকায় মেহেদী হাসান, ডালিমন চরিত্রে মাসহুদা জামান ছবি, বছির বুল্বুল আহমেদ সাজু, মালকা চরিত্রে অফার অর্চি হোসেন, ননীবালা চরিত্রে শাজনীন মাহমুদ সারা, গোলাপ গেছি মো. আক্তার হোসেন, বৃদ্ধা শিরিন আক্তার মুন্নি, গাড়িওয়ালা মেহবুব রানা হিল্লোল, বায়োস্কোপওয়ালা সায়েম হোসেন, জুয়ার মালিক আশিকুর রহমান, ভিক্ষুক জিসান, যাত্রার প্রচারক ও ঔষুধ বিক্রেতা জাকি খন্দকার, গ্রামবাসী সৈয়দ আজিম চঞ্চল, সারাফ, সামিনা এবং শিশুশিল্পী ছুটনীর ভূমিকায় ছিল শামায়লা চৌধুরী। 

সব কয়টি চরিত্র নিখুঁতভাবে ফুঁটে উঠেছে যার যার অভিনয় কৌশল ও দক্ষতা দিয়ে। নাটকটি শেষ করেই শাহীন শাহনেওয়াজ সখের থিয়েটারের প্রতিটি চরিত্রের সাথে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তুলে ধরেন নাটকটি মঞ্চস্থ করার পেছনে দীর্ঘ দিনের অধ্যবসায়ের কথাগুলো। ধন্যবাদ জানান দর্শকদের এবং যারা উৎসাহ যোগান দিয়েছেন নাটকটি বাস্তবায়ন করতে। 

এম হাসান

×