সোমবার ৪ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

আগামী বছর বিজয়ের মাসেই মেট্রোরেল উদ্বোধন ॥ কাদের

  • বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন ও রেলট্র্যাক বসানোর কাজ শুরু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পের অধীনে মেট্রোরেলের ছয়টি লাইনের নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২০৩০ সাল নাগাদ রাজধানীর যানজটের চিরচেনা দৃশ্যপট বদলে যাবে। ধাপে ধাপে প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার। রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানের (এসটিপি) আওতায় মেট্রো রেল নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছিল। বিলম্বে হলেও এসব প্রকল্প এখন বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও আশাবাদী এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকার যোগাযোগের চিত্র একেবারেই পাল্টে যাবে। ঢাকা হবে যানজটমুক্ত অনিন্দ শহর।

নতুন বছরের প্রথম দিন বুধবার রাজধানীর দিয়াবাড়ীতে এমআরটি-৬ লাইনের বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন ও রেল-লাইন বসানোর কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই আশার কথা শোনান তিনি। অনুষ্ঠানে চলমান রাজনীতি, আসন্ন ঢাকা সিটি নির্বাচন, ভোট সংক্রান্ত বিএনপির নানা অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

কাদের বলেন, এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ এর ডিপিপি অনুমোদন হয়ে গেছে, ফলে কাজ শুরু করতে আর কোন বাধা নেই। মেট্রোরেলের এই দুই লাইনের মধ্যে একটিতে ১৬ কিলোমিটার, অন্যটিতে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশ পাতাল রেল হবে বলেও জানান সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।

সবমিলিয়ে ২০৩০ সালে ছয়টি মেট্রোরেলের পৌনে ২০০ কিলোমিটারের সব কাজ যখন শেষ হবে, এর ফলে ঢাকায় যানজটমুক্ত অনিন্দ্য সুন্দর এক দৃশ্যপট আমরা দেখতে পাব। ঢাকা শহরে আজকের যান চলাচলের চিত্রই পাল্টে যাবে।

কাদের বলেন, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা এমআরটির সবকটি লাইন যখন চালু হয়ে যাবে, যানজটের দৃশ্যপট বদলে যাবে। এমআরটি-৬ লাইনের বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন ও রেল-ট্র্যাক বসানোর কাজের উদ্বোধন করে মন্ত্রী জানান, আজকে আমি আনন্দের সঙ্গে বলছি, আমাদের এমআরটি লাইন ৬ মেট্রোরেল প্রকল্পের সাড়ে ৮ কিলোমিটার এখন দৃশ্যমান।

২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মেট্রোরেল প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ করে মেট্রোরেল চলাচল শুরুর জন্য কয়েক দফা সময় নির্ধারণ করা হয়। এখন ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মেট্রোরেল চালু করা যাবে বলে আশা করছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা আশা করছি ২০২১ সালে বিজয়ের মাসে ইনশাআল্লাহ এমআরটি লাইন ৬, তরুণ প্রজন্মের ড্রিম প্রজেক্ট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়োরিটি প্রজেক্ট, মেগা প্রকল্প, ফার্স্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট। মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে, বিজয়ের মাসে উদ্বোধন হবে, এটাই আমাদের নববর্ষের প্রত্যাশা।

ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, মেট্রোরেলের নমুনা এ মাসেই দেশে আসবে। মেট্রোরেল নিয়ে নগরবাসীকে ধারণা দিতে উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মেট্রোরেল ডিপোতে এ নমুনা ট্রেন স্থাপন করা হবে।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশে ইতোপূর্বে কোন মেট্রোরেল ছিল না। টিকেট কাটা, ট্রেনে চড়া, দাঁড়ানো, নামা, ট্রেনের ভেতরে এবং স্টেশনের নির্দেশিকাগুলো কেমন থাকবে- এসব বিষয়ে মানুষকে ধারণা দিতেই এমআরটি তথ্য ও প্রদর্শনীকেন্দ্রে এটা থাকবে।

