ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

রাশিয়ায় প্রযুক্তি পণ্য রফতানি কমাচ্ছে চীন

প্রকাশিত: ১৩:৫২, ২০ মে ২০২২

রাশিয়ায় প্রযুক্তি পণ্য রফতানি কমাচ্ছে চীন

অনলাইন ডেস্ক ॥ যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে লক্ষণীয়ভাবে রাশিয়ায় কমছে চীনের প্রযুক্তি রফতানি। সম্প্রতি এ তথ্য জানান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী জিনা রাইমন্ডো । তিনি বলেন, রাইমন্ডো জানান, চীনের সর্বশেষ রফতানি উপাত্তে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে রাশিয়ায় চীনের ল্যাপটপ জাহাজীকরণ ৪০ শতাংশ কমেছে। এছাড়া মিত্র দেশটিতে চীনের স্মার্টফোন বিক্রি কমেছে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। টেলিকমিউনিকেশনস নেটওয়ার্ক যন্ত্রাংশ রফতানি কমেছে ৯৮ শতাংশ। রাইমন্ডো আরও বলেন, রাশিয়ায় অনেক দেশের রফতানি লক্ষণীয়ভাবে কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি পণ্য রফতানি কমেছে ৮৬ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিনল্যান্ডের কমেছে যথাক্রমে ৬২ ও ৬০ শতাংশ। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মস্কোর জন্য বেইজিংয়ের সহযোগিতার হাত উন্মুক্ত থাকবে কিনা এ নিয়ে দ্বিধার মধ্যে পশ্চিমা নীতিনির্ধারকরা। রাশিয়ায় চীনের রফতানি হ্রাসের বিষয়টি প্রথম সামনে আনে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সেখানে বলা হয়, ওয়াশিংটনের পাল্টা পদক্ষেপের ভয়ে শুরুতে অন্তত কিছুটা বুঝে শুনে এগোনোর চেষ্টা করছে বেইজিং। চীনা কোম্পানিগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি বিক্রি বন্ধ বা সীমিতের হুমকির ভয়ে রাশিয়ায় রফতানিতে সতর্ক থাকছে দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিটি। ২৪ ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় যেসব কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার বা সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহার করে, তাদের রাশিয়ায় রফতানি থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনসহ বিশ্বের বেশির ভাগ চিপ কারখানায়ই মার্কিন সফটওয়্যার বা যন্ত্রাংশ ব্যবহার হয়। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ও উচ্চ প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতিতে পঙ্গু করে দিতে বিভিন্ন বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য ৩৭টি দেশ। ইউক্রেন আগ্রাসনের কারণে আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার ক্রেতাদের কাছে কম্পিউটার চিপ, টেলিযোগাযোগ যন্ত্রাংশ, ল্যাজার, এভিওনিকস ও ম্যারিটাইম টেকনোলজি বিক্রি বন্ধ করতে বলা হয়েছে। দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ না পাওয়ায় কিছু সামরিক যন্ত্রাংশ উৎপাদন করতে পারছে না রাশিয়া। গত সপ্তাহে সিনেট কমিটিতে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়ার কিছু সামরিক যন্ত্রাংশে তারা এমন কম্পিউটার চিপ পেয়েছেন, যা গৃহস্থালি পণ্যতে ব্যবহার হয়। এছাড়া ট্যাংকের মধ্যেও এ ধরনের চিপ রয়েছে। রাশিয়ায় যে রফতানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তার আওতায় স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের মতো ভোক্তা পণ্য ছিল না। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার বিভিন্ন শর্ত ও ধারা নিয়ে জটিলতার আশঙ্কায় কিছু কোম্পানি রাশিয়ায় একেবারেই ইলেকট্রনিক পণ্য রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা কেভিন উলফ বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি তুলে কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং অন্য একটি দেশে সামরিক অভিযান চালিয়ে মানুষ হত্যা করার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পার্থক্য রয়েছে। তবে একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও পুরো একটি দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণেও প্রার্থক্য রয়েছে। ইউক্রেন আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এমনকি চীনেরও অনেক বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো রাশিয়ায় বিক্রি স্থগিত কিংবা ব্যবসা বন্ধ করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ড্রোন নির্মাতা কোম্পানি ডিজেআই গত এপ্রিলে জানায়, ইউক্রেন ও রাশিয়ায় তারা কার্যক্রম প্রত্যাহার করেছে। যুদ্ধের কারণে প্রকাশ্যে বাজার থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেয়া প্রথম চীনা কোম্পানি চিল ডিজেআই। গত মার্চে রাশিয়ায় সব ধরনের পণ্য বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করে অ্যাপল। তার কয়েক দিন পর স্মার্টফোন ও কম্পিউটার চিপসহ সব ধরনের পণ্য বিক্রি স্থগিত করে স্যামসাং। সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২