ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

অজান্তেই হার্টের রক্তনালী বন্ধ করছে এই ১০টি ‘হেলদি’ খাবার!

প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ৭ অক্টোবর ২০২৫

অজান্তেই হার্টের রক্তনালী বন্ধ করছে এই ১০টি ‘হেলদি’ খাবার!

‘স্বাস্থ্যই সম্পদ’ এই প্রবাদটি আজ আরও বাস্তব ও প্রাসঙ্গিক। আধুনিক জীবনযাপন থেকে শুরু করে দূষিত পরিবেশ সবকিছুই আমাদের ধীরে ধীরে অসুস্থ করে তুলছে। তাই শরীর ভালো রাখতে আমরা এখন সচেতন হচ্ছি খাবার নিয়েও। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেসব খাবারকে আমরা ‘স্বাস্থ্যকর’ ভেবে খাচ্ছি, সেগুলোর কিছু আসলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে হার্টের রক্তনালিতে চর্বি জমিয়ে দিতে পারে এমন অনেক খাবারই আমাদের দৈনন্দিন ডায়েটে আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, তথাকথিত ‘হেলদি’ খাবারের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ধমনিতে প্লাক জমার বড় কারণ। জেনে নিন এমন ১০টি খাবারের কথা, যেগুলো না জানতেই রক্তনালী বন্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

গ্রানোলা বার
গ্রানোলা বার শুনলেই মনে হয় শক্তি ও পুষ্টিতে ভরপুর। কিন্তু এর পেছনের বাস্তবতা তেমন নয়। বাজারে পাওয়া বেশিরভাগ গ্রানোলা বারে অতিরিক্ত চিনি ও পাম অয়েল ব্যবহার করা হয়, যা শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইড ও প্রদাহ বাড়ায়। এর ফলে রক্তনালী শক্ত হয়ে যায়। সত্যিকার অর্থে পুষ্টি পেতে চাইলে এক মুঠো বাদামই যথেষ্ট।

ফ্লেভারড দই
দই হজমের জন্য উপকারী হলেও ফলের স্বাদযুক্ত দই কিন্তু চিনি ফাঁদ ছাড়া কিছু নয়। স্ট্রবেরি, ম্যাংগো বা ভ্যানিলা ফ্লেভারের ছোট এক কাপ দইয়েও থাকতে পারে মিষ্টির সমান পরিমাণ চিনি। অথচ আমরা তা খাই ‘হেলদি’ ভেবে। সবচেয়ে ভালো বিকল্প হলো সাধারণ টক দইয়ের সঙ্গে টাটকা ফল মিশিয়ে খাওয়া।

ব্রান মাফিন
‘হেলদি মাফিন’ নাম শুনে অনেকেই ব্রান মাফিন বেছে নেন। কিন্তু সত্য হলো, এগুলোতে থাকে প্রচুর পরিমাণ চিনি ও তেল, যা ডোনাটের মতোই রক্তনালী বন্ধ করতে পারে। যদি মাফিন খেতেই চান, তাহলে বাড়িতেই কম চিনি ব্যবহার করে তৈরি করুন।

ফলরস (ফ্রুট জুস)
এটি এমন এক ভুল, যা প্রায় সবাই করে। ফলরসে প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও তাতে ফাইবার থাকে না। ফলে ওজন বেড়ে যায় এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, যা প্লাক জমার অন্যতম কারণ। জুস বাদ দিয়ে সরাসরি টাটকা ফল খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

নারকেল তেল
নারকেল তেলকে অনেকেই ‘হেলদি ফ্যাট’ হিসেবে ভাবেন। কিন্তু এতে প্রায় ৯০ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা মাখনের মতোই খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়। ফলে ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প হলো অলিভ অয়েল, যদিও তা-ও পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে।

ডায়েট সোডা
শূন্য-ক্যালোরি শুনে অনেকে ডায়েট সোডা খেতে অভ্যস্ত। কিন্তু এসব পানীয়তে থাকা কৃত্রিম মিষ্টিকারক হজম প্রক্রিয়া ও ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিনের ক্ষতি করে। এর প্রভাব পড়ে রক্তনালী ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর। পরিবর্তে চিনি ছাড়া চা বা গরম লেবুপানি হতে পারে স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

ক্যানজাত স্যুপ
সহজলভ্য ও সময় বাঁচানোর কারণে অনেকেই ক্যানজাত স্যুপ খেয়ে থাকেন। কিন্তু এসব স্যুপে থাকে অত্যধিক সোডিয়াম, যা রক্তচাপ বাড়ায় ও রক্তনালী সংকুচিত করে। পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে চাইলে বাড়িতেই টাটকা উপকরণ দিয়ে স্যুপ তৈরি করুন।

স্কিম দুধ
কম ফ্যাটের আশায় অনেকেই স্কিম দুধ বেছে নেন। কিন্তু দুধে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট সম্পূর্ণরূপে বাদ যায় না, যা ধমনির স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। এর চেয়ে ভালো বিকল্প হলো উদ্ভিজ্জ দুধ যেমন বাদাম বা সয়াবিন দুধ, যেগুলোতে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে।

সাদা পাউরুটি
প্রাতঃরাশের অপরিহার্য সাদা পাউরুটি আসলে একেবারেই ফাইবারশূন্য। এতে থাকা পরিশোধিত ময়দা দ্রুত রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়, যা সময়ের সঙ্গে রক্তনালীতে চর্বি জমতে সাহায্য করে। ফাইবারসমৃদ্ধ গম বা ব্রাউন ব্রেড হতে পারে অনেক ভালো বিকল্প।

মার্জারিন
অনেকে মনে করেন মার্জারিন মাখনের চেয়ে স্বাস্থ্যকর। কিন্তু বেশিরভাগ মার্জারিনেই থাকে পাম অয়েল, যা স্যাচুরেটেড ফ্যাটে ভরপুর এবং রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ায়। তাই এর পরিবর্তে অলিভ অয়েলভিত্তিক স্প্রেড ব্যবহার করাই নিরাপদ।

সব খাবারই ‘হেলদি’ লেবেল পেলেই তা শরীরের জন্য উপকারী নয়। উপকরণ, চিনি ও তেলের পরিমাণ বুঝে সিদ্ধান্ত নিলেই হৃদ্‌রোগ ও রক্তনালীতে চর্বি জমার ঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্য রক্ষার আসল চাবিকাঠি হলো—সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও পরিমিত জীবনযাপন।


সূত্র:https://tinyurl.com/5n7bcas4

আফরোজা

×