ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯

শিক্ষার্থীদের অর্থ সহায়তার খবর নাকচ ঢাবির

প্রকাশিত: ০০:১৮, ২৫ জুলাই ২০২০

শিক্ষার্থীদের অর্থ সহায়তার খবর নাকচ ঢাবির

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ অনলাইন ক্লাসের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের মোবাইল কিনতে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা নাকচ করেছে কর্তৃপক্ষ। যেসব শিক্ষার্থী আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না শুধু তাদের একটা ‘গ্রহণযোগ্য পন্থায়’ যতটুকু সহায়তা করা সম্ভব, তা করার চেষ্টা চলছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল জানিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন হয়। এরপর থেকেই অনলাইন ক্লাসের জন্য অর্থ সহায়তার ওই খবর ছড়ায়। ঢাবিতে ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে অনলাইনে ক্লাস। অনলাইন ক্লাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের ডিভাইস ও ইন্টারনেট সুবিধা দেয়ার দাবি উঠলেও এবারের বাজেটে তার প্রতিফলন ঘটেনি। তবে বাজেট বইয়ের মুখবন্ধে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দীন অনলাইনে ক্লাসে যোগ দেয়ার জন্য স্মার্টফোন কিনতে ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ার একটি প্রস্তাব করেছিলেন। সেখানে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হলো ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রম। এ কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে, কিন্তু ব্যাপক ব্যয় অব্যাহত রয়েছে। সুতরাং বাস্তব সরকারী তথা জনগণের অর্থের যথার্থ ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন মহল হতে অনলাইন ক্লাস শুরুর প্রস্তাব আসছে, তবে এক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের সাহায্যেও অর্থ বরাদ্দসহ কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। অনলাইন ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে যদি ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার টাকা করে স্মার্টফোন কেনার জন্য অনুদান দেয়া হয়, তবে ৪০ কোটি টাকার প্রয়োজন। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা ৫ম গ্রেড বা তদুর্ধ গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন তাদের মূল বেতন এক বৎসরের জন্য ৩ শতাংশ বা ৫ শতাংশ কমিয়ে দিলে প্রায় ১০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল হতে আরও ১০ কোটি টাকা অনুদান দেয়া সম্ভব। বাকি ২০ কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন তহবিল থেকে দেয়া যেতে পারে। অথবা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের নিকট হতে ৫০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দের আবেদন করা যেতে পারে। কোষাধ্যক্ষের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালও এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করে। এদিকে এ বছরের বাজেটই কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দীনের শেষ বাজেট ছিল। গত ৯ জুলাই তার মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন করে এখনও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়ায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ এবার সিনেটে বাজেট উত্থাপন করেছেন। শিক্ষার্থীদের সহায়তার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অধ্যাপক সামাদ বলেন, এ ধরনের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। এই প্রস্তাবটা কোষাধ্যক্ষ বাজেট বইয়ের ড্রাফটে লিখেছিলেন। এটা তিনি উদাহরণ হিসেবে লিখেছিলেন। এটা প্রস্তাব আকারে সিনেটে পেশ হয়নি। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর তো মোবাইল কেনার প্রয়োজন নেই। যাদের অনলাইন ক্লাস করার জন্য ডিভাইস নেই, তাদের জন্য ইউজিসি বা সরকার চাইলে একটা থোক বরাদ্দ দিতে পারে। অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, যেসব শিক্ষার্থী আর্থিক সমস্যার জন্য ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছে না, তাদের যুক্ত করতে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আগামী সপ্তাহে হয়তো একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে। তবে এটা কোন আর্থিক লেনদেনের বিষয় নয়। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে এবং শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য আমরা তাদের সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, অনলাইন ক্লাসের জন্য কমিটি আছে। সেই কমিটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চাহিদা নিরূপণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাপাসিটির আলোকে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজন হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা চাওয়া হবে।