ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকায় শাহ্‌ ফাউন্ডেশনের রমজানের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:২৬, ২৩ মার্চ ২০২৩; আপডেট: ১৪:২৭, ২৩ মার্চ ২০২৩

জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকায় শাহ্‌ ফাউন্ডেশনের রমজানের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। 

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠান শাহ্‌ ফাউন্ডেশন এবার পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকায় ৬ শতাধিক মানুষের মধ্যে রমজান সামগ্রী বিতরণ করেছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শাহ্‌ ফাউন্ডেশন আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি শুধু নিউ ইয়র্কে নয়, মানবতার দিকে সবসময় হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও ভারতে অসহায় মানুষের পাশে সাধ্যমতো দাঁড়িয়েছে শাহ্‌ ফাউন্ডেশন। এর আগে বন্যা, করোনা মহামারি ও শীতার্ত মানুষের পাশে উষ্ণতা নিয়ে হাজির হয়েছে শাহ্‌ ফাউন্ডেশন। এবারেও শাহ্‌ ফাইন্ডেশন পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটস এবং জ্যামাইকায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে।

গত ১৮ মার্চ বিকেলে জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন রেস্টুরেন্ট এবং ১৯ মার্চ বিকেলে জ্যামাইকায় বিতরণ করা হয় ফাতেমা গ্রোসোরির রমজানের খাদ্য সামগ্রী। শাহ্‌ ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর মইনুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং অপর ডিরেক্টর ফাহাদ সোলায়মানের পরিচালনায় এই আয়োজনে অতিথি ছিলেন জ্যাকসন হাইটস এলাকার অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যাটেলিনা ক্রুজ এবং জেসিকা রামোশ গঞ্জালেস। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শাহ্‌ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবাং প্রেসিডেন্ট শাহ্‌ জে চৌধুরী, ডিরেক্টর এবং ব্যবসায়ী একেএম ফজলুল হক, কো ফাউন্ডার হুসনে আরা চৌধুরী, কো ফাউন্ডার সাদিয়া জে চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক নাজমুল আহসান, জেবিবিএর পরিচালক ও ব্যবসায়ী লিটু চৌধুরী, জেবিবিএর কর্মকর্তা শাহ্‌ চিশতি, আড়াং-এর মালিক মোহাম্মদ হুমায়ুন, লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আহসান হাবিব, মেজর (অব.) জালাল, শো টাইম মিউজিকের প্রেসিডেন্ট আলমগীর খান আলম, সাংবাদিক আহমেদ হোসেন দীপু, সাংবাদিক নিহার সিদ্দিকী, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ আজিজুল, জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর নিজামুল হক, সভাপতি শাকিল মিয়া, সোলায়মান পাটোয়ারি প্রমুখ।

অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যাটেলিনা ক্রুজ শাহ্‌ ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এর আগে শাহ্‌ ফাউন্ডেশন মানবতার সেবায় অনেক কাজ করেছি। আমার অফিস থেকেও শাহ্‌ ফাউন্ডশনের কম্বল বিতরণ করা হয়েছিল। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ধর্ম। মানুষের সেবা করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমি সবসময় ভালো কাজের সঙ্গে আছি এবং থাকব। কমিউনিটিতে শাহ্‌ ফাউন্ডেশনের মতো আরও প্রতিষ্ঠান দরকার।

অ্যাসেম্বলিওম্যান জেসিকা রামোস গঞ্জালেস বলেন, শাহ্‌ ফাউন্ডেশন ভালো কাজ করছে। রমজান হচ্ছে আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতার মাস। এই মাসে মানুষ সিয়াম সাধন করে। রোজার মধ্যে অনেকেই দারিদ্রতার কারণে নিজেদের পছন্দের জিনিসপত্র কিনতে পারেন না, সেই কাজটি শাহ্ ফাউন্ডেশন করে দিচ্ছে। আশা করি আগামীতেও তাদের এই সুন্দর কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।

শাহ্‌ জে চৌধুরী বলেন, এই অনুদান আমাদের পরিবারের অনুদান। বিশেষ করে আমার বড় মেয়ে এই প্রতিষ্ঠানের কো ফাউন্ডার এবং সিইও ফৌজিয়া জে. চৌধুরী এই দুটো আয়োজনের পুরো অনুদান দিয়েছে। তা ছাড়া হক এন্ড সন্স তাদের ক্রয়কৃত মূল্যে আমাদেরকে এসব পণ্য সরবরাহ করেছে। তারা কোনো লাভ করেনি। সেই হিসাবে বলা যায় হক সন্সও এর অংশীদার। এটি আমাদের তৃতীয় অনুষ্ঠান। এর আগের দু’বছরও রমজানের সময় আমরা খাদ্য সামগ্রী দিয়েছিলাম। এটি কোনো সহায়তা নয়, এটি আমাদের ভালবাসা। এইভাবেই মানুষকে ভালোবেসে যেতে চাই।

জানা গেছে, খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, মসুরের ডাল, খেজুর, কালা ছানা, তেল, মুড়ি, সেমাই ও মসলা। প্রতিটি বক্সের মূল্যমান ছিল ৫০ ডলার। জ্যাকসন হাইটসে প্রায় তিন শতাধিক মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। 

গত ১৯ মার্চ বিকেলে জ্যামাকাইর ফাতেমা গ্রোসারির সমানে শাহ্‌ ফাউন্ডেশন রমজানের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে। শাহ্‌ ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর একেএম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে এবং জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জে মোল্লা সানির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলম্যান জিম জিনারো, কাউন্সিলওম্যান নাতাশা উইলিয়াম, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এবং মূলধারার রাজনীতিবিদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট শাহ্‌ জে চৌধুরী, কো ফাউন্ডার হুসনে আরা চৌধুরী, প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর মঈনুজ্জামান চৌধুরী, ব্যবসায়ী বিলাল চৌধুরী, রেজাউল করিম চৌধুরী, কামরুল ইসলাম সনি, এনায়েত উল্যাহ সেন্টু, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট এ এফ মিসবাউজ্জামান, ব্যবসায়ী এবিএম ওসমান গনি, আজহার আহমেদ, রীমি ভূইয়া প্রমুখ।

কাউন্সিলম্যান জিম জিনারো শাহ্‌ ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। রমজান এবং ধর্মের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো অসহায় মানুষের সেবা করা। সেই মহৎ কাজটি করে যাচ্ছে শাহ্‌ ফাউন্ডেশন। আমি এই এলাকায় বাংলাদেশিদের বন্ধু। আমি সব সময় বাংলাদেশিদের পাশে আছি এবং আগামীতেও থাকব।

কাউন্সিলওম্যান নাতাশা উইলিয়াম বলেন, শাহ্‌ ফাউন্ডেশনের এই সুন্দর অনুষ্ঠানে আমি আসতে পেরে আনন্দিত। কারণ ভালো কাজের সাথে থাকতে পারা এবং মানুষকে সাহায্য করার মধ্যে বিশেষতত্ব আছে। আর সেই কাজটিই করে যাচ্ছে শাহ্‌ ফাউন্ডেশন। তিনি আগামীতে শাহ্‌ ফাউন্ডেশনের সকল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, শাহ্‌ ফাউন্ডেশন শাহ্‌ জে. চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করলেও এর সঙ্গে আমরাও জড়িত। শাহ্‌ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মানুষের সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করেছেন। সে জন্য শাহ্‌ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শাহ্‌ জে চৌধুরী এবং তার পরিবারকে ধন্যবাদ।

এমএইচ

×