ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

দুর্ঘটনায় ক্রিকেটার সাইমন্ডসের অকালমৃত্যু

প্রকাশিত: ২২:৪২, ১৬ মে ২০২২

দুর্ঘটনায় ক্রিকেটার সাইমন্ডসের অকালমৃত্যু

শাকিল আহমেদ মিরাজ ॥ ‘এই দুনিয়ায় এই সব কী হচ্ছে, বিশ্বাস করতে পারছি না’- টুইট ধারাভাষ্যকার ও সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার লিসা স্টালেকার। জন্মিলে মরিতে হয়, এটিই প্রকৃতির বিধান। কিছু মৃত্যু তবু মেনে নিতে কষ্ট হয়। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে তিন কিংবদন্তিকে হারাল অস্ট্রেলিয়া। রডনি মার্শ, শেন ওয়ার্নের পর এবার সড়ক দুর্ঘটনায় চলে গেলেন এ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। মাত্র ৪৬ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের আরেক বর্ণময় চরিত্র। কুইন্সল্যান্ডের রিভার ব্রিজ এলাকায় তার ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তা থেকে ছিটকে খাদে পড়ে যায়। উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হয় অস্ট্রেলিয়ার ২০০৩ ও ২০০৭ বিশ্বকাপজয়ী দলের গর্বিত সদস্য এ অলরাউন্ডারের। ওয়ার্নের মতো সাইমন্ডসও ছিলেন ব্যতিক্রম এক চরিত্রের অধিকারী। শুধুমাত্র ব্যাট-বলের পরিসংখ্যান দিয়ে যাকে বিচার করা সম্ভব নয়। মাঠে যেমন প্রতিপক্ষের হৃদয়ে কাঁপন ধরিয়েছেন, তেমনি মদ, নারী আর বিশৃঙ্খল আচরণের জন্য গোটা ক্যারিয়ারে মাঠের বাইরেও ছিলেন আলোচিত। তার অকাল মৃত্যুতে ক্রিকেটাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাসমান সাগর পেরিয়ে যে শোকের ঢেউ আছড়ে পড়ছে গোটা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে। বাংলাদেশ সময় রবিবার ভোরে কুইন্সল্যান্ড শহরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, রাত ১১টার পর সাইমন্ডসের ব্যক্তিগত গাড়িটি এ্যালিস রিভার ব্রিজের কাছে হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে খাদে পড়ে যায়। অবসরের পর এই এলাকাতেই বসবাস করছিলেন তিনি। বিকট শব্দে সেখানে হাজির হওয়া স্থানীয় বাসিন্দরা জরুরী পরিষেবায় ফোন দেন। উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন সাইমন্ডস। হার্ডহিটার ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান একই সঙ্গে মিডিয়াম পেস বোলিং এবং অফস্পিন দুটোই করতে পারতেন। প্রায় এক যুগে ১৯৮টি ওয়ানডে ক্যারিয়ারে রান ৫০৮৮। সেঞ্চুর ৬ ও হাফ সেঞ্চুরি ৩টি। সর্বোচ্চ ১৫৬। ২৬ টেস্টে ২ সেঞ্চুরিতে রান ১৪৬২। ১৪টি২০তে ২৩৭। হাফ সেঞ্চুরি দুটি। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি২০তে তার নামের পাশে উইকেট ২৪, ১৩৩ ও ৮টি। ১৯৭৫ সালের ৯ জুন ইংল্যান্ডের বার্মিহামে জন্ম সাইমন্ডসের। তিন মাস বয়সে তাকে দত্তক নেন এক অস্ট্রেলিয়ান দম্পতি। কাউন্টি খেলে একসময় ইংল্যান্ড ‘এ’ দলেও ডাক পেয়েছিলেন। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলবেন। সেই স্বপ্ন পূরণ করে জিতেছিলেন দু-দুটি বিশ্বকাপ।