ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১

 কিভাবে হাড় ক্ষয় রোধ করবেন

ডা. মো. বখতিয়ার

প্রকাশিত: ০১:২৮, ৬ জুন ২০২৩

 কিভাবে হাড় ক্ষয় রোধ করবেন

অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয় বলতে শরীরের হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়াকে বোঝায়

কিভাবে বুঝতে পারবেন
অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয় বলতে শরীরের হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়াকে বোঝায়। এতে হাড় অনেকটা মৌচাকের মতো হয়ে যায়। এতে হাড় ঝাড়রা বা ফুলকো হয়ে যায়। এতে হাড় অতি দ্রুত ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মারাত্মক হাড় ক্ষয়ে হাঁচি বা কাঁশি দিলেও তা ভেঙে যেতে পারে।
কত বছরে বুঝতে পারবেন
৫০ বছর পেরুবার পর থেকে শরীরের হাড় ক্ষয় বা এর লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। কারও কারও আগেও হয়।
যাদের ক্ষেত্রে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি তাদের দ্রুত হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। নারীদের পিরিয়ডের পর হাড় ক্ষয়ের হার বেড়ে যায়।
উপসর্গ
প্রথমত, কোনো শারীরিক লক্ষণ না-ও থাকতে পারে। কোমরে বা পিঠে বা অন্য কোথাও ব্যথা, বিশেষ করে তা ব্যথানাশকে কমছে না, এমন চরিত্রের। কারও কারও দৈহিক উচ্চতা কমে থাকবে, কুঁজো হয়ে যাওয়া বা সামনে ঝুঁকে থাকা। তবে সংগোপনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হলো, মেরুদ-ে ফাটল বা চিড় ধরা এবং ঠুনকো আঘাতেই হাড় ভাঙা।
কাদের হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি?
অসংশোধনযোগ্য ঝুঁকি বয়ঃবৃদ্ধি, স্ত্রী লিঙ্গ, জিনগত ত্রুটি, অপারেশনের কারণে ডিম্বাশয় না থাকা হায়পোগোনাডিজম (পুরুষ ও নারীর), অতি খর্বাকৃতি সংশোধনযোগ্য ঝুঁকি, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ধূমপান, অপুষ্টি ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, কে ইত্যাদি।
ক্ষীণকায় দৈহিক আকার, আমিষনির্ভর খাদ্যাভ্যাস বেশি বয়সে অতিরিক্ত চা/কফি/চকোলেট গ্রহণের অভ্যাস, খাদ্যে বা বাতাসে ভারি ধাতু কোমল পানীয় ও মদ্যপান। যারা দীর্ঘদিনের অচল, যারা দীর্ঘদিন স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন করেন, তাদের হতে পারে। অন্যান্য হরমোনজনিত রোগÑ হাইপারথাইরয়িডিজম, হাইপারপ্যারাথাইরয়িডিজম, কুসিং সিনড্রোম, ডায়াবেটিস, অ্যাডিসন রোগ, রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস, এসএলই, কিডনি অকার্যকারিতা ইত্যাদি।
চিকিৎসা কখন? 
এ রোগে প্রধান ও প্রথম পদক্ষেপ হবে ঝুঁকি শনাক্তকরণ, সম্ভব হলে তা রোধ করা।
এরপর বেশ ওষুধ পাওয়া যায় যেগুলো চিকিৎসকের পরামর্শে গ্রহণ করা যেতে পারে।
যেহেতু হাড় ক্ষয় (অস্টিওপরোসিস) একবার হলে আর রিকভারের সম্ভাবনা থাকে না, তাই একে আগেভাগেই রোধ করার জাতীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি নিতে হবে। এর অংশ হিসেবে কারা কতটুকু ঝুঁকিতে আছেন বা কারা ইতোমধ্যেই হাড় ক্ষয়ে ভুগছেন, তা নির্ধারণ করতে হবে এবং উপযোগী চিকিৎসা নির্বাচন ও প্রয়োগ করতে হবে।
কিভাবে হয় হাড় ক্ষয় রোধ?
অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোগ একটি নীরব ঘাতক, যার জন্য প্রতিরোধের চেয়ে প্রতিকার উত্তম।
১. নিয়মিত ব্যায়াম করুন : নিয়মিত ব্যায়ামে হাড়ের শক্তি বাড়ে। এতে হাড়ের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে জয়েন্টগুলো সচল রাখে। শরীরের ভারসাম্য ঠিক রেখে হাড় ক্ষয় কমায়।
২. নিয়মিত পরিমাণমতো ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-জাতীয় খাবার খান-
হাড়ের প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি। ক্যালসিয়ামের জন্য নিয়মিতভাবে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও দুধ জাতীয় খাবার খান।
ভিটামিন ডি-এর ৯০ ভাগ উৎস হচ্ছেÑ সূর্যের আলো। তাই প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সূর্যের আলোতে থাকুন, পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ খান। এতে হাড় ভালো থাকবে।
৩. ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুন। কারণ, এতে হাড়ের ক্ষয় বৃদ্ধি করে।
৪. ডায়াবেটিস, লিভার, কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৫. হাড় ভাঙা রোধে বাথরুমের পিচ্ছিল ভাব দূর করুন।
৬. রাতে ঘরে মৃদু আলো জ্বালিয়ে রাখুন। অন্ধকারে চলাফেরা করবেন না।
৭. অতিরিক্ত ওজন বহন করবেন না। ৮. বহন করলেও দুই হাতের ব্যালেন্স যেন থাকে। তবে এসব বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে করা উচিৎ। 

লেখক : জনস্বাস্থ্যবিষয়ক লেখক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, খাজা বদরুদদোজা মডার্ন হাসপাতাল। সফিপুর, কালিয়াকৈর, জেলা- গাজীপুর।
প্রয়োজনে- ০১৭১১-৩৬০-৯০৭

×