সোমবার ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

টি-ব্যাগের সাথে শরীরে যাচ্ছে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক

টি-ব্যাগের সাথে শরীরে যাচ্ছে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক

জাবি সংবাদদাতা ॥ সম্পতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকদের গবেষণায় উঠে এসেছে দেশের প্যাকেটজাত টি-ব্যাগে বিপুল পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতির তথ্য। বাংলাদেশের পাঁচটি নামিদামি ব্র্যান্ডের কোম্পানির টি-ব্যাগ নিয়ে গবেষণা করে আশ্চর্যজনকভাবে, সবগুলো কোম্পানির টি-ব্যাগেই উল্লেখযোগ্য হারে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা, উচ্চ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক টুকরা (ফ্র্যাগমেন্টস), আঁশ (ফাইবার) এবং বিপুল পরিমাণ লাল, নীল, বাদামী রঙের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন এই গবেষক দল।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন স্নাতকোত্তরের থিসিসের জন্য একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি করেন। গবেষণাপত্রটি ইতোমধ্যে “ইজ দেয়ার টি কমপ্লিমেন্টেড উইদ দ্য এপিলিং ফ্লেভার অব মাইক্রোপ্লাস্টিকস? এ পাইওনিয়ারিং স্টাডি অন প্লাস্টিক পলিউশন ইন কমার্শিয়ালি এভেইলএবল টি ব্যাগস ইন বাংলাদেশ” শিরোনামে আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘সায়েন্স অব দ্য টোটাল ইনভায়রনমেন্ট’- এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় জানা যায়, একটি চা-পাতা ভর্তি টি-ব্যাগে ৫০৫টি এবং খালি টি-ব্যাগে ৪৭৭টি প্লাস্টিকের কণা রয়েছে। টি-ব্যাগের চা পানের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ১০ দশমিক ৯ টন মাইক্রোপ্লাস্টিক রাজধানী ঢাকায় বসবাসকারীদের দেহে প্রবেশ করতে পারে।

গবেষণায় ব্যবহৃত পাঁচটি ব্র্যান্ডের টি-ব্যাগে পলিটেট্রাফ্লুরোইথিলিন, হাই ডেনসিটি পলিথিলিন, পলিকার্বোনেট, পলিভিনাইল ক্লোরাইড, নাইলন, ইথিলিন ভিনাইল অ্যাসিটেট, সেলুলোজ এসিটেট, এবিএস প্রভৃতি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ইথিলিন ভিনাইল এসিটেট, এবিএস ও সেলুলোজ এসিটেটের আধিক্য তুলনামূলক বেশি।

এসব আণুবীক্ষণিক প্লাস্টিক কণা আকারে প্রায় ৩৩ থেকে দুই হাজার ১৮০ মাইক্রো মিটার। মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলোর কিছু তন্তু আকৃতির, কিছু টুকরা, কিছু গোলক আকৃতির এবং কিছু ঝিল্লি (ফিল্ম) আকৃতির। এ ছাড়া গবেষণায় প্রায় নয় ধরনের রঙ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে বাদামি, নীল ও লাল রঙের প্রাধান্য বেশি।

এই গবেষকদলের অন্যতম সদস্য সাদিয়া আফরিন বলেন, এর আগে বাংলাদেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে তেমন গবেষণা হয়নি। রিস্ক এসেসমেন্টের কাজ বাংলাদেশে এই প্রথম, এর আগে কিছু কোয়ালিটেটিভ রিসার্চ হয়েছে। ২০২১ সালে টুথপেস্ট নিয়ে বাইরের দেশে একটি রিসার্চ হয়। সেই রিসার্চই আমাদের অনুপ্রাণিত করে একটি গাণিতিকভাবে রিস্ক এসেসমেন্ট করার। ব্র্যান্ডেড কোম্পানীগুলোর টি-ব্যাগ থেকে এত বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক নির্গমনের (বছরে ১০.৯ টন) সম্ভাব্যতা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল। সারাদেশের হিসেবে এটা আরও ব্যাপক হবে।

এ বিষয়ে গবেষণা দলের ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঢাকার সুপারমার্কেটগুলোতে পাওয়া যায় এমন পাঁচটি ব্র্যান্ডের টি-ব্যাগের ওপর গবেষণা করে ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি লক্ষ্য করেছি। একটি খালি টি-ব্যাগের তুলনায় চা-পাতা ভর্তি টি-ব্যাগে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ বেশি। সংখ্যায় তা প্রায় ২২ দশমিক ২ শতাংশ। এ থেকে বোঝা যায়, চা প্রক্রিয়াজাতকরণের সময়েও মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংমিশ্রণ হয়ে থাকে।’

স্বল্প সময়ের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক দেশের স্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম ক্ষতির কারণ হবে বলে মনে করেন ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। সেইসঙ্গে ড. মোস্তাফিজুর রহমান পরিবেশ বাঁচাতে প্লাস্টিকের বিকল্প ভাবার ওপর জোর দেন।

শীর্ষ সংবাদ: