ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সাফল্যের চার দশকে ইসলামী ব্যাংক

রেমিটেন্স এসেছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা

রহিম শেখ

প্রকাশিত: ০১:১৬, ১৪ মার্চ ২০২৩; আপডেট: ২০:৩৯, ১৪ মার্চ ২০২৩

রেমিটেন্স এসেছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা

মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইসলামী ব্যাংক

বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের শুরুটা হয়েছিল ১৯৭৪ সালে দ্বিতীয় ওআইসি সম্মেলনে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগদানের মাধ্যমে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় মুসলিম দেশসমূহের আন্তর্জাতিক ইসলামিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার। সে বছর জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি দেশসমূহের অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু সরকারের অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ আইডিবি সনদ স্বাক্ষর করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বলিষ্ঠ ভূমিকায় বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রথম সুদমুক্ত ব্যাংকরূপে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ১৯৮৩ সালে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একের পর এক সাফল্যের মধ্য দিয়ে ইসলামী ব্যাংক আজ দেশের ব্যাংকিং খাতে শীর্ষস্থানে অধিকারী। আমানত, বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি, রেমিটেন্স আহরণ, শিল্পায়ন উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়নসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই সর্বেোচ্চ মার্কেট শেয়ার ধারণ করে ইসলামী ব্যাংক জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম শক্তি। জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে ইসলামী ব্যাংক সেরা করদাতা ব্যাংক, শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাবান্ধব ব্যাংক সর্বেোপরি গণমানুষের ব্যাংকরূপে স্বীকৃত। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট আমানতের পরিমাণ ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। সার্বিকভাবে দেশের মোট ব্যাংকিংয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখন ইসলামী পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে যার হিস্যা উত্তরোত্তর বাড়ছে। চার দশকের এই অগ্রযাত্রার অন্তর্নিহিত বিষয়গুলো জনকণ্ঠের কাছে তুলে ধরেছেন ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা। আগামী ৩০মার্চ ব্যাংকটির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিজনেস ইনচার্জ রহিম শেখ।

প্রশ্ন : রেমিটেন্স আহরণের দিক থেকে ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান কী?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি রেমিটেন্স আহরণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে ইসলামী ব্যাংক। ২০২২ সালে ইসলামী ব্যাংক আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য এবং রেমিটেন্স আহরণ করেছে যথাক্রমে ৭৫ হাজার ৪০৪ কোটি, প্রায় ৩৬ হাজার ৯৬৩ কোটি এবং প্রায় ৪৫ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক রেমিটেন্স আহরণ করেছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স আহরণের জন্য ইসলামী ব্যাংক সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান ও সিঙ্গাপুরে ৩১ জন প্রতিনিধির মাধ্যমে কাজ করছে।

বিশ্বের ৫৯৪টি কারেসপন্ডেন্টস ব্যাংকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য স¤পর্ক রয়েছে। এছাড়া ১৫৫ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের রেমিটেন্স অ্যারেঞ্জমেন্ট রয়েছে। প্রবাসীদের অধিকাংশই মধ্য প্রাচ্যে কর্মরত। এসব দেশ থেকে বাংলাদেশে আগে টাকা পাঠানোর সহজ, নিরাপদ ও দ্রুত উপায় না পেয়ে প্রবাসীগণ অবৈধ উপায় গ্রহণ করত। ইসলামী ব্যাংক নিয়মিত বিশেষ ক্যা¤েপইনের মাধ্যমে মানুষকে বৈধ চ্যানেলে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত করে। যার সুফল ভোগ করছে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে আসছে নিরাপদে। বিনিয়োগ হচ্ছে জাতীয় উন্নয়ন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ খাতে।
প্রশ্ন : আমানতকারীদের ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণ কী?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : মানুষের ধর্মীয় নিয়মনীতি পরিপালনকে আর্থিক সক্ষমতার আওতায় আনতে ইসলামী ব্যাংকের রয়েছে মুদারাবা হজ সঞ্চয় প্রকল্প। অভাবী ও বঞ্চিত মানুষের কল্যাণ বিবেচনায় রয়েছে ক্যাশ ওয়াক্ফ হিসাব। নারীর ক্ষমতায়নে পুরুষদের কিস্তি জমার ভিত্তিতে আছে মোহর জমা হিসাব। এই প্রত্যেকটি হিসাবের জন্য অন্যান্য হিসাবের তুলনায় মুনাফার বেশি ওয়েটেজ দেয়া হয়। এসব কারণে ইসলামী ব্যাংকে আমানত রাখতে গ্রাহকরা উৎসাহিত হন।

