ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১

স্ট্রেচমার্ক নারী ও পুরুষের সাধারণ সমস্যা

ডা. জাহেদ পারভেজ

প্রকাশিত: ০১:১৪, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

স্ট্রেচমার্ক নারী ও পুরুষের সাধারণ সমস্যা

গর্ভকালীন সময়ে অনেক হবু মায়েরই ত্বকে স্ট্রেচমার্ক দেখা দেয়

গর্ভকালীন সময়ে অনেক হবু মায়েরই ত্বকে স্ট্রেচমার্ক দেখা দেয়। সন্তান ধারণের ফলে ত্বকে এক ধরনের সাদাটে দাগ দেখা দেয়। দেখতে খারাপ লাগা ছাড়া এই দাগের কোনো পার্শ¦প্রতিক্রিয়া নেই। স্ট্রেচমার্ক শুধু তলপেটেই দেখা দেয় এমনটা নয়। পেট, থাই, বুক, লোয়ার ব্যাক-অর্থাৎ শরীরের যে যে অংশে বেশি ফ্যাট জমা থাকে সেখানেই স্ট্রেচমার্ক দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। শুধু মেয়েদের নয় পুরুষদেরও স্ট্রেচমার্ক হতে পারে।
তা কেন হয়
এই সমস্যা মূলত বাড়তি ওজনের কারণে হয়। শরীরের আয়তন বেড়ে গেলে ত্বক বাড়তি আয়তন ঢাকতে প্রসারিত হয়। ফলে এই দাগের সৃষ্টি হয়। আমাদের ত্বকের মধ্যে যে একটা টান টান ভাব থাকে তা কোলাজেন নামে এক তন্তু বা ফাইবারের কল্যাণে। এই কোলাজেন তন্তু ঠিকমতো তৈরি হতে না পারলে বা ভেঙে গেলে এই ধরনের দাগ দেখা যায়। সেক্ষেত্রে আদতে ত্বকের অন্তঃস্তর দুর্বল হয়ে যায় ও ফেটে ফেটে যায়। চামড়ায় অতিরিক্ত স্টেরয়েড ক্রিম লাগালে বা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির গোলমালের কারণেও অতিরিক্ত স্টেরয়েড বেরলে কোলাজেন তন্তুর সমস্যা হয়।
সাধারণত প্রেগন্যান্সির বিশ সপ্তাহের মাথায় এই স্ট্রেচমার্ক দেখা দেয়। এই সময় স্বাভাবিকভাবে একজন নারীর ওজন প্রায় ৯ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর পর প্রতি সপ্তাহে আধা কেজি করে ওজন বাড়ে। হঠাৎ করে এতো ওজন বেড়ে যাওয়া এবং বাড়তে থাকার ফলে প্রেগন্যান্সির থার্ড ট্রাইমেস্টার থেকে স্ট্রেচমার্ক দেখা দেয়।
এটা সব প্রেগন্যান্ট নারীদেরই হতে পারে। যদিও অনেকে মনে করেন ওজন কম হলে স্ট্রেচমার্ক  হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। প্রেগন্যান্সির সময়ও শরীর খুব বেশি মোটা হয় না। কিন্তু এই ধারণা ভুল। প্রেগন্যান্সির সময় অপেক্ষাকৃত কম ওজনের নারীদেরও ত্বক আর টিস্যু ভেতর থেকে ফেটে যায়। পরে অনেকের ক্ষেত্রে ঠিক হয়ে যায় আবার অনেকের ক্ষেত্রে দাগ থেকে যায় আর তা দেখতে খারাপ লাগে। পুরুষদের ওজন অধিক্যর কারণে এমনটা হয়।
এই সময়টায় বিশেষভাবে পেটের ত্বকের একটু আলাদা যতœ নিতে হবে। প্রেগন্যান্সির সময়টাতে চেষ্টা করতে হবে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ত্বকের যতেœ ভিটামিন ই-সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া। মাছ, পালং শাক, বাদাম, কুমড়োর বিচিতে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়। এছাড়া ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফলও খেতে পারেন। টমেটো খাবেন অবশ্যই। এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করবে। ত্বক আর টিস্যু খুব তাড়াতাড়ি সেরে উঠবে।

দিনে অন্তত দুবার নিয়ম করে ময়েশ্চারাইজার বা অলিভওয়েল ব্যবহার করুন। নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন। এতে রক্তচলাচল ভালো হবে, স্ট্রেচমার্ক  কম পড়বে। তবে এক্সারসাইজ করুন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। এছাড়া স্ট্রেচমার্ক এড়াতে ত্বক বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিয়ে ট্রেটিনয়েন জাতীয় ওষুধও মাখতে পারেন 
চিকিৎসা :
স্ট্রেচমার্কের চিকিৎসা বের হয়েছে। ত্বক বিশেষজ্ঞরা ডার্মারোলার বা মাইক্রোনিডলিং নামক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এতে প্রথমে লোকাল অ্যানাস্থেটিক ক্রিম লাগিয়ে কিছুটা ত্বক অবশ করে রোলারটিকে চামড়ায় বোলানো বা ঘষা হয়। এতে মরা চামড়া দূর হয় ও নতুন কোষ জন্মগ্রহণ করে, রক্তচলাচল বৃদ্ধি পায় এবং স্ট্রেচমার্ক  গঠন প্রতিহত করে। এর ফলে চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে কিছু কোলাজেন নতুন করে তৈরি হয়। এতে স্ট্রেচমার্ক  পুরোপুরি চলে না গেলেও উন্নতি ঘটে।

সর্বাধুনিক ফ্র্যাকশনাল কার্বন ডাই অক্সাইড লেজার পদ্ধতিতেও খুব ভালো কাজ হয়। এতে লেসার রশ্মি ডারমিস বা অন্তঃস্তরে ঢোকে ও নতুন কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। প্রেগন্যান্সির পরের স্ট্রেচমার্কেরও অনেকটাই উন্নতি হয়। অনেক সময় স্ট্রেচমার্ক  দূর করতে সার্জারিও করা হয় কারণ পূর্ববর্তী অস্ত্রোপচারের পরে শরীরে খুব চওড়া দাগ তৈরি হয় এবং ভেতরের চর্বিস্তর ফুলে বের হয়ে আসে। সে ক্ষেত্রে পুনরায় সার্জারি করে দাগটি সরু করে দেওয়া যায়।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ত্বক, চর্ম যৌন ও ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগ) শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হাসপাতাল।  
যোগাযোগ- ডাঃ জাহেদস এন্ড হেয়ার স্কিনিক, হাসপাতাল। গ্রীন রোড, পান্থপথ মোড়, ঢাকা। 
০১৫৬৭-৮৪-৫৪-১৯, ০১৭৩০-৭১-৬০-৬০

×