ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

ম্যারাডোনার শতাব্দীর সেরা গোলের সাক্ষী রেফারি আলি বিন নাসিরের স্মৃতিচারণ

সেই রেফারিও গর্বিত

প্রকাশিত: ২৩:২৯, ২৯ নভেম্বর ২০২০

সেই রেফারিও গর্বিত

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলারের একজন দিয়েগো ম্যারাডোনা। অসামান্য, কিংবদন্তি, বিরলতম প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তিনি। ছিলেন বিতর্কিতও। আর্জেন্টিনার হয়ে ৯১ ম্যাচে ৩৪ গোল করে গেছেন ম্যারাডোনা। কিন্তু নিছক সংখ্যার বিচারে তার প্রভাব যাচাই করা যাবে না। ১৯৮৬ সালে কার্যত তার একার কৃতিত্বেই মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের সঙ্গে তার সেই ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল চিহ্নিত হয়ে রয়েছে ক্রীড়া দুনিয়ার অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা হিসেবে। হাত দিয়ে সেই গোল করার জন্য বিশ্বখ্যাত ও সমালোচিত দুটোই হয়েছিলেন ম্যারাডোনা। ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোলটি শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। ঐ ম্যাচটিতে ম্যারাডোনার দুর্দান্ত দ্বিতীয় গোলের পেছনে সহায়তাকারী তিউনিশিয়ান রেফারি আলি বিন নাসির বিষয়টি নিয়ে বেশ গর্বিত। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ঐ ম্যাচটিতে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে হাত দিয়ে ঐতিহাসিক ঐ গোলের চার মিনিটর পর নিজেদের অর্ধ থেকে একক প্রচেষ্টায় ইংলিশ রক্ষণভাগকে ভেঙ্গে দুর্দান্ত এক গোল করে ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেছিলেন। বর্তমানে ৭৬ বছর বয়সী রেফারি আলি বিন নাসির সেদিনের সেই স্মৃতি মনে করে স্বীকার করেছেন যে তার হাতে আসলে কোন উপায় ছিল না। ২০১৫ সালে ম্যারাডোনার সঙ্গে যখন আবারও দেখা হয়েছিল তখন নিজের স্বাক্ষর করা একটি জার্সি উপহার দিয়েছিলেন এই তিউনিশিয়ানকে। সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার করা দ্বিতীয় গোল প্রসঙ্গে বিন নাসির বলেন, ‘মধ্যমাঠ থেকে তিনি বলটি নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। আমি তাকে নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। কেউ যখন ম্যারাডোনার মতো কোন খেলোয়াড়কে রেফারিং করবে তখন তার ওপর থেকে চোখ সরানো কঠিন হয়ে পড়ে। তিনবার ইংলিশ খেলোয়াড়রা তাকে ফাউল করতে চেষ্টা করেও সফল হয়নি। অদম্য ইচ্ছাশক্তির বলেই সেদিন ঐ গোলটি করতে পেরেছিল ম্যারাডোনা যা শুধু তার পক্ষেই করা সম্ভব। বক্স পর্যন্ত পৌঁছানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি ম্যারাডোনাকে ‘এডভানটেজ’ দিয়েছি, ফাউলের বাঁশি বাজাইনি। বারবারই আমার মনে হয়েছে এই বুঝি ডিফেন্ডাররা তাকে ফেলে দেয়। এমনকি আমি পেনাল্টির বাঁশি বাজানোর জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু আমি বিস্মিত হয়েছি তার গোল করার দক্ষতা দেখে। ঐতিহাসিক এই গোলটিতে ম্যারাডোনাকে সহযোগিতা করতে পারাটা আমার জন্য ক্যারিয়ারের অন্যতম গর্বিত একটি মুহূর্ত। প্রথম তিনটি প্রচেষ্টায় আমি যদি ফাউল ধরতাম তবে বিশ্ববাসী অতি অসাধারণ ঐ গোলটি দেখা থেকে বঞ্চিত হতো।’ তবে বিতর্কিত প্রথম গোলটি সত্ত্বেও মেক্সিকো সিটির ঐ ম্যাচটি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিন নাসির। প্রথম গোলটিতে সহকারী রেফারি বুলগেরিয়ার বোগডান ডোচেভের দিকেই অবশ্য আঙ্গুল তুলেছেন বিন নাসির। ঐ গোলটি সবচেয়ে ভাল দেখেছেন ডোচেভ। যে কারণে বিন নাসির প্রথমে কিছুটা সংশয়ে ছিলেন। ডোচেভ হ্যান্ডবলের সিগনাল না দেয়ায় গোলটির সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হয়। ২০১৭ সালে ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন ডোচেভ। তিনি নিজেও স্বীকার করেছিলেন কোন সিদ্ধান্তের ব্যপারে সহকারী রেফারিকে ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারির সঙ্গে আলোচনার কোন অনুমতি দেয়নি ফিফা। এমনিতেই সেই ম্যাচের আগে ফকল্যান্ড যুদ্ধ ঘিরে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার সম্পর্ক ছিল ব্যাপক উত্তপ্ত। তার ওপরে ম্যারাডোনার বিতর্কিত গোল যেন ঠিক কাটা ঘায়ের ওপর নুনের ছিটে দিয়ে যায়। ম্যাচের ৫১ মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের মাথার ওপরে লাফিয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাতের ব্যবহারে গোল করে যান ম্যারাডোনা।