এ কারণেই দেশের মোট ব্যাংকিং আমানতের ১০ ভাগ ধারণ করছে ইসলামী ব্যাংক। বতর্মানে ইসলামী ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবের কারণে ব্যাংকের আমানত কিছুটা কমলেও এখন আবার ব্যাংকে ফেরত আসছে। গুজব দূরীকরণে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা উদ্যোগ কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে।
প্রশ্ন : ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা কত?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের অনন্য প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক। বর্তমানে ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। এই ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা দেশের ব্যাংকিং খাতের শীর্ষে। গ্রাহকদের অবিচল আস্থা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার ফলেই ইসলামী ব্যাংক আজকের এই অবস্থানে। 
প্রশ্ন : ইসলামী ব্যাংকে বিনিয়োগের অবস্থা কী?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : প্রয়োজনভিত্তিক, উৎপাদনমুখী, শ্রমঘন, আমদানি-বিকল্প ও রপ্তানিমুখী খাতে বিনিয়োগ বহুমুখী করার মাধ্যমে সুষম ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করছে ইসলামী ব্যাংক। ইতোমধ্যে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৮৫ লক্ষ মানুষের। এছাড়া দেশের ৬ হাজারের বেশি শিল্প কারখানা ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংক দেশের সর্বোচ্চ এসএমই বিনিয়োগকারী ব্যাংক। কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো, নারীর ক্ষমতায়ন, সর্বোপরি সুষম-টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক এসএমই খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

দেশের আবাসন বিনিয়োগে ইসলামী ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার ১০%-এর বেশি। ইসলামী ব্যাংকের আবাসন বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ মানুষের আবাসন নিশ্চিত হয়েছে। বাংলাদেশের পরিবহন খাতের মোট বিনিয়োগের প্রায় ১৮% মার্কেট শেয়ার ইসলামী ব্যাংকের। ব্যাংকের বিনিয়োগকৃত রেজিস্টার্ড যানবাহনের সংখ্যা বর্তমানে অর্ধ লক্ষাধিক। নৌপরিবহনে রয়েছে ৪২১টি। এছাড়া উড়োজাহাজ রয়েছে ৫টি। 
প্রশ্ন: মিডিয়ায় প্রচারিত বেনামি ঋণগুলোর বর্তমান অবস্থা কি? 
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : আমি আগেই বলেছি ইসলামী ব্যাংকে কোনো বেনামি ঋণ নেই, দেশের স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উদীয়মান উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা বিবেচনা করে আমরা বিনিয়োগ প্রদান করে থাকি। সম্প্রতি আমদানি বৃদ্ধি, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা সম্প্রসারিত হওয়ার প্রেক্ষিতে যথাযথ মূল্যায়ন করে পর্যাপ্ত জামানত গ্রহণ ও ব্যাংকের নিয়ম মেনেই মিডিয়ায় আলোচিত গ্রাহকদেরকে বিনিয়োগ দেওয়া হয়।

এছাড়া দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর পর্যাপ্ত যোগান নিশ্চিতের লক্ষ্যেও এ বিনিয়োগ প্রদানের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়। কিছু কিছু বিনিয়োগের বিষয়ে মিডিয়ায় বিভ্রন্তিমূলক তথ্য পরিবেশিত হয়েছে যেগুলো এখন পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ বা খেলাপি হয়নি। তিনটি বিনিয়োগ গ্রাহকের ব্যাপারে বেনামি ঋণ উল্লেখ করে যে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছিল তার মধ্যে ফার্মগেট শাখার মার্টস বিজনেস লিমিটেড ইতোমধ্যে তাদের পণ্য বিক্রিত টাকা দিয়ে সমুদয় দায় পরিশোধ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ মোতাবেক অন্যান্য বিনিয়োগ গ্রাহকদের পণ্য বিক্রিত টাকা দিয়ে পর্যায়ক্রমে তাদের দায় পরিশোধিত হচ্ছে। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, এই বিনিয়োগের সমুদয় টাকা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বেই পরিশোধিত হবে। 
প্রশ্ন : দারিদ্র্যবিমোচন ও পল্লী উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংক কিভাবে অবদান রাখছে?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : ইসলামী ব্যাংক ১৯৯৫ সালে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) চালু করে। এ প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, সঞ্চয় গঠন, বিভিন্ন আয়-উৎসারী কর্মকা-ে বিনিয়োগ কার্যক্রম রয়েছে। শহর এলাকার বস্তিবাসীসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ২০১২ সাল থেকে ‘নগর দরিদ্র উন্নয়ন প্রকল্প’ কাজ করছে। ৩২ হাজার গ্রামে বিস্তৃত এ প্রকল্পের সদস্য ১৬ লাখ। যার ৯৪ শতাংশই নারী।  
্প্রশ্ন : আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য আপনাদের কি উদ্যোগ রয়েছে?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দেশের মোট স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্টের ২১% এখন ইসলামী ব্যাংকের। হজ সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট, ক্যাশ ওয়াক্ফ অ্যাকাউন্ট, কারখানা শ্রমিক হিসাবসহ নানা সঞ্চয় হিসাবের মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় এনেছে ইসলামী ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে ৩৯৪টি শাখা, ২২৯টি উপশাখা, ২৭০০টি এজেন্ট আউটলেট, ২৫০০টি এটিএম/সিআরএম বুথের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা প্রদান করছে। 
প্রশ্ন : প্রযুক্তির যুগে ইসলামী ব্যাংক কিভাবে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছে?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত। ব্যাংকের কোর ই-আইবিএস সফটওয়্যার এই ব্যাংকের তরুণ প্রকৌশলীদের দ্বারা নির্মিত, যা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সফটওয়্যার হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। এই সফটওয়্যারের কারণে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন অ্যাপে লেনদেন, নিজে হিসাব খোলাসহ প্রায় সব সাধারণ ব্যাংকিং সেবা রয়েছে। সেলফিন অ্যাপে বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে ভিসা ডিরেক্ট সার্ভিসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক রেমিটেন্স গ্রহণ করা যায়। ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা যে কোনো দেশে থেকে সরাসরি পেমেন্ট নিতে পারেন সেলফিনে।

