ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বিতর্কের মুখে নেসলে, জানায়নি অতিরিক্ত চিনির কথা

প্রকাশিত: ১৩:২৬, ২০ এপ্রিল ২০২৪; আপডেট: ১৩:৪০, ২০ এপ্রিল ২০২৪

বিতর্কের মুখে নেসলে, জানায়নি অতিরিক্ত চিনির কথা

সেরেলাক। ফাইল ফটো

বিতর্কের মুখে নেসলে সংস্থার পণ্য। এবার শিশুদের খাবার সেরেলাকে অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি। একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে যে সেরেলাক বিক্রি হয়, তাতে অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি রয়েছে। এই প্রথম নয়, এর আগেও বারবার বিতর্কের মুখে পড়েছে নেসলে।

অভিযোগ, বাংলাদেশে নেসলে সংস্থার তৈরি শিশুদের খাবার সেরেলাকে অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি থাকে। যেখানে ব্রিটেন, সুইজ়ারল্যান্ড, জার্মানিতে সেরেলাকে কোন চিনি থাকে না। এই দাবি করেছে ‘পাবলিক আই’-এর একটি প্রতিবেদনে।

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ওবেসিটি-সহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধের জন্য শিশুদের খাবার নিয়ে যে আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা রয়েছে, তা মেনে বাংলাদেশের জন্য সেরেলাক তৈরি করেনি নেসলে। শুধুমাত্র এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলিতেই অতিরিক্ত চিনি মেশানো শিশুখাদ্য বিক্রি করে নেসলে।

যদিও নেসলে সংস্থার এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে শিশুদের সিরিয়ালে চিনির পরিমাণ ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। সে সব খাবারে চিনির পরিমাণ নিয়ে ক্রমাগত ‘পর্যালোচনা’ করা হচ্ছে।

বিবৃতি দিয়ে নেসলে সংস্থা আরও জানিয়েছে, শিশুদের জন্য যে খাবার আমরা তৈরি করি, তার পুষ্টিগুণে আমরা বিশ্বাস রাখি। তাতে উচ্চ মানের উপকরণ ব্যবহারেও জোর দিয়ে থাকি।

রিপোর্টে লেখা হয়েছে, প্রতি বার একটি শিশুকে যত পরিমাণ সেরেলাক দেওয়া হয়, তাতে তিন গ্রাম করে চিনি থাকে। জার্মানি বা ব্রিটেনে ওই একই সেরেলাকে কোনো অতিরিক্ত চিনি থাকে না।

‘পাবলিক আই’-এর সমীক্ষা বলছে, ইথিওপিয়া এবং তাইল্যান্ডে ওই একই পরিমাণ সেরেল্যাকে ছ’গ্রাম চিনি থাকে। রিপোর্টে আরও দাবি, নেসলে সংস্থা তাদের পণ্যে ভিটামিন, মিনারেল, অন্য উপাদানের কথা প্রকাশ করলেও অতিরিক্ত চিনির কথা জানায়নি।

২০২১ সালে বিতর্কের মুখে পড়ে নেসলে সংস্থা। অভিযোগ, সংস্থার তৈরি খাদ্য, পানীয়ের মান ভাল নয়। নিয়ামক সংস্থার মাপকাঠিতে পাশ করেনি সেগুলি। সংস্থা মেনে নেয় যে, তাদের ৬০ শতাংশ শিশুখাদ্য, নরম পানীয়, কফি, পোষ্যের খাদ্য স্বাস্থ্যকর নয়।

নেসলে সংস্থার তরফে দাবি করা হয়, তাদের তৈরি খাবারের পুষ্টিগুণ পর্যালোচনা করা হবে। গত সাত বছরে সংস্থার তৈরি খাদ্যপণ্যে চিনি এবং সোডিয়ামের মাত্রা ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে।

১৯৭৭ সালে আমেরিকায় বিতর্কের মুখে পড়েছিল নেসলে সংস্থা। অভিযোগ উঠেছিল, নিজেদের তৈরি ফর্মুলা দুধ বিক্রির জন্য স্তন্যপান করাতে মায়েদের নিরুৎসাহ করেছে। এই কারণে আমেরিকার পর ইউরোপেও বয়কট করা হয় নেসলের পণ্য। ১৯৮৪ সালে নেসলে জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-র জারি করা নীতি মেনে পণ্য বিক্রি করবে তারা। তার পরেই উঠে যায় বয়কট।

আইভরি কোস্টে নেসলের কোকো প্রস্তুতকারী সংস্থায় শিশু শ্রমিকদের নিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে একটি সংগঠন। ২০২১ সালে সেই নিয়ে হইচই শুরু হয়। ২০২২ সালে প্রমাণের অভাবে মামলাটি খারিজ করে আমেরিকার ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট।

নেসলে সংস্থার প্যাকেজিং এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে অনেক প্রশ্ন। অভিযোগ, প্লাস্টিক দিয়ে মোড়া হয় খাবার। খাওয়ার পর সেই প্যাকেট জঞ্জালের স্তূপে জমা হয়। দূষণ বৃদ্ধি করে। সংস্থার দাবি, ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের পণ্যের প্যাকেটের ৯৫ শতাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হবে। যদিও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির দাবি, বাস্তবে এ রকম কিছু করা হয়নি।

পাকিস্তানে অভিযোগ উঠেছ, এই সংস্থা নিজেদের পণ্য উৎপাদনের জন্য অতিরিক্ত মাত্রায় ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করেছে।  ফলে ভূগর্ভস্থ জলের মাত্রা নেমে নিচে নেমে গেছে। ফরেন্সিক অডিট করে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, সংস্থাটি পানি অপচয় করেছে। তার পরেই পাকিস্তানে নেসলে সংস্থার জল ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

 এসআর

×