ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

বৈরী আবহাওয়ায় কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হাবিপ্রবির শস্য শুকানোর যন্ত্র

হাবিপ্রবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৯:৩৫, ১২ জুন ২০২৪

বৈরী আবহাওয়ায় কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হাবিপ্রবির শস্য শুকানোর যন্ত্র

শস্য শুকানোর যন্ত্র

রোদ নেই, মেঘলা আকাশ, বৃষ্টির মধ্যেও শস্য শুকানো থেমে নেই রিচ ফিড এন্টারপ্রাইজ। দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায় অবস্থিত এই মিলে রাতেও চলে ধান শুকানোর কাজ। এই মিলে যেকোনো আবহাওয়ায় শস্য শুকায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত মাল্টি ক্রপ ড্রায়ার। বৈরী আবহাওয়ায় ধান শুকানোর জটিলতা থেকে এই অঞ্চলের কৃষকদের মুক্তি দিয়েছে এই উদ্ভাবনী যন্ত্রটি। এখানে চাতালের থেকেও কম খরচে ও কম সময়ে ধান শুকাচ্ছে কৃষকেরা। এর ফলে ধান কাটার পরেই ন্যায্য দামে বিক্রি অথবা মজুদ রাখতে পারছে কৃষক।

এই বৈরী আবহাওয়ায় ধান শুকাতে আসা কৃষকেরা জানায়, আমরা ধান কাটার পরেই চাতালের থেকে কম খরচে মাত্র কয়েক ঘন্টায় ধান গুলো শুকিয়ে নিতে পারছি। এই যন্ত্র আমাদের বিপদের বন্ধু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেজা মৌসুমে ধান শুকিয়ে বিক্রি করলে ন্যায্য দাম পাচ্ছি। এর আগে ধান কাটার পর এই ধান কেউ নিতে চাইত না। বিক্রি করলেও আশানুরূপ দাম পাওয়া যেত না। তাছাড়া ধান সংরক্ষণ ও করতে পারতাম না।

বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ টনেরও বেশি ধান শুকানো হচ্ছে এই যন্ত্রের মাধ্যমে। এই বর্ষা মৌসুমে কৃষকের সদ্য কাটা ধান শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মিল কর্মচারীরা।

হাবিপ্রবি উদ্ভাবিত মাল্টি ক্রপ ড্রায়ার অপারেটর ঠাকুর জানায়, বর্তমানে আমরা অনেক ব্যস্ত সময় পার করছি। কৃষকেরা ধান নিয়ে আসছে আমরা শুকিয়ে দিতে হিম শিম খাচ্ছি। আকাশ মেঘলা ও আবহাওয়া বৈরী হওয়ার কারণে চাপ আরো বেড়েছে। ড্রায়ারটি দিয়ে আমরা ৩ ঘণ্টায় ১৮ টন ধান শুকাতে পারছি। বর্তমানে দুই শিফটে ধান শুকানোর কাজ চলছে।

রিচ ফিড এন্টারপ্রাইজ মিলের ম্যানেজার মো. আশরাফুল বলেন, ড্রায়ারটি অনেক জ্বালানি সাশ্রয় এবং অনেক কম দামে কম সময়ে আমরা কৃষকদের শস্য শুকিয়ে দিতে পারছি। আমরা মূলত ধানের গুড়া বা ভূষি টা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করি যার ফলে এটা জ্বালানি সাশ্রয়ী।

শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে পেটেন্ট প্রাপ্ত হাবিপ্রবির এই ড্রায়ারটি উদ্ভাবন করেছেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাত হোসেন সরকার, বর্তমানে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. হাসান তারেক মন্ডল ও তাদের গবেষক দল। দীর্ঘ গবেষণায় কৃষকের জন্য কিছু করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন সরকার।

তিনি বলেন, আমার নেতৃত্বে উদ্ভাবিত ও পেটেন্ট প্রাপ্ত এইচএসটিইউ মাল্টি ক্রপ ড্রায়ারটি লাভ জনক ভাবে এই মৌসুমেও মাত্র ৬০ পয়সা প্রতি কেজিতে কৃষকদের ধান শুকিয়ে দিচ্ছে চাতালের চেয়েও কম সময়ে। এদেশের মানুষ ম্যাশিন বান্ধব নয় তাই নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে মানুষের অভ্যস্ত হতে একটু সময় লাগছে। তবে এই অঞ্চলে কৃষকদের কাছে এই যন্ত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামনে কয়েক বছরে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। এই যন্ত্রের সম্প্রসারণে আমাদের দেশের চাতাল ও মিল গুলোকে শ্রমিক নির্ভর থেকে যন্ত্র নির্ভর করা যাবে এবং এটি সাশ্রয়ী ও হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় এটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিলে দেশের কৃষিখাত অনেক লাভবান হবে বলে মনে করি। এই ড্রায়ারটি সম্প্রসারণ করে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিলে কৃষকেরা শস্য শুকানোর জটিলতা থেকে মুক্তি পাবে এবং দেশের কৃষি খাতকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

 

শহিদ

×