ইনস্ট্যান্ট ভিসা কার্ড, ব্রাঞ্চ ছাড়াই ই-কেওয়াইসি ভিত্তিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ইএফটি এবং এনপিএসবির মাধ্যমে অন্য ব্যাংকে/কার্ডে সরাসরি ফান্ড ট্রান্সফার, অ্যাড মানি, রিকোয়েস্ট মানি, ই-কমার্স/মার্চেন্ট পেমেন্ট, ক্রেডিট কার্ডের বিল প্রদান, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, টিকেটিংসহ অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা সেলফিনের মাধ্যমে পাওয়া যায়। এ ছাড়াও এই অ্যাপে ইসলামী ব্যাংকের যেকোনো কার্ড, অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ‘এমক্যাশ’ যুক্ত করা, যে কোনো ভিসা অথবা মাস্টার কার্ড থেকে ফান্ড ট্রান্সফার, কিউআর কোডের মাধ্যমে কেনাকাটা, মোবাইল রিচার্জ, ব্যালেন্স ইনকোয়ারি ও তাৎক্ষণিক কার্ড/অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট সুবিধা রয়েছে। স্কুল-কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ের টিউশন ফি প্রদান ও গ্রহণ, কার্ড ছাড়াই এটিএম থেকে ক্যাশ আউট, এমক্যাশ ট্রান্সফার, ক্যাশ বাই কোডের মাধ্যমে হিসাববিহীন ব্যক্তিকে টাকা পাঠানো যায় ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন অ্যাপে। 
প্রশ্ন : ইসলামী ব্যাংক সিএসআর কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত করছে?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : ইসলামী ব্যাংকিং মূলত একটি সামাজিক দায়বদ্ধ উদ্যাগ। গরিব, দুস্থ, অসহায় মানুষের কল্যাণে ১৯৮৪ সালে ‘সাদাকাহ ফান্ড’ গঠিত হয়। পরে ব্যাপকভিত্তিক কাজের জন্য ‘ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। যার অধীনে ১৯টি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সিএসআর ফান্ড দেশের আর্থিক খাতে প্রচলিত ছিল না। ইসলামী ব্যাংকের কল্যাণধর্মী এ উদ্যোগের অনুকরণেই আর্থিক খাতে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রশ্ন : কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কোনো পুরস্কার পেয়েছেন কি না?
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা : যুক্তরাজ্যের ব্যাংকিং বিষয়ক বিখ্যাত ম্যাগাজিন ‘দি ব্যাংকার’-এর মূল্যায়নে ইসলামী ব্যাংক ২০১২ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০০০ ব্যাংকের তালিকায় বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংকরূপে স্থান পেয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় টানা ১২ বার ইসলামী ব্যাংক বিশ্বের শীর্ষ ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে এ তালিকায় ব্যাংকের অবস্থান ৮৮২তম। বিশ্বসেরা ইসলামিক ব্যাংক সিবাফি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে ইসলামী ব্যাংক। ট্যাক্স কার্ড সম্মাননা ২০২২, আইসিএসবি গোল্ড অ্যাওয়ার্ড, আইসিএমএবি বেস্ট কর্পোরেট গোল্ড অ্যাওয়ার্ডসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নাানা স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

×