মূল ট্রেনের প্রথম সেট আসবে এ বছরের ১৫ জুনে। উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল-৬ বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ২২ হাজার কোটি টাকা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মেট্রোরেল প্রকল্প এলাকায় যে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে, বাইরে থেকে দেখে তা বোঝার উপায় নেই। অথচ তিন বছর আগেও এখানে বিরানভূমি ছিল। এখন বিশাল কর্মযজ্ঞ। মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৪০ শতাংশ। ৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার মেট্রোরেল এখন দৃশ্যমান হয়েছে।

সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি জানিয়ে নবনির্বাচিত আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, সব মেগা প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন হবে। আগের চেয়ে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের গতি বেড়েছে। কর্ণফুলী ট্যানেলর কাজ ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মাসেতুর কাজ ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সুতরাং, মেট্রোরেলও আমরা নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করতে পারব।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড দেশের প্রথম এই মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার এই মেট্রোরেল মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হলে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সহজেই লোকজন যাতায়াত করতে পারবে। ফলে ঘণ্টায় দু’পাশে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে। আগে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রকল্প ঠিক করা হলেও সম্প্রতি তা কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

এ সময় সেতু সচিব নজরুল ইসলাম, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, এম এন সিদ্দিকসহ মন্ত্রণালয়ে উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনাস্থার পরেও বিএনপি নির্বাচনে কেন

নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থার কথা বলে আসলেও বিএনপি কেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তা জানতে চান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বুধবার দিয়াবাড়ীতে মেট্রোরেলের বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন ও রেল-ট্র্যাক বসানোর কাজের উদ্বোধন করতে এসে আসন্ন সিটি ভোট নিয়েও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। যদিও এটা রাজনৈতিক কোন কর্মসূচী ছিল না। আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হবে।

বিএনপি ইভিএম এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থার কথা বরাবর বলে আসলেও দুই সিটিতেই প্রার্থী দিয়েছে। উত্তরে তাবিথ আউয়াল আর দক্ষিণে ইশরাক হোসেন বিএনপির হয়ে মেয়র পদে মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর তাবিথ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ করেন সংশয়, আর ইশরাক এই নির্বাচনকে দেখছেন ইসির আস্থা অর্জনের সুযোগ হিসেবে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপির অনাস্থা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাহলে নির্বাচনে অংশ নিল কেন, জানতে চাই। নির্বাচন কমিশনে তাদের লোক অবিরাম তাদের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছে। আর কেউ তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে না। নিরপেক্ষ কথা বলছে, একজন তাদের পক্ষ নিচ্ছে, অসুবিধা কি?’

ইভিএম নিয়ে বিএনপির দুশ্চিন্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আধুনিকতা থেকেও তারা পিছিয়ে। আজকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সারাপৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতি যারা পছন্দ করে না তারা কতটা আউটডেটেড, মন-মানসিকতায় কতটা পেছিয়ে আছে, এটাই ভাবতে হবে। তাই তারা ক্ষমতায় এলে দেশ কোন দিনও এগিয়ে যাবে না।

ইভিএম নিয়ে ভারতে বহু আলোচনা হয়েছে, বিতর্ক হয়েছে একথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেখানে একটি রাজনৈতিক দলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে, প্রযুক্তি নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু বিতর্কের পর এ সিদ্ধান্তে তারা উপনীত হয়েছে যে, এটা সর্বশেষ প্রযুক্তি। যদি (ইভিএমে) কোথাও নির্বাচন হয় সেটা ত্রুটিমুক্ত হবে। এটা সহজে ভোটগ্রহণ এবং গণনার কাজ সম্পন্ন করার সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতি। এটা গ্রহণযোগ্য সিস্টেম, এটা নিয়ে বিতর্কের কোন অবকাশ নেই।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আওয়াল শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তার প্রশংসাও করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এটা তো ভাল কথা। তারা কি নির্বাচন বয়কট করার পুরনো সংস্কৃতি আঁকড়ে থাকতে চান? তারা সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসছেন শুনে ভাল লাগল। নির্বাচন যখন করছেন, রেজাল্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর জানি রেজাল্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা বলবে কারচুপি, জালিয়াতি হয়েছে, ভোট ডাকাতি হয়েছে, কেন্দ্র দখল হয়েছে অনেক অভিযোগই তারা দেবে। তারপরও যে অঙ্গীকার সে করছে এটা যেন শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়।

শীর্ষ সংবাদ: