ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১

সংস্কৃতি সংবাদ

বর্ণিল পরিবেশনায় ওয়ানগালা নৃত্য কর্মশালার সমাপ্তি

সংস্কৃতি সংবাদ

প্রকাশিত: ২৩:৪৪, ২৩ মার্চ ২০২৩

বর্ণিল পরিবেশনায় ওয়ানগালা নৃত্য কর্মশালার সমাপ্তি

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে গারো সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় ওয়ানগালা নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা

চৈত্রের রোদেলা দুপুরে ভেসে বেড়ায় মন উচাটন করা বাঁশির সুর। মায়াবির সেই সুরের সঙ্গী হয় হৃদয়ে চঞ্চলতা ছড়ানো ঢোলের বাদন। আর সেই সুরেলা শব্দধ্বনির মোহময়তার মাঝে একসঙ্গে মঞ্চে আসেন একঝাঁক নৃত্যশিল্পী। মাথায় পালক বাঁধা রঙ্গিলা পোশাকের সেসব শিল্পীর আবির্ভাবে বদলে যায় দৃশ্যচিত্র। রাজধানীর ঢাকা যেন হয়ে ওঠে এক খণ্ড পাহাড়ি জনপদ।

নাচিয়েদের হাত ও পায়ের কারুকার্যময় মুদ্রার সঙ্গে অভিব্যক্তির সম্মিলনে উদ্ভাসিত হয় পাহাড়ি জীবন ও সংস্কৃতি। বৈচিত্র্যময় সেই নাচের উপস্থাপনে উঠে আসে জুম চাষের করণকৌশল থেকে পাবত্য ঝিরি থেকে জল সংগ্রহের তৎপরতা। জীবনের প্রতিধ্বনিময় সেই পরিবেশনায় নানা কিছুর সঙ্গে শত্রুকে মোকাবিলার কৌশলটিও উপস্থাপিত হয়। বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে পরিবেশিত হয় গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা নৃত্য।

শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ওয়ানগালা নৃত্য কর্মশালা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫০ জন্য শিল্পীর সম্মিলনে সজ্জিত ছিল ১৬ মিনিট ব্যাপ্তির প্রযোজনাটি। চারদিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এটি পরিবেশিত হয়।    
গারোদের সবচেয়ে বড় উৎসবটি হচ্ছে ওয়ানগালা বা নবান্ন উৎসব। ওয়ানগালা মানে হলো সৃষ্টিকর্তার নামে জুম থেকে উৎপাদিত প্রথম ফসল উৎসর্গ করা। এই ওয়ানগালা উৎসবের মাধ্যমে গারোরা তাদের প্রধান দেবতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে । প্রকৃতি পূজারী গারোদের বিশ্বাসমতে, এই দেবতাই সময়মতো রোদ-বৃষ্টি ও ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে সমৃদ্ধ রাখেন প্রকৃতিকে।

তাই ওয়ানগালা উৎসবের মাধ্যমে গারোরা বিভিন্ন ধরনের নৃত্য পরিবেশন করে থাকে। তবে সময়ের আবর্তে চর্চা ও পৃষ্ঠপোষকতার ইতোমধ্যে লুপ্ত হয়েছে ওয়ানগালা নৃত্যের অনেকগুলো ধারা। সেই বাস্তবতায় ওয়ানগালা নাচের বিভিন্ন আঙ্গিক পুনরুদ্ধার করে তা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ১৯ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত চারদিনের এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। 
অনুষ্ঠানের শুরুতেই চিত্রশিল্পী কনক চাঁপা চাকমাসহ বিভিন্ন শিল্পীর আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে গারোসহ ৫০টি ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের ওপর নির্মিত ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়। এরপর গারো সম্প্রদায়ের দেশাত্মবোধক গানের নৃত্য পরিবেশিত হয়। ‘এসো সবাই, নারী পুরুষ নির্বিশেষে যত ভেদাভেদ আর গ্লানি ভুলে আমরা এক হই’ শিরোনামের মান্দি ভাষার গানের সুরে পরিবেশনাটি উপস্থাপন করেন প্রখ্যাত গারো নৃত্যগুরু মালা মার্থা আরেং এবং সহযোগী প্রশিক্ষক প্রভাতী রাংসা। নৃত্যশিল্পী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি এ নৃত্য পরিবেশন করেন। এই পরিবেশনা শেষে কর্মশালায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিল্পীদের সনদপত্র প্রদান করা হয়।

×