ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন

বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীন সত্তা হারিয়েছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:৪২, ১৮ মে ২০২৪

বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীন সত্তা হারিয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংক তার স্বাধীন সত্তা হারিয়ে ফেলেছে

বাংলাদেশ ব্যাংক তার স্বাধীন সত্তা হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্ট্রার ফর পালিসি ডায়লগ-সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক মেরুদ- সোজা রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছে না। বাইরে থেকে আরোপিত সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শনিবার ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে ব্যাংক একীভূতকরণের সুফল নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) আয়োজিত ‘ব্যাংক একীভূতকরণ অর্থনীতিতে সুফল বয়ে আনবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পক্ষে অবস্থান নেয় বেগম নেয় বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ। বিপক্ষে তেজগাঁও কলেজের বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে।

ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য এমন পার্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, আইএমএফের পরামর্শক্রমে ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হচ্ছে। তবে যথেষ্ট পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় একীভূতকরণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, জোর করে ব্যাংক একীভূতকরণ টেকসই হতে পারে না। সুশাসনের অভাবে সামগ্রিক অর্থনীতিকে সাপোর্ট দেওয়ার সক্ষমতা ব্যাংকিং সেক্টর হারিয়েছে। জনগণ ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা হারিয়েছে। ব্যাংকে গচ্ছিত আমানত নিরাপদ রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারছে না। ফলে আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যাদের কারণে ব্যাংকিং খাতে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। ব্যাংকের খেলাপি ঋণের সঠিক তথ্য জনগণ জানতে পারছে না। সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, আইএমএফ ৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের কারণে অনেক শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তাদের শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা।

খেলাপি ঋণ এক অঙ্কে নিয়ে আসা (যদিও রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ২৫ থেকে ২৭ শতাংশ), আর্থিকখাতের দুর্বলতা কাটানো। এ কারণেই দুর্বলের সঙ্গে সবলের একীভূতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘তবে এখানে একীভূত নিয়ে খুব বেশি তাড়াহুড়া করা হয়েছে। কিন্তু একীভূত করতে দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া নিতে হয়। দ্রুত মার্জারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, একটা ব্যাংক তো ঘোষণাই দিয়ে দিলো।

সেই ব্যাংকটির (এক্সিম) অবস্থা কি খুব বেশি ভালো? দ্রুত একীভূতের কারণে এখন বাংলাদেশ ব্যাংক পিছু হটছে।’ যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, এখন ব্যাংকে আমানকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা কোথায় টাকা রাখবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। একীভূত করার পরপরই আমানতকারীদের আস্থা উঠে যায়নি, এটা অনেক আগেই হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আস্থা ফেরাতে বা আমানতকারীদের নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। এখন আর্থিক খাতের সুশাসন ফেরাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ঋণ জালিয়াতি, ঋণখেলাপি, অর্থপাচার বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সবচেয়ে বড় কালো দাগ।

ব্যাংকের টাকা মেরে দিয়ে ব্যক্তি বিশেষের আরাম-আয়েশ, ভোগ-বিলাস দেশের অর্থনীতিতে ক্যান্সারের আকার ধারণ করেছে। আর্থিক খাতের এই ক্যান্সারের চিকিৎসা না করে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সবল বা ভালো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর সুফল পাওয়া যাবে কি না তা বুঝতে আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

×