ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান

প্রকাশিত: ০০:১৩, ১ ডিসেম্বর ২০২৩

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

শুরু হলো বিজয়ের মাস...। লাল-সবুজের পতাকায় বিজয়ের গৌরব

বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জনের মাস ডিসেম্বর এলো। ১৯৭১ সালের এ মাসেই বীর মুক্তিযোদ্ধারা মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করেছিলেন। দীর্ঘ ৯ মাস অস্ত্র হাতে লড়েছিলেন তাঁরা। তারপর ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ীর বেশে ফিরেছিলেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে। ডিসেম্বর তাই গৌরবময় স্মৃতি জাগানিয়া মাস। মাসটি নতুন করে সেই মহাইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের মধ্য দিয়ে জন্ম হয়েছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের। নতুন ভৌগোলিক পরিচয় বাঙালিকে আশাবাদীও করেছিল। কিন্তু অচিরেই আসল চেহারা নিয়ে সামনে আসে পাকিস্তানিরা। এক বছরের মধ্যে ১৯৪৮ সালে মায়ের ভাষা বাংলার ওপর আঘাত হানে তারা। ভাষার অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ করতে হয় বাঙালিকে।

একই সময় পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একের পর এক বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করতে থাকে পশ্চিমারা। বাঙালিকে দাবিয়ে রাখার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। বাঙালিও শুরু থেকে বেছে নেয় সংগ্রামের পথ। এরই ধারাবাহিকতায় আসে ১৯৭১। যেটুকু দেখানোর বাকি ছিল সেটুকুও মার্চে এসে দেখিয়ে দেয় পাকিস্তানিরা। জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পরও বাঙালির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা প্রকাশ করতে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে আসে ৭ মার্চ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এবং অতঃপর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে গোটা জাতির চাওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন শেখ মুজিবুর রহমান। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন তিনি।

সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হয় বাঙালি। শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ক্রমে তীব্র হতে থাকে গেরিলা আক্রমণ। সম্মুখ সমরেও বড় বড় সাফল্য আসতে থাকে। এ ধারাবাহিকতায় আসে ডিসেম্বর। বিজয়ের বিপুল আভাস পাওয়া যাচ্ছিল শুরুতেই। স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে একটার পর একটা যুদ্ধ জয়ের খবর আসছিল। এর মধ্যেই ৩ ডিসেম্বর ১১টি ভারতীয় এয়ারবেসে হামলা চালায় পাকিস্তানিরা। প্রতিশোধ নিতে ভারত সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধে নামে। মিত্রবাহিনীর পরিকল্পিত আক্রমণে দিশাহারা হয়ে যায় হানাদাররা। পালানোর পথ খুঁজতে থাকে। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানের বর্বর সেনাবাহিনী।

প্রতি বছর ডিসেম্বর আসে সেই সুখস্মৃতি নিয়ে। এবারও এসেছে। আজ থেকে শুরু হয়ে যাবে উদ্যাপন। মাসজুড়েই আলোচনা হবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। উৎসব অনুষ্ঠান হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে বিজয় দিবস উদ্যাপনের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও নিচ্ছে উৎসবের প্রস্তুতি। ঢাকার রাজপথে ওড়তে শুরু করেছে লাল সবুজের পতাকা। হকাররা শহর ঘুরে পতাকা বিক্রি করছে। বীরের লড়াই এবং রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই পতাকার মর্যাদা রক্ষা করতে হবেÑ ডিসেম্বর দিচ্ছে সে বার্তাও।

×