ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৬ জুন ২০২৪, ১৩ আষাঢ় ১৪৩১

পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন

সিদ্ধিরগঞ্জের ফুটওভার ব্রিজটি এখন অবৈধ দোকানপাটের দখলে

​​​​​​​মো. খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:১৩, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

সিদ্ধিরগঞ্জের ফুটওভার ব্রিজটি এখন অবৈধ দোকানপাটের দখলে

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় ফুটওভার ব্রিজটি এখন হকারদের দখলে

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটি এখন অবৈধ দোকানপাটে ভরে গেছে। এতে ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে পার হওয়ার সময় পথচারীদের মানবজটসহ নানাবিধ সমস্যায় পড়তে বাধ্য হচ্ছেন। ফুটওভার ব্রিজের একপাশের অংশজুড়েই অসাধু ব্যবসায়ীরা অর্ধশতাধিক হরেক রকমের অবৈধ দোকানপাটের পসরা সাজিয়ে দখল করে রেখেছেন। ফুটওভার ব্রিজটি নির্বিঘেœ অসাধু ব্যবসায়ীরা দখল করে রাখায় পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। পথচারীরা জরুরি ভিত্তিতে ফুটওভার ব্রিজ থেকে অবৈধ দোকানপাট স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের জোর দাবি জানান।

জানা যায়, সাইনবোর্ড ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বাসস্ট্যান্ড। সাইনবোর্ড স্থানটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ড এলাকায় পড়েছে। সাইনবোর্ড থেকে শুরু হয়েছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোড। লিঙ্ক রোডটি (চাষাড়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত) ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীতকরণ করে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। বাসস্ট্যান্ডে এতদিন ফুটওভার ব্রিজ ছিল না। ফলে পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কটি পার হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আশপাশের লোকজন সাইনবোর্ড এলাকায় একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। ফলে স্থানীয় সওজ বিভাগ শিমরাইল মোড়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে। ইতোমধ্যে ফুটওভার ব্রিজে সংযুক্ত করা হয়েছে ্যাম্প সিঁড়িও। উক্ত স্থানে একটি ফুওভারব্রিজ নির্মাণের ফলে সওজ কর্তৃপক্ষকে স্থানীয়রা সাধুবাদও জানিয়েছে। কিন্তু ফুটওভার ব্রিজটি চালু হওয়ার পর থেকেই নজর পড়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের। ফলে ফুটওভার ব্রিজের ওপর বসতে শুরু করে অবৈধ দোকানপাট। এখন ফুটওভার ব্রিজের পুরো অংশে অর্ধশতাধিক দোকানপাটে ভরে গেছে। দোকানপাটের কারণে পথচারীরা চলাচলের সময় দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হচ্ছেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জামা-কাপড়, মাক্স, বেল্ট, মানিব্যাগ, জুতা, ব্যাগ, ফল আয়না-চিরুনিসহ নানা ধরনের দোকানপাট বসেছে।

দোকানপাটের পসরা সাজিয়ে রাখায় পথচারীরা নির্বিঘেœ চলাচলও করতে পারছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ফুটওভার ব্রিজের ওপর দোকানপাট বসলেও পুলিশ সওজ বিভাগ কিছুই বলছে না। ফলে দিন দিন ফুটওভার ব্রিজের ওপর দোকানপাটের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, নারায়ণগঞ্জ শহর আশপাশের লোকজন সাইনবোর্ড এসে ফুটওভার ব্রিজটি পার হয়ে সিলেট কিংবা চট্টগ্রাম বিভাগীয় ১৮টি জেলার লোকজন দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসে চড়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছেন। মিজমিজি সাহেবপাড়ার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, গার্মেন্টস কারখানাসহ অফিস-আদালত শুরু শেষ হওয়ার পর ফুটওভার ব্রিজে পারাপারের সংখ্যা বেড়ে যায়। সময় অবৈধ দোকানপাটের কারণে রীতিমতো মানবজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মামুদপুর এলাকাবার বাসিন্দা তাবাসসুম আক্তার বলেন, মহাসড়কটি এখন আর নিচ দিয়ে পারাপার হওয়ার সুযোগ নেই। ফুটওভার ব্রিজ দিয়েই পার হতে হয়। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ফুটওভার ব্রিজটি দখল করে দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এতে পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো সময় উচ্ছেদ হলে আবারও এক ঘণ্টা পরেই আগের মতো দোকানপাট বসানো হচ্ছে। অবৈধ দোকানপাট স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে হবে। তা না হলে ফুটওভার ব্রিজের সুফল পুরোপুরি ভোগ করা সম্ভব হবে না। ভূঁইঘর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল বলেন, আমি ঢাকার একটি অফিসে চাকরি করি। তাই প্রতিদিন বাসায় ফেরার পথে ফুটওভার ব্রিজটি পার হতে হয়। ফুটওভার ব্রিজের ওপর অবৈধ দোকানপাটের কারণে পথচারীরা নির্বিঘ্নে পার হতে পারেন না। সকাল সন্ধ্যায় ফুটওভার ব্রিজের ওপর লোকজনের ঠেলাঠেলি শুরু হয়।

জরুরি ভিত্তিতে ফুটওভার ব্রিজের ওপর থেকে অবৈধ দোকানপাট স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের দাবি জানাই। ফুটওভার ব্রিজের ওপর বসা দোকানি আবুল বরকত বলেন, যে স্থানে লোকজনের চলাচল বেশি সে স্থানেই আমাদের বেচা-কেনা ভালো হয়। তাই ফুটওভার ব্রিজের ওপর দোকানপাট নিয়ে বসেছি। বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়ে সড়ক জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানা ফেরদৌস জনকণ্ঠকে বলেন, ফুটওভার ব্রিজের ওপর অবৈধ দোকানপাটের কারণে আমরাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছি। আমরা ফুটওভার ব্রিজে তৈরি করে দিচ্ছি। কিন্তু আমাদের লোকজনের কথায় ফুটওভার ব্রিজ থেকে দোকানপাট সরছে না। পুলিশ যদি দোকানপাটগুলো উচ্ছেদ করে দেয় তবেই কার্যকর হবে। বিষয়ে পুলিশকে আমরাও বলব আপনারাও উচ্ছেদের জন্য অবহিত করবেন।

×